চাঁদ পর্যবেক্ষণ পরিষদ বাংলাদেশ
এর তথ্যমতে এখন, মুতাবিক, , রোজ , সময় মিনিট

ঈদের চাঁদ প্রমাণিত হওয়ার শরয়ী নীতিমালা

শরীয়তের বিধান মতে চাঁদের উদয়স্থল মেঘলা থাকলে রমাযানের এবং অন্যান্য মাসের জন্য মাত্র একজন, আর ঈদুল ফিতরের জন্য মাত্র দুইজন বালিগ মুসলমানের স্বচক্ষে চাঁদ দেখার বিশ্বাসযোগ্য স্বাক্ষ্যই যথেষ্ট। আর চাঁদের উদয়স্থল সম্পূর্ন পরিষ্কার থাকলে সব মাসে জাম্মেগাফীর তথা এমন সংখ্যক লোকের চাঁদ দেখা জরুরী যাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত-দাতা আশ্বস্ত হতে পারেন যে, এতোগুলো লোক মিথ্যার উপর একমত হতে পারে না। নির্ভরযোগ্য মতানুযায়ী এদের সংখ্যা নির্দিষ্ট না হলেও এ পরিমাণ লোক হতে হবে যেনো, সিদ্ধান্ত-দাতা সম্পূর্ণ আস্থাশীল হতে পারেন। (দূররে মুখতার: ২/৩৮৬-৩৮৭)

কতিপয় সংশয় নিরসন

ক. কেউ কেউ মনে করেন, ‘চাঁদের ফয়সালা দিতে হলে কাজী হওয়া জরুরী। বর্তমান সরকারী হেলাল কমিটি হলো কাজীর হুকুমে। কাজেই অন্য কেউ এ ঘোষণা দেয়ার অধিকার রাখেন না।’ তাদের এ দাবী ভিত্তিহীন। এ ব্যাপারে শরঈ ফাতাওয়া হলো, ‘ইসলামী হুকুমাতের অবর্তমানে ঈদ, জুমু’আ এজাতীয় মাসাইলের ক্ষেত্রে দেশের প্রখ্যাত ও বিশ্বস্ত সর্বজন-শ্রদ্ধেয় আলেম-উলামাদের পঞ্চায়েতই কাজীর স্থলাভিষিক্তি সাব্যস্ত হবেন।’ সুতরাং তারা শরঈ নীতিমালার ভিত্তিতে রমাযান ও ঈদের ফয়সালা দিতে পারবেন, যা ঐ দেশের সকলের জন্য (যদি তাদের নিকট সে সংবাদ পৌছে যায়) মান্য করা জরুরী। (আহসানুল ফাতাওয়া ৪র্থ খণ্ড ৪৫৬পৃ., রুইয়াতে হেলাল পৃ. ৬০/৬১, ইসলাম আওর জাদীদ দাওর কে মাসাইল ১২৬/১২৭ পৃ.)

খ. আবার কেউ কেউ প্রশ্ন করেন, ‘সরকারী চাঁদ দেখা কমিটিতেও তো আলেম আছেন। অপরদিকে, বেসরকারী উলামা-মাশাইখগণ তাদের বিপরীত সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন। এমতাবস্থায় আমরা কোন আলেমদের সিদ্ধান্তের উপর আমল করবো?’ এর উত্তর হলো-যারা সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দিবেন তাদেরটা মান্য করা জরুরী। আর যারা বলবে, আমাদের নিকট কোনো প্রমাণ আসেনি, বা প্রমাণ পাইনি তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয়। (বুখারী: ১/৩৬০, বাবু ইযা শাহিদা শাহিদুন, কাওয়ায়েদ ফী উলুমিল হাদীস, পৃষ্ঠা ২৯০)

যেমন, মক্কা বিজয়ের সময় হযরত মহানবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবা শরীফের মধ্যে নামায পড়েছিলেন কিনা এ বিষয়ে সাহাবাদের (রাযি.) থেকে দু’ধরনের বর্ণনা আছে। পড়ার এবং না পড়ার। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামায পড়ার পক্ষে যারা প্রমাণ দিয়েছেন সমস্ত উলামাগণ তাদের কথা গ্রহণ করেছেন। আর যারা নামায পড়েননি বলেছেন তাদের কথা কেউ গ্রহণ করেননি। বরং তাদের বক্তব্যের ব্যাপারে উলামাগণ ব্যাখ্যা দিয়েছেন যে, তারা যেহেতু ঐ সময় উপস্থিত ছিলেন না এবং তারা নামায পড়তে দেখেননি, তাই তারা নিজেদের ‘ইলম অনুযায়ী বলেছেন, যা দলীল প্রমাণের বিপরীত হওয়ায় গ্রহণযোগ্য নয়। (ফাতহুল বারী: ৫৯৭-৮ পৃষ্ঠা, ৩য় খণ্ড, হা. নং ১৬০১, উমদাতুল কারী: ৩৭০ পৃষ্ঠা, ৩য় খণ্ড, হা. নং ৩৯৭)

গ. অনেকে বলেন, ‘জাম্মেগাফীর হতে হলে ৫০ জন লোক হতে হবে এবং তাদের সকলের একই এলাকা হতে হবে’। এর উত্তর হলো, নির্ভরযোগ্য মতানুযায়ী কোনো সংখ্যা নির্ধারিত নেই এবং এক এলাকা থেকে হতে হবে এরও কোনো দলীল নেই। বরং জাম্মেগাফীর-এর মূল কথা হলো, বিভিন্ন এলাকা হতে এ পরিমাণ লোক বর্ণনা দিতে হবে যে, চাঁদ দেখার ব্যাপারে সিদ্ধান্তদাতা পরিপূর্ণ আশ্বস্ত হয়ে যায়।

হযরত মুফতি শফী (রহ.) সংকলিত রুইয়াতে হেলাল, ৬৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ্য, এ ব্যাপারে ইমাম আবূ হানীফা (রহ.) থেকে আরেকটি বর্ণনা আছে যে, বর্তমান যমানায় জাম্মেগাফীর থেকে দুজন বিশ্বস্ত সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করে সিদ্ধান্ত দেয়া বেশী যুক্তিযুক্ত এবং এর দ্বারাও উদয়স্থল পরিস্কার থাকার ক্ষেত্রে রোযা ও ঈদ প্রমাণিত হবে। এর কারণ বলা হয়েছে যে, চাঁদ তালাশ করার ব্যাপারে মানুষের মধ্যে চরম অনীহা রয়েছে। উপরন্ত কেউ চাঁদ দেখার খবর দিলে তার উপর নানা রকম হয়রানী ও অত্যাচার করা হয়। এ কারণে যারা চাঁদ দেখে তারাও বলতে সাহস করে না। এমতাবস্থায় জাম্মেগাফীর তথা অনেক লোকের দেখার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে গেলে, অনেক লোক জোগাড় করতে করতে রোযা বা ঈদ দু’তিন দিন পরে করতে হবে, যা শরী’আতে কোনো অবস্থায়ই কাম্য নয়। (দেখুন! ফাতাওয়ায়ে শামী: ২য় খণ্ড, ৩৮৮ পৃষ্ঠা)

Loading