Rahmania Madrasah Sirajganj

আসরেরর নামাজ থেকে ঘুমানো পর্যন্ত মামুলাতে রহমানিয়া মাদরাসা

আসরের নামাজ পর্যন্ত যথারীতি লেখাপড়া চলতে থাকে, নামাজ শুরু হওয়ার আধা ঘন্টা পূর্বে মুআজ্জিন সাহেব আযান দিলে অবশ্যই নামাজের ২০ মিনিট পূর্বে সকল প্রয়োজন শেষ করে সকলেরই মসজিদে আসরের নামাযের উদ্দেশ্যে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। মসজিদে উপস্থিত হয়ে প্রথমে আসরের ৪ রাকাত সুন্নত/নফল নামাজ এবং বাকি সময় পবিত্র কালামে পাকের তিলাওয়াত এবং ইকামতের ৫ মিনিট পূর্বে ইনফেরাদী ভাবে খাস দুআর ইহতেমাম করা হয়। এরপর ইকামত হয়, সঠিক সময়ে আসরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়, ইমাম সাহেব আওসাতে মুফাসসাল এর ক্বিরাআতের মাধ্যমে আসরের নামাজ আদায় করান, নামাজের পর তাসবীহে ফাতেমী পড়ে একজন ছাত্র পবিত্র কুরআনে কারীম তিলাওয়াতের আদব ও উপকারিতা শুনিয়ে পবিত্র কুরআনুল কারীম থেকে তিলাওয়াত করেন, এরপর বিশেষ তিনটি সুন্নত, মসজিদে প্রবেশ ও বের হওয়ার সুন্নত সমূহ, সুবহে সাদিকের সময় এবং মাগরিবের পূর্বে সঠিক সময়ে উপস্থিত হওয়ার নির্ধারিত সময় শোনানো হয় হয়, আসরের পরের এ মামুলাতেও মাদ্রাসার সকল ত্বলাবা-আসাতিযাদের অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক, কোন কারণ ছাড়াই কোন উস্তাদ বা ছাত্র উপরক্ত যেকোন আমলে অংশগ্রহণ না করলে শাস্তিস্বরূপ কখনো কখনো বহিষ্কারের সিদ্ধান্তও গ্রহণ করা হয়। তিলাওয়াত শেষে মাদ্রাসার সার্বিক বিষয়কে সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ দুআ অনুষ্ঠিত হয়, দুআ শেষে প্রাতিষ্ঠানিক কোন বিষয়ে ঘোষণা না হলে সকলেই নিজ নিজ কামরায় চলে যান। মাগরিবের নামাজের ১৫ মিনিট পূর্বে সকল ছাত্র-উস্তাদের মাদ্রাসার মসজিদে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক, নামাজের আগে এ ১৫ মিনিটের প্রথম ১৩ মিনিট আকাবিরদের মালফুজাত থেকে পড়া হয়, প্রতিদিন একজন উস্তাদ এ বিষয়ে জিম্মাদারী পালন করেন, সঠিক সময়ে আজান হয় এরপর ইকামত হয়, আযানের পর দ্রুত মাগরিবের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়, ইমাম সাহেব কিসারে মুফাসসাল এর ক্বিরাআতের মাধ্যমে মাগরিবের নামাজ আদায় করান, নামাজের পর আওয়াবীনের নামাজ ও সূরা ওয়াকিয়ার তিলাওয়াত শেষ করে সকল ত্বলাবা-আসাতিযাগন নিজ নিজ দরসগাহে চলে যান এবং তারার ও মুতালাআয় ব্যস্ত হয়ে পরেন, এভাবে ইশার নামাজ পর্যন্ত চলতে থাকে। ইশার নামাজ শুরু হওয়ার আধা ঘন্টা পূর্বে মুআজ্জিন সাহেব আযান দিলে অবশ্যই নামাজের ২০ মিনিট পূর্বে সকল প্রয়োজন শেষ করে সকলেরই মসজিদে ইশার নামাযের উদ্দেশ্যে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। মসজিদে উপস্থিত হয়ে প্রথমে আসরের ৪ রাকাত সুন্নত/নফল নামাজ এবং বাকি সময় পবিত্র কালামে পাকের তিলাওয়াত এবং ইকামতের ৫ মিনিট পূর্বে ইনফেরাদী ভাবে খাস দুআর ইহতেমাম করা হয়। এরপর ইকামত হয়, সঠিক সময়ে ইশার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়, ইমাম সাহেব আওসাতে মুফাসসাল এর ক্বিরাআতের মাধ্যমে ইশার নামাজ আদায় করান, নামাজের পর সুন্নত নামাজ আদায় করার পর বিতরের নামাজের পূর্বে ২/৪ রাকাআত নফল নামাজ তাহাজ্জুদের নিয়তে আদায় করা সকলের জন্য বাধ্যতামূলক, নফল ও বিতরের নামায আদায় শেষে প্রতিদিন নির্ধারিত একজন ত্বালিবে ইলম আরবি ইবারতসহ একটি পূর্ণাঙ্গ হাদিস শরীফ সকলের উদ্দেশ্যে পাঠ করে শোনান, সাধারণত পরিস্থিতির বিবেচনায় এ সংশ্লিষ্ট হাদিস পড়ে শোনানো হয়, এরপর حسبنا الله و نعم الطويل এর গুরুত্বপূর্ণ আমল অনুষ্ঠিত হয়। তারপর মাদ্রাসার সমস্ত হাজতকে সামনে রেখে সম্মিলিত দুআ পরিবেশন হয়, দুআ শেষে সকল ত্বলাবা-আসাতিযাগন নিজ নিজ কামরায় চলে যান। সকলেই মাতবাখ থেকে দুপুরের খানা গ্রহণ করে খানা খেয়ে লেখাপড়ার প্রয়োজন হলে নিজ নিজ দেশে চলে যান, বা দ্রুত ঘুমানোর আমল শুরু হয়ে যায়। লেখাপড়া, বৈধ কোন মামুলাত বা ঘুম ব্যতিরেকে এ সময় অন্যান্য সকল কাজ নিষিদ্ধ। এভাবে সুবহে সাদিকের ৪৫ মিনিট পূর্ব পর্যন্ত ঘুমানোর আমল চলতে থাকে।