আরবী তারিখঃ এখন ৫ শাওয়াল ১৪৪৫ হিজরি মুতাবিক ১৪ এপ্রিল ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, রোজ রবিবার, সময় সন্ধ্যা ৭:৩৪ মিনিট
এলানঃ-
১৪৪৫-১৪৪৬ হিজরী, ২০২৪-২০২৫ ইং এর মাসিক সুন্নতী ইজতেমা সমূহ
* ২৫ এপ্রিল ২৪ ইং বৃহস্পতিবার মাগরিব-ইশা মাদরাসার সকলের জন্য
* ৩০-৩১ মে ২৪ ইং বৃহস্পতিবার ফজর-শুক্রবার মাগরিব পর্যন্ত সালেকীনদের জন্য
* ২৭ জুন ২৪ ইং বৃহস্পতিবার মাগরিব-ইশা মাদরাসার সকলের জন্য
* ২৫-২৬ জুলাই ২৪ ইং বৃহস্পতিবার ফজর-শুক্রবার মাগরিব পর্যন্ত সালেকীনদের জন্য
* ২৯ আগষ্ট ২৪ ইং বৃহস্পতিবার মাগরিব-ইশা মাদরাসার সকলের জন্য
* ২৬-২৭ সেপ্টেম্বর ২৪ ইং বৃহস্পতিবার ফজর-শুক্রবার মাগরিব পর্যন্ত সালেকীনদের জন্য
* ২৪ অক্টোবর ২৪ ইং বৃহস্পতিবার মাগরিব-ইশা মাদরাসার সকলের জন্য
* ২৮-২৯ নভেম্বর ২৪ ইং বৃহস্পতিবার ফজর-শুক্রবার মাগরিব পর্যন্ত সালেকীনদের জন্য
* ২৬ ডিসেম্বর ২৪ ইং বৃহস্পতিবার মাগরিব-ইশা মাদরাসার সকলের জন্য
* ৩০-৩১ জানুয়ারী ২৫ ইং বৃহস্পতিবার ফজর-শুক্রবার মাগরিব পর্যন্ত সালেকীনদের জন্য
* ২৭ ফেব্রুয়ারী ২৫ ইং বৃহস্পতিবার মাগরিব-ইশা মাদরাসার সকলের জন্য
* মার্চ ২৫ ইং এজতেমা সালেকীনদের জন্য

১০০ নম্বরে সুন্নত ও ১০০ নম্বরে কুরআনে কারীমের শুদ্ধতার ইমতেহান বাধ্যতামূলক

হযরত দা. বা. বলেনঃ ২০১৬-২০১৭ সালের কথা, আমি তখন এক মাদরাসার উস্তাদ ছিলাম, যেহেতু নাযিমে তালিমাতের দায়িত্ব ছিল তাই ছাত্রদেরকে তালীমের পাশাপাশি আমলী মেজাযে অভ্যাস্ত করে তোলা অত্যন্ত জরুরি মনে করলাম। হযরত মুহতামিম সাহেবকে জানালাম, কিন্তু তিনি আমাকে উত্তর দিলেনঃ ‘আপনি ছাত্রদের সুন্নতের কথা বলেন, আমলের কথা বলেন, আমলদার বানানোর জন্য আরো কত কিছু করতে চান, এগুলো ওরা বড় হয়ে করবে, এখন এগুলো ওদের দ্বারা সম্ভব না।’ এটা বলে আমাকে ফেরত দিলেন।

আমি আমার শাইখ ও মুরশিদ হযরতওয়ালা মুরশিদুস সুন্নাহ দা. বা. এর সাথে এ বিষয়টি আলোচনা করলাম, হযরত আমাকে বললেনঃ “তোমাদের মুহতামিম সাহেব জাহেল ছাড়া আর কিছু না, এজন্য তোমাকে বারণ করেছে। মাদরাসার ছাত্ররা যদি ছোট থেকে আমলদার হয়ে যায় তাহলে এটাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ। এটাই নেযাম, আমরা হারদুইতে এর আজীব নযীর দেখেছী, সেখানকার ছোট ছোট বাচ্চারা যে পরিমাণ মুত্তাবেয়ে সুন্নত তা ভাবাও যায় না।” এজন্য আমরা রহমানিয়া ইমাদাদুল উলুম মাদরাসা সিরাজগঞ্জ এর শুরু থেকেই সকল বিভাগের ছাত্রদের সুন্নতের উপর ১০০ নাম্বারে পরীক্ষা নিয়ে থাকি। বসুন্ধরায় ত্বলেবী ইলমির জামানায় আমরা এই পরীক্ষা দিতাম, সাথে ১০০ নাম্বারে কুরআনে কারীমের শুদ্ধতার পরীক্ষা দিতাম, আমাদের এখানেও আমরা কিতাব বিভাগের ছাত্রদের জন্য ১০০ নাম্বারের কুরআনে কারীমের শুদ্ধতার পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করেছি। ১০০ নাম্বারে সুন্নতের পরীক্ষাও বাধ্যতামূলক। বার্ষিক পরীক্ষায় কোন ছাত্র সকল কিতাবে ভালো নাম্বার উঠালো, কিন্তু সুন্নতের পরীক্ষায় ১০০ ও কুরআনে কারীমের পরীক্ষায় ১০০ নাম্বারের কম পেল, তো তার পরবর্তী বছরে আমাদের এখানে ভর্তির ব্যাপারে বিবেচনা করা হয়। একটাই উদ্দেশ্য প্রত্যেক ছাত্রকে ইলম অর্জনের পাশাপাশি আমলদার হওয়া অত্যন্ত জরুরী। তালীমে ১০০ নাম্বার পাওয়ার সাথে সাথে তরবিয়তেও ১০০ নাম্বার পেতে হবে। উভয়টার সমান গুরুত্ব।

ইমতেহানে কুরআনে কারীম ও সুন্নতের উপর মোট ২০০ নাম্বারে পরীক্ষার নেসাব

পবিত্র কুরআনে কারীমের পরীক্ষার নেসাবঃ
হযরত দা. বা. বলেনঃ পুরো কুরআন শরীফ শুদ্ধ হয়ে গেলেই যথেষ্ট মনে করা হয়।

মাদারিস থেকে সংকট ও অভাব দূর হওয়ার জামানত

হযরত দা. বা. বলেনঃ শাইখুনা হযরতওয়ালা মুরশিদুস সুন্নাহ দা. বা. হযরতওয়ালা শাহে হারদুয়ী রহ. এই সূত্রে বলেন, হাকিমুল উম্মত মুজাদ্দিদুল মিল্লাত হযরত মওলানা শাহ আশরাফ আলী থানবী রহ. বলেছেনঃ মাদারিসের ভিতরে তিনটি কাজ করলে সংকট ও অভাব দূর হয়ে যাবে আমি জামানত দিচ্ছি।
১. তাসহীহে কুরআনে কারীম, ২. তাযিমে কুরানে কারীম, ৩. তাযিমে হামেলে কুরআনে কারীম।
আলহামদুলিল্লাহ উপরক্ত তিনটি কাজ বাস্তবায়নে বহুমুখী কার্যক্রমের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে রহমানিয়া ইমদাদুল উলুম মাদরাসা সিরাজগঞ্জ। মাদরাসার ভেতরেও যেরকম এর গুরুত্ব অনেক বেশি, পাশাপাশি আমাদের সাথে যারা যে কোনভাবে সম্পর্ক রাখে তাদেরকেও উক্ত ব্যাপারে গুরুত্ব দেয়া হয় আলহামদুলিল্লাহ।

সুন্নতের উপর সেহ মাহী (প্রথম সাময়ীক) ইমতেহান এর নেসাবঃ
বিশেষ তিনটি সুন্নত, ইস্তেঞ্জার সুন্নত, মিসওয়াকের সুন্নত, উযুর সুন্নত, তায়াম্মুম এর সুন্নত, গোসলের সুন্নত ও মসজিদে প্রবেশ ও বাহির হওয়ার সুন্নত সমূহের মশকে আমলীর ইমতেহান হয়।

সুন্নতের উপর শশমাহী (২য় সাময়ীক) ইমতেহান এর নেসাবঃ
আযানের সুন্নত, ইকামতের সুন্নত ও নামাজের ৫১ সুন্নত সমূহের মশকে আমলীর ইমতেহান হয়।

সুন্নতের উপর সালানা (বার্ষিক) ইমতেহান এর নেসাবঃ
খানার সুন্নত, পান করার সুন্নত ও ঘুমানোর সুন্নত সমূহের মশকে আমলীর ইমতেহান হয়।

হযরত দা. বা. বলেনঃ একটি ছাত্র দৈনিক কয়টি সুন্নত আয়ত্বে আনতে পারবে, তালীমের পাশাপাশি দৈনিক কয়টি সুন্নত আমলে আনলে তালীমের কোন ক্ষতি হবে না, তার উপর কোন চাপ সৃষ্টি হবে না, এগুলো বিবেচনা করেই নেসাব বানানো হয়েছে। এ নেসাব মূলত আমরা মারকাযুল ফিকরিল ইসলামী বাংলাদেশ বসুন্ধরা ঢাকায় ত্বলিবে ইলম থাকা অবস্থায় যে সুন্নতগুলোর পরিক্ষা হতো তার সাথে মিল রেখে কিছু সংযোযন করে তৈরি করা হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ আমাদের বিভিন্ন মাদরাসার ছাত্রদের উক্ত নেসাব অনুযায়ী পরিক্ষা নেয়া হচ্ছে। ১০০ নাম্বারে সুন্নতের পরিক্ষায় লাভ হচ্ছে এটা যে, সুন্নত মুখস্ত করার পাশাপাশি ছাত্র-উস্তাদগন সুন্নতগুলোর উপর আমল করতে পারছেন। মশকে আমলীর সময় বাহিরের মুসল্লীগনও অংশ নিচ্ছেন, তাদেরও ফায়দা হচ্ছে আলহামদুলিল্লাহ। সকল বিভাগের মশকে আমলী একই সময় হচ্ছে, তাই কারো উপর কোন চাপ প্রয়োগ করতে হচ্ছে না। যারা মারকাযী ইমতেহান দিচ্ছেন তাদের জন্যও একই কথা, নাতাইযের সাথে অবশ্যই সুন্নত ও মশকে কালামে পাকের ১০০+১০০=২০০ নাম্বার যুক্ত হবে। আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি, অনেক ভালো ও উন্নত মসজিদের ইমাম-মুআজ্জিন সাহেবের তিলাওয়াত-নামাজ খিলাফে সুন্নত। তাহলে এত লেখা-পড়া করে লাভ কি? যদি তিলাওয়াত-নামাজটাও ভুল হয়। এজন্য তালীমের সাথে সাথে তরবিয়তেরও সমান গুরুত্ব দেয়া হয় এখানে। আপনারা যারা ছাত্র-উস্তাদ আছেন, এখানে থাকতে হলে এগুলো খেয়াল রাখতে হবে। আমরা এখান থেকে কাউকে বহিস্কার করি না, কেউ নিয়ম নীতি মানতে না পারলে এমনেই চলে যায়। রহমানিয়া মাদরাসা সম্পূর্ন নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। এখানকার প্রতিজন ছাত্র-উস্তাদকে এগুলো খেয়াল রাখতে হবে। আমরা এখানে কাউকে ডেকে আনিনি, আল্লাহ তাআলা যাদের কবুল করবেন তারা থাকবেন।

মাদরাসার ছাত্র-উস্তাদদের মাধ্যমে সুন্নতের প্রচার-প্রসারে তাবলীগের নেযাম

হযরত দা. বা. বলেনঃ মুহিউস সুন্নাহ হযরতওয়ালা শাহ আবরারুল হক হারদুয়ী রহ. বলেনঃ প্রতিটি মাদরাসা তিনটি কার্যক্রমের কেন্দ্র হতে হবে। ১. তালিম ২. তাজকিয়া ৩. তাবলীগ। তবে তালিম আর তাবলীগ আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে কবুল হওয়ার জন্য তাজকিয়া জরুরী, তাজকিয়ার মেহনত ছাড়া তালিম আর তাবলীগ আল্লাহ তাআলার কাছে কবুল হতে পারে না। তাই আমাদের মাদরাসার পক্ষ থেকে মাদরাসার ছাত্র এবং উস্তাদদের মাধ্যমে মাদরাসার এলাকা ও মাদরাসার পার্শ্ববর্তী এক মাইলের মধ্যে নিম্নোক্ত কার্যক্রমের নেজাম রয়েছে। হযরতওয়ালা মুরশিদুস সুন্নাহ দা. বা. আমাদেরকে নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করেছেন। আমাদের পরিচালনাধীন মাদরাসা সমূহেও এ নেযাম মানা হয় আলহামদুলিল্লাহ। অভিজ্ঞতার আলোকে দেখা গেছে যে, আমরা সকলেই যদি আপন আপন মাদরাসা-মসজিদ-প্রতিষ্ঠানে তাবলিগের এই নেযাম চালু করি তাহলে আস্তে আস্তে এহইয়ায়ে সুন্নতের কাজ আগাবে ও বদ-দ্বীনির যুলমত চলে যাবে ইনশাআল্লাহ।

১ মিনিটের দাওয়াতঃ
* প্রতি মাসের প্রতি সপ্তাহে যেকোনো একদিন মাত্র এক ঘন্টার জন্য মাদরাসার এলাকার মধ্যে সুন্নতের প্রচার-প্রসারে তাবলীগের মেহনত করা হয়। এটার জন্য মাদরাসার ছাত্র-উস্তাদের সমন্বয়ে একটি ছোট জামাআত এর মাধ্যমে মেহনত করা হয়, এ জামাআতে একজন মাসউল নির্ধারিত থাকেন, তিনি জামাআতকে পরিচালিত করেন, এর মধ্যে একজন রাহবার থাকেন, একজন দাওয়াত দেন, আর বাকিরা ইসমে জাতের জিকিরে থাকেন। জামাআত এলাকার বিভিন্ন জায়গায় যান, এতে প্রতি একজনের সাথে ১ মিনিটের অধিক সময় দেয়ার অনুমতি নেই। এই ১ মিনিটের মধ্যে একটি সুন্নতের অতিমুখতাসার আলোচনা ও মশকে আমলী হওয়া বাধ্যতামূলক। জামাআতের সকলের জন্য কুদৃষ্টি থেকে বাঁচার নির্দেশনা রয়েছে এদের পুরস্কৃত করা হয়, কারো দ্বারা কুদৃষ্টি হয়ে গেলে হযরত দা. বা. এর পক্ষ থেকে রুহানী এলাজ প্রদান করা হয়ে থাকে।

৫ মিনিটের দাওয়াতঃ
* প্রতি মাসের প্রতি সপ্তাহে যেকোনো একদিন মাত্র এক ঘন্টার জন্য মাদরাসার এলাকার মধ্যে সুন্নতের প্রচার-প্রসারে তাবলীগের মেহনত করা হয়। এটার জন্য মাদরাসার ছাত্র-উস্তাদের সমন্বয়ে একটি ছোট জামাআত এর মাধ্যমে মেহনত করা হয়, এ জামাআতে একজন মাসউল নির্ধারিত থাকেন, তিনি জামাআতকে পরিচালিত করেন, এর মধ্যে একজন রাহবার থাকেন, একজন দাওয়াত দেন, আর বাকিরা ইসমে জাতের জিকিরে থাকেন। জামাআত এলাকার বিভিন্ন ঘর-বাড়িতে যান, এতে পাঁচ মিনিটের অধিক সময় দেয়ার অনুমতি নেই। এই পাঁচ মিনিটের মধ্যে দ্বীনি দাওয়াত ও কমপক্ষে একটি সুন্নতের আলোচনা ও মশকে আমলী হওয়া বাধ্যতামূলক। জামাআতের সকলের জন্য কুদৃষ্টি থেকে বাঁচার নির্দেশনা রয়েছে এদের পুরস্কৃত করা হয়, কারো দ্বারা কুদৃষ্টি হয়ে গেলে হযরত দা. বা. এর পক্ষ থেকে রুহানী এলাজ প্রদান করা হয়ে থাকে।
* মাদরাসার এলাকার বাহিরে এক মাইলের মধ্যে মার্কেট, অফিস, আদালত, দোকান, বাজার, পর্যটন কেন্দ্র, জেলখানা ও ব্যস্ততম স্থানগুলোর ভেতরে একই নিয়মে পাঁচ মিনিটের সুন্নতের প্রচার-প্রসারে তাবলীগী কার্যক্রম আঞ্জাম দেয়া হয়, এক মাইলের ভেতরে ছাত্র-উস্তাদদের সমন্বয়ে একটি জামাআত প্রতি সপ্তাহের যেকোনো একদিন দুই ঘন্টার জন্য মেহনত করে থাকেন। এদেরকেও পুরস্কৃত করা হয়। পাঁচ মিনিটের জন্য বিভিন্ন মসজিদে মসজিদে সুন্নতের মশকে আমলী করানোর নেজামও রয়েছে।
* মাদরাসার আসাতেযায়ে কেরাম পালি পালি করে সপ্তাহিক একটি করে মসজিদে গিয়ে সুন্নতের আলোচনা ও মশকে আমলী করিয়ে থাকনে।

আম ভাবে সুন্নতের প্রচার-প্রসারে তাবলীগী নেযামঃ
* মাদরাসার এলাকার এক মাইলের বাহিরে মাদরাসার উস্তাদগণ সুন্নতের প্রচার-প্রসারে হযরত দা. বা. এর বাতানো নেজাম অনুযায়ী যেমনঃ মসজিদে মসজিদে গিয়ে বা বিভিন্ন মাদরাসায় আলোচনা সাপেক্ষে তাসহিহে কালামে পাক ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সুন্নতের মশকে আমলীর কার্যক্রম আঞ্জাম দিয়ে থাকেন। অবশ্য এগুলোর জন্য মাসিক মজলিসে আইম্মাহ করারও নেজাম রয়েছে, মসজিদ ও মাদরাসা ভিত্তিক সুন্নতের কার্যক্রম বাস্তবায়নে মাদরাসার এলাকার এক মাইলের বাহিরে নয় বরং তাকাযা অনুযায়ী মাদরাসার এলাকাসহ দূরদূরান্তে এমনকি জেলার বাহিরেও মেহনত করা হয়। এর জন্য মাদরাসার পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট উস্তাদ নিয়োগ দেয়া রয়েছে, তারা তাবলীগের নিয়তে এ কার্যক্রম সমূহ আঞ্জাম দিয়ে থাকেন।
* বিভিন্ন এলাকাতে সরাসরি হযরত দা. বা. এর নির্দেশনা অনুযায়ী উলামায়ে কিরামের ছোট-বড় জামাআত বানানো রয়েছে, যারা এক মিনিটের দাওয়াত, পাঁচ মিনিটের দাওয়াত এবং মাসিক একটি মসজিদ বা মাদরাসায় সুন্নতের প্রচার-প্রসারে কাজ করে থাকেন আলহামদুলিল্লাহ। দায়িত্বশীলদের শেখানোর জন্য আলাদা ভাবে মশকে আমলী করানো হয়। এর জন্য মামুলাতের নকশার আলাদা পারচা বানানো আছে, যা তারা মাসের শেষে জিম্মাদারদের দেখান ও সংশোধনী গ্রহন করেন।
* মাদরাসার আসাতেযায়ে কেরাম পালি পালি করে স্থানীয় তাবলীগী মারকাজে দাওয়াত ও তাবলীগের কার্যক্রমের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকেন, যা আওয়াদের জন্য খুবই ফলপ্রসু হয়ে থাকে আলহামদুলিল্লাহ।
* আলহামদুলিল্লাহ, এইকাজগুলোর সাথে যারা সম্পৃক্ত তাদের সময়ে সময়ে বিভিন্ন পুরস্কার ও ভাতার ব্যবস্থা রয়েছে, কাজের নেগরানীর জন্য যিম্মাদার নির্ধারন করা আছে।

হযরাত উলামায়ে কিরামের প্রতি আরজ

হযরত দা. বা. বলেনঃ আলহামদুলিল্লাহ, আমি আপনি হয়তো কোন মাদরাসার সাথে বা মসজিদের সাথে লেগে আছি, আথবা যা কিছু করি না কেন? উপরক্ত নিয়মে নিজ ছাত্র-উস্তাদ বা মুসল্লীদের মাঝে এহইয়ায়ে সুন্নতের মেহনত করা কি কঠিন কিছু? আমাদের মনে রাখতে হবে আমরা আলেম হিসেবে এগুলো আমাদের জিম্মাদারী, আমরা নায়েবে রসুল। যদি জিম্মাদারী সঠিক ভাবে পালন না করি তাহলে আল্লাহ তাআলার কাছে কি হিসাব দিবো? অভিজ্ঞতার আলোকে দেখা গেছে এহইয়ায়ে সুন্নতের মেহনতের মাধ্যমে দুনিয়া ও আখিরাতের সমস্ত সমস্যার সমাধান হয়। যার বাস্তব নমুনা আমাদের আকাবির ও আসলাফগন দেখিয়ে গেছেন। তাই আমাদের এখন থেকেই এই মেহনত শুরু করা দরকার।

দৈনন্দিন জীবনে পালনীয় রসুলুল্লাহ সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর গুরুত্ত্বপূর্ণ সুন্নত সমুহ

সেহ মাহী ইমতেহান এর নেসাবঃ বিশেষ তিনটি সুন্নত, ইস্তেঞ্জার সুন্নত, মিসওয়াকের সুন্নত, উযুর সুন্নত, তায়াম্মুমের সুন্নত, গোসলের সুন্নত ও মসজিদে প্রবেশ-বাহির হওয়ার সুন্নত সমূহের মশকে আমলীর ইমতেহান হবে।

নেযামে মশকে আমলীঃ শাওয়াল থেকে সেহ মাহী ইমতেহান এর খিয়ার পর্যন্ত একটি নির্দিষ্ট সময়ে মাদরাসার সকল ছাত্রদেরকে একত্রে বসিয়ে ধারাবাহিক ভাবে দৈনিক ১/২টি করে সুন্নতের মুজাকারা-মশকে আমলী করানো, যেনো প্রতিদিনি ১/২টি করে সুন্নত ছাত্রদের আমলে এসে যায় এজন্য প্রতি ২৪ ঘন্টায় বিভিন্ন সময়ে উস্তাদদের মাধ্যমে নেগরানীর ব্যবস্থা করা, রোক-টোক করা। বিশেষ তিনটি সুন্নত, আযান-ইকামত, উযু-নামায এর মশকে আমলী প্রথম দিন থেকেই শুরু হতে হবে, তবে ধারাবাহিক ভাবে মুখস্ত করা ও ইমতেহান পরে হবে। নেসাব অনুযায়ী সকল সুন্নত আমলে চলে আসতে হবে, সেহ মাহী ইমতেহানে এসকল সুন্নতের ইয়াদ ও মশকে আমলীর পরিক্ষা হবে। সুন্নতের পরিক্ষায় ফেল করলে পরিক্ষায় ফেল বলে বিবেচিত হবে।

বিশেষ ৩টি সুন্নত

হযরাত উলামায়ে কিরামগন নিজ নিজ অভিজ্ঞতার আলোকে এই কথা বলেন যে, বিশেষ ৩টি সুন্নত রয়েছে, যেগুলোর উপর যথাযথ ভাবে আমল করিয়া চলিতে পারিলে অন্যন্য সকল সুন্নতের উপর আমাল করা অতি সহজ হয়ে যায়।
সুন্নত ৩টি হলোঃ
১. সহিহ-শুদ্ধ ভাবে বেশি বেশি সালামের প্রচার-প্রসার করা, বিশেষভাবে হামজার যবরকে তাহকিকের সাথে পড়া ও মিমের পেশকে পরিস্কার করে মারুফ করে পড়া। দেখুনঃ মুসলিম শরীফঃ ৫৪, তিরমিযী শরীফঃ ২৬৯৯, মেশকাত শরীফঃ ২/৪০০, ফাতাওয়ায়ে আলমগীরীঃ ৫/৩২৬
২. প্রত্যেক ভাল কাজ ও ভালস্থানে ডানকে প্রাধান্য দেয়া, প্রত্যেক নিম্নমানের কাজ ও নিম্নমানের স্থানে বামকে প্রাধান্য দেয়া।
দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ১৬৮, মুসলিম শরীফঃ ২০৯৭, মুসনাদে আহমাদঃ ২৫০৪৩, মুস্তাদরাকঃ ৭৯১
৩. বেশি বেশি যিকর করা। উপরে উঠতে اَللّٰهُ اَكْبَرُ পড়া, নিচে নামতে سُبْحَانَ اللّٰهِ পড়া, সমতল ভূমিতে চলতে لَا اِلٰهَ اِلَّا اللّٰهُ বা অন্য কোন মাসনুন দুআ পড়তে থাকা। দেখুনঃ সুরা আহযাবঃ ৪১, মুস্তাদরাকঃ ১৮৩৯, মিশকাত শরীফঃ ১/১৯০, বুখারী শরীফঃ ২৯৯৩, তিরমিযী শরীফঃ ৩৩৮৩

ইস্তিঞ্জার সুন্নত ১৫ টি

১. মাথা ঢেকে রাখা। দেখুনঃ বাইহাকী শরীফঃ ৪৫৬, ই’লাউস সুনানঃ ১৩২৩
২. জুতা পরিধান করে যাওয়া। দেখুনঃ তাবাকাতে ইবনে সাআদঃ ১৮৫, কানযুল উম্মালঃ ১৭৮৭২
৩. হাম্মামে প্রবেশের পূর্বে بِسْمِ اللّٰهِ اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُبِكَ مِنَ الْخُبْثِ وَالْخَبَائِثِ দু’আ পড়া। দেখুনঃ মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহঃ ৫
৪. দু’আ পড়ার পর আগে বাম পা ঢুকানো। দেখুনঃ আবু দাউদ শরীফঃ ৩২
৫. কিবলার দিকে মুখ বা পিঠ দিয়ে না বসা। দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ১৪৪
৬. যথাসম্ভব বসার নিকটবর্তী হয়ে ছতর খোলা এবং বসা অবস্থায় পেশাব/পায়খানা করা, দাঁড়িয়ে পেশাব না করা। দেখুনঃ নাসায়ী শরীফঃ ২৯, তিরমিযী শরীফঃ ১৪
৭. পেশাব ও নাপাক পানির ছিটা হতে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বেঁচে থাকা। দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ২১৮
৮. পানি খরচ করার পূর্বে ঢিলা-কুলুখ বা টিস্যু পেপার ব্যবহার করা। দেখুনঃ বাইহাকী শরীফঃ ৫১৭
৯. ঢিলা ও পানি খরচ করার সময় বাম হাত ব্যবহার করা। দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ১৫৪
১০. পেশাবের ফোঁটা আসা বন্ধ হওয়ার জন্য আড়ালে সামান্য চলাফেরা করা। দেখুনঃ ইবনে মাজাহ শরীফঃ ৩২৬
১১. পেশাব/পায়খানার নির্ধারিত জায়গা নেই, তাহলে এমন স্থানে এভাবে বসা যেন ছতর নজরে না পড়ে। দেখুনঃ আবু দাউদ শরীফঃ ২
১২. এমন স্থানে পেশাবের জরুরত পুরা করা যেখান থেকে পেশাবের ছিটা শরীরে বা কাপড়ে না লাগে। দেখুনঃ আবু দাউদ শরীফঃ ৩
১৩. ঢিলা-কুলুখ ব্যবহারের পর পানি ব্যবহার করা। দেখুনঃ সহীহ ইবনে খুযাইমাঃ ৮৩, ই’লাউস সুনানঃ ১৩০০
১৪. ডান পা দিয়ে বের হওয়া। দেখুনঃ আবু দাউদ শরীফঃ ৩২
১৫. বাইরে এসে غُفْرَانَكَ اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِيْ اَذْهَبَ عَنِي الْأٰذٰى وَعَافَانِيْ দু’আ পড়া। দেখুনঃ আবু দাউদ শরীফঃ ৩০, ইবনে মাজাহ শরীফঃ ৩০১

মিসওয়াকের সুন্নত ২ টি

১. উযু করার সময় মিসওয়াক করা। দেখুনঃ আদদুররুল মুখতারঃ ১/১১৩
২. মিসওয়াক এক বিঘতের চেয়ে লম্বা না হওয়া। দেখুনঃ আদদুররুল মুখতারঃ ১/১১৫

উযুর সুন্নত ১৮ টি

১. উযুর নিয়ত করা। দেখুনঃ আদদুররুল মুখতারঃ ১/১০৫
২. উযুর শুরুতে بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ পড়া, অথবা بِسْمِ اللّٰهِ الْعَظِيْمِ وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ عَلٰى دِيْنِ الإِسْلَامِ পড়া। দেখুনঃ আদদুররুল মুখতারঃ ১/১০৮
৩. উভয় হাত কব্জি পর্যন্ত পৃথক পৃথকভাবে তিন তিনবার ধৌত করা। দেখুনঃ আদদুররুল মুখতারঃ ১/১১০
৪. তিন বার মিসওয়াক করা, মিসওয়াক না থাকলে আঙ্গুল দ্বারা দাঁত ঘষা। দেখুনঃ আদদুররুল মুখতারঃ ১/১১৩
৫. তিন বার কুলি করা। দেখুনঃ আদদুররুল মুখতারঃ ১/১১৫
৬. তিন বার নাকে পানি দেয়া। দেখুনঃ আদদুররুল মুখতারঃ ১/১১৬
৭. তিন বার নাক ঝাড়া অথবা পরিষ্কার করা। দেখুনঃ আলফিকহুল ইসলামীঃ ১/২৪৩
৮. উযুর প্রতিটি অঙ্গ তিন তিনবার ধৌত করা। দেখুনঃ ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়াঃ ১/৭
৯. পূর্ন মুখমণ্ডল তিনবার ধৌত করা এবং দাড়ি খিলাল করা। দেখুনঃ ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়াঃ ১/১১৭
১০. উভয় হাত কনুইসহ, উভয় পা টাখনুসহ তিন তিনবার ধৌত করা, ধোয়ার সময় হাত-পায়ের আঙ্গুলগুলোও খিলাল করা।
দেখুনঃ ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়াঃ ১/১১৭
১১. একবার পুরা মাথা মাসাহ করা। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর হাত দিয়ে মাথা মাসাহ করেছেন। উভয় হাতকে সামনে ও পিছনে নিয়েছেন। মাথার সম্মুখ ভাগ থেকে শুরু করে হাত দুটি মাথার পিছন দিকে নিয়ে গেছেন। এরপর হাত দুটি আবার যে স্থান থেকে শুরু করেছিলেন সেস্থানে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছেন।
দেখুনঃ আলবাহরুর রাইকঃ ১/২৬, তিরমিজী শরীফঃ হাদিস নং ৩২, ফাতাওয়া রহিমিয়াঃ ১/২০, ফাতাওয়া খানিয়াঃ ১/৩৫, ফাতহুল কাদীরঃ ১/১৭, খুলাসাতুল ফতওয়াঃ ১/৩৬, মাআরিফুস সুনানঃ ১/১৭৫, ফয়যুল বারীঃ ১/২৯৪, আলমুহীতুল বুরহানীঃ ১/১৭৬, ১/৪৭, আল এনায়াহঃ ১/৩৩, আল জাওহারাতুন নাইরাহঃ ১/৭, গনিয়াাতুল মুসতামালীঃ ২১-২২
১২. মাথার সাথে কানও মাসাহ করা। দেখুনঃ আলবাহরুর রাইকঃ ১/২৬
১৩. উযুর প্রতিটি অঙ্গ ঘষে-মেজে ধৌত করা। দেখুনঃ আলফিকহুল ইসলামীঃ ১/২৫৭
১৪. এক অঙ্গের পর অন্য অঙ্গ ধৌত করা। দেখুনঃ আলবাহরুর রাইকঃ ১/২৭
১৫. উযুর তরতীব বা ধারাবাহিকতা ঠিক রাখা। দেখুনঃ আলবাহরুর রাইকঃ ১/২৭
১৬. উযুর প্রতিটি অঙ্গ ডান দিক থেকে ধৌত করা। দেখুনঃ আলবাহরুর রাইকঃ ১/২৭
১৭. উযু করার পর কালেমায়ে শাহাদাত اَ شْهَدُ اَ ن لَّآ اِلٰهَ اِلَّا اللّٰهُ وَ اَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدً اعَبْدُهٗ وَرَسُوْلُهٗ পড়া। দেখুনঃ আলফিকহুল ইসলামীঃ ১/২৫৭
১৮. কালেমায়ে শাহাদাতের পর اَللّٰهُمَّ اجْعَلْنِيْ مِنَ التَّوَّابِيْنَ وَاجْعَلْنِيْ مِنَ الْمُتَطَهِّرِيْنَ দুআটি পড়া। দেখুনঃ আলফিকহুল ইসলামীঃ ১/২৫৭

তায়াম্মুমের সুন্নত ৬ টি

১. তায়াম্মুমের শুরুতে بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ পড়া। দেখুনঃ মুসনাদে আহমাদঃ ১২৬৯৪
২. মাটিতে হাত রাখার সময় আঙ্গুলসমূহ ফাঁক করে রাখা
৩. মাটিতে উভয় হাত রাখার পর হস্তদ্বয় সামান্য আগে পিছে নিয়ে মাটিতে ঘর্ষণ করা। দেখুনঃ মুসলিম শরীফঃ ৩৬৮
৪. তারপর উভয় হাত ঝেড়ে নেয়া। দেখুনঃ মুসলিম শরীফঃ ৩৬৮
৫. তায়াম্মুমের তরতীব ঠিক রাখা। অর্থাৎ প্রথমে সম্পূর্ণ মুখমণ্ডল, তারপর ডান হাত তারপর বাম হাত কনুইসহ মাসাহ্ করা।
দেখুনঃ আবু দাউদ শরীফঃ ৩৩০
৬. চেহারা ও হাতের মাসাহ্-এর মাঝে বিলম্ব না করা। দেখুনঃ আবু দাউদ শরীফঃ ৩৩০

গোসলের সুন্নত ১২টি

১. ফরয গোসলের পূর্বে ইস্তিঞ্জা অর্থাৎ পেশাব করা। দেখুনঃ মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাকঃ ১০২০
২. শুরুতে بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ পড়া। দেখুনঃ মুসনাদে আহমাদঃ ১২৬৯৪
৩. পৃথকভাবে উভয় হাত কব্জিসহ ধোয়া। দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ২৪৮
৪. শরীর বা কাপড়ের কোন স্থানে নাপাকী লেগে থাকলে প্রথমে তা তিনবার ধুয়ে পবিত্র করে নেয়া। দেখুনঃ মুসলিম শরীফঃ ৩২১
৫. নাপাকী লেগে থাকুক বা না থাকুক সর্বাবস্থায় গুপ্তাঙ্গ ধৌত করা, এরপর উভয় হাত ভালভাবে ধুয়ে নেয়া। দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ২৪৯
৬. সুন্নাত তরীকায় পূর্ণ উযু করা। যদি গোসলের স্থানে পানি জমে থাকে, গোসল শেষ করে পা ধৌত করা। দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ২৬০
৭. প্রথমে মাথায় পানি ঢালা। দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ২৫৬
৮. এরপর ডান কাঁধে পানি ঢালা। দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ২৫৪
৯. এরপর বাম কাঁধে পানি ঢালা। দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ২৫৪
১০. অতঃপর অবশিষ্ট শরীর ভিজানো। দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ২৯৮
১১. সমস্ত শরীরে এমনভাবে তিনবার পানি পৌঁছানো, যেন একটি পশমের গোড়াও শুষ্ক না থাকে। দেখুনঃ আবু দাউদঃ ২৪৯
১২. সমস্ত শরীর হাত দ্বারা ঘষে মেজে ধৌত করা। দেখুনঃ তিরমিযী শরীফঃ ১০৬

মসজিদে প্রবেশের সুন্নত ৫ টি

১. প্রথমে ডান পা মসজিদে রাখা। দেখুনঃ আলমাদখালঃ ১/৪০
২. بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ পড়া। দেখুনঃ যাদুল মাআদঃ ২/৩৭০
৩. দরুদ শরীফ পড়া। দেখুনঃ যাদুল মাআদঃ ২/৩৭০
৪. اَللّٰهُمَّ افْتَحْ لِيْ اَبْوَابَ رَحْمَتِكَ দুআটি পড়া। দেখুনঃ আলমাদখালঃ ১/৪০
৫. ই’তিকাফের নিয়ত করা, نَوَيْتُ سُنَّةَ الْاِعْتِكَافِ لِلّٰهِ تَعَالٰى مَا دُمْتُ فِيْ هٰذَا الْمَسْجِدِ । দেখুনঃ আলমাদখালঃ ১/৪০
এই দুঅগুলোকে একত্রে এই ভাবে পড়া যায়ঃ
بِسْمِ اللّٰهِ وَ الصَّلَاةُ وَ السَّلَامُ عَلٰى رَسُوْلِ اللّٰهِ، اَللّٰهُمَّ افْتَحْ لِيْ اَبْوَابَ رَحْمَتِكَ ، نَوَيْتُ سُنَّةَ الْاِعْتِكَافِ لِلّٰهِ تَعَالٰى مَا دُمْتُ فِيْ هٰذَا الْمَسْجِدِ

মসজিদ থেকে বাহির হওয়ার সুন্নত ৫ টি

১. بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ পড়া। দেখুনঃ আলমাদখালঃ ১/৪৬
২. দরুদ শরীফ পড়া। দেখুনঃ আলমাদখালঃ ১/৪৬
৩. اَللّٰهُمَّ اِنِّيْ اَسْاَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ দুআটি পড়া। দেখুনঃ যাদুল মাআদঃ ২/৩৭০
৪. বাম পা দিয়ে বাহির হওয়া। দেখুনঃ আলমাদখালঃ ১/৪৬
৫. ডান পায়ে আগে জুতা পরিধান করা, তারপর বাম পায়ে পরিধান করা। দেখুনঃ আলমাদখালঃ ১/৪৬
এই দুঅগুলোকে একত্রে এই ভাবে পড়া যায়ঃ بِسْمِ اللّٰهِ وَ الصَّلَاةُ وَ السَّلَامُ عَلٰى رَسُوْلِ اللّٰهِ، اَللّٰهُمَّ اِنِّيْ اَسْاَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ


শশমাহী ইমতেহান এর নেসাবঃ আযান-ইকামতের সুন্নত ও নামাজের সুন্নত সমূহের মশকে আমলীর ইমতেহান হবে।

নেযামে মশকে আমলীঃ সেহ মাহী ইমতেহানের পর মাদরাসার সবক সচল হওয়া থেকে শশমাহী ইমতেহান এর খিয়ার পর্যন্ত একটি নির্দিষ্ট সময়ে মাদরাসার সকল ছাত্রদেরকে একত্রে বসিয়ে ধারাবাহিক ভাবে দৈনিক ১/২টি করে সুন্নতের মুজাকারা-মশকে আমলী করানো, যেনো প্রতিদিনি ১/২টি করে সুন্নত ছাত্রদের আমলে এসে যায় এজন্য প্রতি ২৪ ঘন্টায় বিভিন্ন সময়ে উস্তাদদের মাধ্যমে নেগরানীর ব্যবস্থা করা, রোক-টোক করা। বিশেষ তিনটি সুন্নত, আযান-ইকামত, উযু-নামায এর মশকে আমলীর ধারাবাহিকতা জারী রাখা চাই। নেসাব অনুযায়ী সকল সুন্নত আমলে চলে আসতে হবে, শশমাহী ইমতেহানে এসকল সুন্নতের ইয়াদ ও মশকে আমলীর পরিক্ষা হবে। সুন্নতের পরিক্ষায় ফেল করলে পরিক্ষায় ফেল বলে বিবেচিত হবে।

আযানের সুন্নত ৮টি

১. পাক-পবিত্র অবস্থায় আযান দেয়া। দেখুনঃ মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাকঃ ১৭৯৯
২. কিবলামুখী হয়ে আযান দেয়া এবং উভয় পায়ের মাঝে চার আঙ্গুল পরিমাণ ফাঁক রেখে কিবলামুখী করে রাখা। দেখুনঃ আবু দাউ শরীফঃ ৫০৭, মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাকঃ ১৮০২
৩. প্রথম দুই তাকবীর এক শ্বাসে একত্রে বলে থামা, অতঃপর দুই তাকবীর এক শ্বাসে একত্রে বলে থামা। দেখুনঃ মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহঃ ২৩৭
তাকবীরসমূহের প্রত্যেকটির শেষে সাকিন করা অর্থাৎ اَللّٰهُ اَكْبَرُ اللّٰهُ اَكْبَرْ এভাবে না বলা তবে اَللّٰهُ اَكْبَرَ اللّٰهُ اَكْبَرْ বলা যাবে। অতঃপর মাঝের বাক্যগুলির মধ্য হতে এক একটি বাক্য এক শ্বাসে বলা এবং প্রত্যেক বাক্যের শেষে সাকিন করা ও থামা, শেষের দুই তাকবীর এক শ্বাসে একত্রে বলে থামা ও উভয় তাকবীরের শেষে সাকিন করা, সর্বশেষে لَآ اِلٰهَ اِلَّا اللّٰهْ বলে আযান শেষ করা।
দেখুনঃ মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহঃ ২৩৭৭, নাসায়ী শরীফঃ ৬৫২
উল্লেখ্য, এক এক বাক্য বলে থামার পর এ পরিমাণ বিরতি দেয়া, যাতে পঠিত বাক্যটি একবার পড়া যায়, অর্থাৎ শ্রোতাগণ যেন উক্ত সময়ে আযানের জওয়াব দিতে পারেন। দেখুনঃ মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহঃ ২২৩৪
৪. ডান দিকে চেহারা ফিরানোর পর حَيَّ عَلَي الصَّلٰوة বলা এবং বাম দিকে চেহারা ফিরানোর পর حَيَّ عَلَي الْفَلَاح বলা। কিন্তু বুক ও পা কিবলার দিক থেকে ফিরাবে না। দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ৬৩৪
৫. আযান শ্রবণের সাথে সাথে শ্রোতাগণের তিলাওয়াত, যিকির, তাসবীহ ইত্যাদি বন্ধ করে দেয়া। দেখুনঃ মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাকঃ ১৮৪৯
৬. আযানের জওয়াব দেয়া সুন্নত। মুআজ্জিনের আযানের বাক্যগুলো হুবহু বলা, তবে حَيَّ عَلَي الصَّلٰوة এবং حَيَّ عَلَي الْفَلَاح এর জওয়াবে لَا حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللّٰهِ বলা। আর ফজরের আযানে اَلصَّلٰوةُ خَيْرٌمِّنَ النَّوْمِ এর জওয়াবে صَدَقْتَ وَ بَرَرْتَ বলা।
দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ৬১১-৬১৩, মুসলিম শরীফঃ ৩৮৫
৭. আযান শেষে দরূদ শরীফ পড়া। দেখুনঃ মুসলিম শরীফঃ ৩৮৪
৮. অতঃপর اللّٰهُمَّ رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ وَالصَّلٰوةِ الْقَائِمَةِ اٰتِ مُحَمَّدَنِ الْوَسِيْلَةَ وَالْفَضِيْلَةَ وَابْعَثْهُ مَقَامًا مَّحْمُوْدَنِ الَّذِيْ وَعَدتَهٗ إِنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِيْعَادَ দুআটি পড়া। দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ৬১৪, ৪৭১৯, বাইহাকী শরীফঃ ১৯৩৩
নোটঃ আযানের তাকবীরসমূহের আওয়াজের মধ্যে তরঙ্গ সৃষ্টি করা বা ইচ্ছা পূর্বক আওয়াজ উঁচু-নীচু করা নাজায়েয। দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ৬০৯, দারাকুতনীঃ ৯০৬, আদ দুররুল মুখতারঃ ১/৩৮৭

ইকামাতের সুন্নাত ৫টি

১. পাক-পবিত্র অবস্থায় ইকামাত দেয়া। দেখুনঃ তিরমিযী শরীফঃ ২০০
২. কিবলামুখী হয়ে ইকামাত দেয়া এবং উভয় পায়ের মাঝে চার আঙ্গুল পরিমাণ ফাঁক রেখে উভয় পা কিবলামুখী করে রাখা।
দেখুনঃ আবু দাউদ শরীফঃ ৪৯৯, আদ দুররুল মুখতারঃ ১/৩৮৯
৩. ক. ইকামাতে হদর করা যেমনঃ প্রথম চার তাকবীর একত্রে এক শ্বাসে বলে থামা ও প্রত্যেক তাকবীরের শেষে সাকিন করা।
খ. অতঃপর মাঝের বাক্যগুলোর মধ্যে হতে দুই দুই বাক্য একত্রে এক শ্বাসে বলে থামা এবং প্রত্যেক বাক্যের শেষে সাকিন করা।
গ. সর্বশেষ দুই তাকবীরের সাথে لَا اِ لٰهَ اِلَّا اللّٰه মিলিয়ে একত্রে এক শ্বাসে বলা এবং উভয় তাকবীরের শেষে সাকিন করা ।
দেখুনঃ তিরমিযী শরীফঃ ১৯৫, দেখুনঃ কানযুল উম্মালঃ ২৩২১০, দেখুনঃ মাআরিফুস সুনানঃ ২ ১৯৫; ফাতাওয়া শামীঃ ১/৩৮৬
৪. ইকামাতেও ডান দিকে চেহারা ফিরিয়ে তারপরে حَيَّ عَلٰي الصَّلٰوة বলা। এরপর বাম দিকে চেহারা ফিরিয়ে حَيَّ عَلٰي الْفَلَاح বলা। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে যেন সীনা না ঘুরে এবং চেহারা ঘুরানো শেষ হওয়ার পর حَيَّ عَلٰي الصَّلٰوة ও حَيَّ عَلٰي الْفَلَاح বলা শুরু করা।
দেখুনঃ মুসলিমঃ ৫০৩; আদ দুররুল মুখতারঃ ১/৩৮৭
৫. আযানের জওয়াবের মতই ইকামাতের জওয়াব দেয়া সুন্নত। তবে قَدْ قَامَتِ الصَّلَاة এর জওয়াবে أَقَامَهَا اللّٰهُ وَأَدَامَهَا বলা। দেখুনঃ আবু দাউদ শরীফঃ ৫২৮

নামজের সুন্নত ৫১ টি
দাড়ানো অবস্থায় সুন্নত ১১ টি

১. উভয় পায়ের আঙ্গুলসমূহ কিবলামুখী করে সোজা হয়ে দাঁড়ানো, পুরুষদের উভয় পায়ের মধ্যে নিয়ে চার আঙুল, ঊর্ধ্বে একবিঘত পরিমাণ ফাঁকা রাখা হবে স্বাভাবিক পরিমাণ । দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ২/৯২৪ হা. ৬২৫১, তিরমিযী শরীফঃ ১/৬৬ হাদিস নং ৩০৪

* মহিলাদের দাড়ানো অবস্থায় উভয় পায়ের মাঝে চার আঙ্গুল ফাকা রাখা সুন্নত।
দেখুনঃ এমদাদুল আহকামঃ ১/৪৬৬, ফাতহুল কদীরঃ ১/২৯৬, হাশিয়াতুত তাহতাবীঃ ২৬২, ফাতাওয়া শামীঃ ১/৪৪৪, আল ফিকহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহুঃ ২/৭০

২. তাকবীরে তাহরীমার সময় চেহারা কিবলার দিকে রেখে নজর সিজদার স্থানে রাখা এবং হাত উঠানোর সময় মাথা না ঝুঁকানো। দেখুনঃ মুস্তাদরাকে হাকেমঃ ১/৪৭৯ হাদিস নং ১৭৬১, তিরমিযী শরীফঃ ১/৬৬ হাদিস নং ৩০৪

৩. উভয় হাত কান পর্যন্ত উঠানো। অর্থাৎ উভয় হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলির মাথা কানের লতি পর্যন্ত উঠানো।
দেখুনঃ মুসলিম শরীফঃ ১/১৬৮ হাদিস নং ৩৯১

* মহিলাগণ তাদের হাত বুক বা কাঁধ পর্যন্ত উঠাবে এবং কাপড়ের ভেতর থেকে হাত বাহির করবে না।
দেখুনঃ তিরমিযী শরীফঃ ১/২২২ হাদিস নং ১১৭৩, তাবরানী কাবীরঃ ৯/১৪৪ হাদিস নং ১৭৪৯৭, ২২/২০ হাদিস নং ২৮

৪. হাত উঠানোর সময় আঙ্গুলসমূহ ও হাতের তালু কিবলামুখী রাখা। দেখুনঃ তিরমিযী শরীফঃ ১/৫৬ হাদিস নং ২৪০, তাবরানী আউসাতঃ ৮/৪৪ হাদিস নং ৭৮০১
৫. আঙ্গুলসমূহ স্বাভাবিক রাখা অর্থাৎ একেবারে মিলিয়েও না রাখা আবার বেশি ফাঁকাও না রাখা। দেখুনঃ মুস্তাদরাকঃ ১/২৩৪ হাদিস নং ৮৫৬
৬. ইমামের তাকবীরে তাহরীমার সাথে সাথে মুক্তাদীর তাকবীরে তাহরীমা বলা। তবে যেন ইমামের তাকবীরে তাহরীমার পূর্বে মুক্তাদীর তাকবীরে তাহরীমার নিঃশ্বাস সমাপ্ত না হয় তা লক্ষ রাখতে হবে। এরূপ হলে মুক্তাদীর নামায ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। পুরো নামাজের সকল তাকবীর এক আলিফ থেকে অধিক টানা যাবে না। অবশ্য হদর এবং তারতীলের পার্থক্য থাকবে। দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ১/১০১ হাদিস নং ৭৩৪, মুসলিম শরীফঃ ১/১৭৭ হাদিস নং ৪১৪-৪১৫, ফাতাওয়ায়ে শামীঃ ১৪৮০
৭. হাত বাঁধার সময় ডান হাতের তালু বাম হাতের পিঠের পাতার ওপর রাখা। দেখুনঃ নাসাঈ শরীফঃ ১/১০২ হাদিস নং ৮২৮
৮. ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি ও কনিষ্ঠাঙ্গুলি দ্বারা গোলাকার বৃত্ত বানিয়ে বাম হাতের কবজি শক্তভাবে ধরা।
দেখুনঃ তিরমিযী শরীফঃ ১/৫৯ হাদিস নং ২৫২, নাসাঈ শরীফঃ ১/১০২ হাদিস নং ৮৮৬, ইবনে মাজাহ শরীফঃ ৫৬ হাদিস নং ৮১১, মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাঃ ১/৩৪৩ হাদিস নং ৩৯৪২

৯. অবশিষ্ট তিন আঙুল বাম হাতের ওপর স্বাভাবিকভাবে বিছিয়ে রাখবে।

* মহিলাগণ ডান হাতের তালু বাম হাতের পিঠের ওপর স্বাভাবিকভাবে রাখবে। পুরুষের মতো শক্ত করে ধরবে না। দেখুনঃ তিরমিযী শরীফঃ ১/৫৯ হাদিস নং ২৫২, নাসাঈ শরীফঃ ১/১০২ হাদিস নং ৮৮৬, ইবনে মাজাহ শরীফঃ ৫৬ হাদিস নং ৮১১, মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাঃ ১/৩৪৩ হাদিস নং ৩৯৪২

১০. নাভির নিচে হাত বাঁধা। দেখুনঃ মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাঃ ১/৩৯০ হাদিস নং ৩৯৫৯

* মহিলাগণ কাপড়ের ভেতরে সিনার উপর স্তনের নিচে হাত বাধা। দেখুনঃ আলবাহরুর রাইকঃ ১/৩২১, মারাকীল ফালাহঃ ১৪১ পৃষ্ঠা

১১. সানা পড়া। দেখুনঃ আবু দাউদ শরীফঃ ১/১১৩ হাদিস নং ৭৭৫, ৭৭৬

কিরাআতের সুন্নত ৭টি

১. প্রথম রাকাআতে ছানা পড়ার পর পূর্ণ اَعُوْذُ بِاللّٰهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ পড়া।
দেখুনঃ আবু দাউদ শরীফঃ ১/১১১ হাদিস নং ৭৬৪, ইবনে মাজাহ শরীফঃ ১/৪৪৩ হাদিস নং ৮০৭
২. প্রতি রাকাআতে সূরা ফাতিহা ও সূরা মিলানোর পূর্বে পূর্ণ بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ পড়া। দেখুনঃ নাসাঈ শরীফঃ ১/১০৪ হাদিস নং ১০৪
৩. সূরা ফাতিহার পর ইমাম, মুক্তাদি বা একাকী নামাযী সবাই অতি নিঃশব্দে ‘আমীন’ বলা।
দেখুনঃ বুখারী শরফিঃ ১/১০৮ হাদিস নং ৭৮২, মুস্তাদরাকে হাকেমঃ ২/২৩২, হাদিস নং ২৯১৩, সুনানে দারাকুতনীঃ ১/২৬৩ হাদিস নং ১২৫৬
৪. ফজর এবং যুহরের নামাযে তিওয়ালে মুফাসসাল অর্থাৎ সূরা ‘হুজুরাত’ থেকে সূরা বুরূজ’ পর্যন্ত যেকোনো সূরা পড়া। আসর এবং ইশার নামাযে আউসাতে মুফাসসাল অর্থাৎ সূরা তারিক’ থেকে সূরা ‘লাম-ইয়াকুন’ পর্যন্ত যেকোনো সূরা পড়া। মাগরিবে কিসারে মুফাসসাল অর্থাৎ সূরা ‘ইযা-যুলযিলাৎ’ থেকে সূরা ‘নাস’ পর্যন্ত থেকে যেকোনো একটি সূরা পড়া অথবা অন্য বড় সূরা থেকে এ পরিমাণ ক্বিরাআত পাঠ করা। দেখুনঃ নাসাঈ শরীফঃ ১/১১৩ হাদিস নং ৯৮২, মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাকঃ ২/১০৪ হাদিস নং ২৬৭২
৫. ফজরের প্রথম রাক’আত দ্বিতীয় রাকাআত অপেক্ষা লম্বা করা। অন্যান্য ওয়াক্তে উভয় রাকাআতে ক্বিরাআতের পরিমাণ সমান রাখা উচিত। দেখুনঃ মুসলিম শরীফঃ ১/১৮৬ হাদিস নং ৪৫১, ৪৫২
৬. ক্বিরাআত অত্যন্ত তাড়াতাড়ি বা একেবারে ধীর গতিতে না পড়া, বরং মধ্যম গতিতে পড়া। দেখুনঃ মুসলিম শরীফঃ ১/২৫৩ হাদিস নং ৭৩৩
৭. ফরয নামাযের তৃতীয় এবং চতুর্থ রাকাআতে শুধু সূরা ফাতিহা পড়া। দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ১/১০৭ হাদিস নং ৭৭৬, মুসলিম শরীফঃ ১/১৮৫ হাদিস নং ৪৫১

রুকুতে সুন্নত ৮টি

১. তাকবীর বলতে বলতে রুকুতে যাওয়া। দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ১/১০৮ হাদিস নং ৭৮৯
২. উভয় হাত দ্বারা শক্তভাবে হাঁটু ধরা। দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ১/১০৯ হাদিস নং ৭৯০
৩. হাতের আঙ্গুলসমূহ ফাঁকা করে ছড়িয়ে রাখা। দেখুনঃ আবু দাউদ শরীফঃ ১/১০৬ হাদিস নং ৭৩১, মুসনাদে আহমদঃ ৪/১২০ হাদিস নং ১৭০৮৫

* মহিলাগণ উভয় হাত হাঁটুর ওপর স্বাভাবিকভাবে রাখবে, পুরুষদের মতো শক্ত করে ধরবে না এবং আঙ্গুলগুলো মিলিয়ে রাখবে। রুকুতে উভয় পায়ের গোড়ালী পরিপূর্ণ মিলিয়ে রাখা। দেখুনঃ মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাকঃ ৩/১৩৭ হাদিস নং ৫০৬৯, ফাতাওয়া শামীঃ ১/৫০৪

৪. উভয় হাত সম্পূর্ণ সোজা রাখা, কনুই বাঁকা না করা। দেখুনঃ আবু দাউদ শরীফঃ ১/১০৭ হাদিস নং ৭৩৪

* মহিলাগণ তাদের উভয় বাহু পাঁজরের সঙ্গে মিলিয়ে রাখবে। দেখুনঃ মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাকঃ ৩/১৩৭ হাদিস নং ৫০৬৯

৫. পায়ের গোছা, হাঁটু ও উরু সম্পূর্ণ সোজা রাখা। হাঁটু সামনের দিকে বাঁকা না করা।
দেখুনঃ আবু দাউদ শরীফঃ ১/১২৫ হাদিস নং ৮৬৩, মুসনাদে আহমদঃ ৪/১১৯ হাদিস নং ১৭০৮০
৬. মাথা, পিঠ ও কোমর সমান রাখা, উঁচু-নিচু না করা। দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ১/১১৪ হাদিস নং ৮২৮, মুসলিম শরীফঃ ১/১৯৪ হাদিস নং ৪৯৮

* মহিলাগণ রুকুতে পুরুষদের তুলনায় কম ঝুঁকবে, হাতের আঙ্গুলগুলোর মাথা হাটু পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়াই যথেষ্ট। দেখুনঃ মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাকঃ ৩/১৩৭ হাদিস নং ৫০৬৯, মারাকীল ফালাহঃ ১৪১ পৃষ্ঠা, উমদাতুল ফিকহঃ ২/১১৪
৭. রুকুতে কমপক্ষে তিনবার রুকুর তাসবীহ سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيْمِ পড়া। দেখুনঃ আবু দাউদ শরীফঃ ১/১২৯ হাদিস নং ৮৮৬ সহীহ ইবনে খুজায়মাঃ ১/৩৩৪ হাদিস নং ৬৬৮
৮. রুকু থেকে উঠতে ইমাম سَمِعَ اللّٰهُ لِمَنْ حَمِدَهٗ পরবে, মুক্তাদি رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ ও মুনফারিদ উভয়টি পরবে। দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ১/১০১ হাদিস নং ৭৩৩, ৭৮৯

রুকু থেকে উঠে সম্পূর্ণ সোজা হয়ে এক তাসবীহ পরিমাণ স্থিরভাবে দাঁড়ানো জরুরি। দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ১/১১০ হাদিস নং ৮০১, ৮০২

সিজদায় সুন্নত ১২টি

১. তাকবীর বলতে বলতে রুকুতে যাওয়া। দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ১/১১০ হাদিস নং ৮০৩
২. সিজদায় যাওয়ার সময় প্রথমে উভয় হাঁটু মাটিতে রাখা। দেখুনঃ নাসাঈ শরীফঃ ২/২০৬ হাদিস নং ১০৮৯, আবু দাউদ শরীফঃ ১/১২২ হাদিস নং ৮৩৮
৩. তারপর হাঁটু থেকে আনুমানিক এক হাতের চেয়ে একটু বেশি সামনে উভয় হাত রাখা এবং হাতের আঙ্গুলসমূহ কিবলামুখী করে সম্পূর্ণরূপে মিলিয়ে রাখা। দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ১/১১৪ হাদিস নং ৮২৮, সহীহ ইবনে খুজায়মাঃ ১/৩২৪ হাদিস নং ৬৪২, ৬৪৩

* মহিলাগণ অত্যন্ত জড়সড় ও সংকুচিত হয়ে সিজদা করবে। দেখুনঃ মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাঃ ১/২৪২ হাদিস নং ২৭৭৯
৪. তারপর উভয় বৃদ্ধাঙ্গুলির মাথা বরাবর নাক রাখা। দেখুনঃ মুসনাদে আহমাদঃ ৪/৩১৮ হাদিস নং ১৮৮৯৪
৫. তারপর কপাল রাখা। দেখুনঃ মুসনাদে আহমদঃ ৪/৩১৭ হাদিস নং ১৮৮৮০
৬. অতঃপর দুই হাতের মাঝে সিজদা করা এবং দৃষ্টি নাকের অগ্রভাগের দিকে রাখা।
দেখুনঃ মুসলিম-১/১৭৩ হাদিস নং ৪০১, মুস্তাদরাকে হাকেমঃ ১/৪৭৯ হাদিস নং ১৭৬১
৭. সিজদায় পেট উরু থেকে পৃথক রাখা। দেখুনঃ মুসলিম শরীফঃ ১/১৯৪ হাদিস নং ৪৯৬, আবু দাউদ শরীফঃ ১/১০৭ হাদিস নং ৭৩৫

* মহিলাগণ উভয় রানের সঙ্গে পেট মিলিয়ে রাখবে। দেখুনঃ মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাঃ ১/২৪২ হাদিস নং ২৯৯৯
৮. পাঁজরদ্বয় থেকে উভয় বাহু পৃথক রাখা। দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ১/১১২ হাদিস নং ৮০৭

* মহিলাগণ বাহুদ্বয় যথাসাধ্য পাঁজরের সাথে মিলিয়ে রাখবে। দেখুনঃ মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাঃ ১/১৩৮ হাদিস নং ২৭৮১
৯. কনুই মাটি ও হাঁটু থেকে পৃথক রাখা। দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ১/১১৩ হাদিস নং ৮২২

* মহিলাগণ কনুই মাটিতে মিলিয়ে রাখবে এবং পায়ের পাতাগুলো দাঁড়ানো না রেখে ডান দিকে বের করে মাটিতে বিছিয়ে রাখবে। আর আঙ্গুলগুলো যথাসাধ্য কিবলামুখী রাখবে। দেখুনঃ মারাসীলে আবী দাউদঃ ১১৯ হাদিস নং ৮৭
১০. সিজদায় কমপক্ষে তিনবার সিজদার তাসবীহ سُبْحَانَ رَبِّيَ الْاَعْليٰ পড়া। দেখুনঃ আবু দাউদ শরীফঃ ১/৫৪২ হাদিস নং ৮৭০
১১. তাকবীর বলতে বলতে সিজদা হতে ওঠা। দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ১/১১৪ হাদিস নং ২৫
১২. সিজদা থেকে উঠতে প্রথমে কপাল, তারপর নাক, তারপর উভয় হাত, তারপর উভয় হাঁটু উঠানো।
দেখুনঃ মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাকঃ ২/১৭৭ হাদিস নং ২৯৫৮

* দাঁড়ানো অবস্থা থেকে সিজদায় যাওয়ার সময় হাঁটু মাটিতে লাগার আগ পর্যন্ত বুক সম্পূর্ণ সোজা রাখা জরুরি। অপারগতা ছাড়া বুক ঝুঁকিয়ে সিজদায় গেলে একাধিক রুকু হয়ে সুন্নতের খেলাফ হবে। দু’সিজদার মাঝে সম্পূর্ণ সোজা হয়ে এক তাসবীহ পরিমাণ স্থির হয়ে বসা জরুরি। সাহাবাগণের রা. আমল এমনই ছিলো।

বৈঠকে সুন্নত ১৩টি

১. বাম পা বিছিয়ে তার ওপর বসা। ডান পা সোজাভাবে দাঁড়িয়ে রাখা উভয় পায়ের আঙুলসমূহ সাধ্যমতো কিবলার দিকে মুড়িয়ে রাখা। দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ১/১১৪ হাদিস নং ৮২৭, মুসলিম শরীফঃ ১/১৯৪-১৯৫ হাদিস নং ৪৯৮

* মহিলাগণ বাম নিতম্বের ওপর বসবে এবং উভয় পা ডান দিকে বের করে কিবলামুখী করত মাটিতে বিছিয়ে রাখবে। ডান রানকে বাম রানের উপর রাখা। দেখুনঃ মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাঃ ১/২৭১ হাদিস নং ২৮০৮, মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাকঃ ৩/১৩৯ হাদিস নং ৫০৭৫, আলবাহরুর রাইকঃ ১/৩২১, উমদাতুল ফিকহঃ ২/১১৪
২. উভয় হাত রানের ওপর হাঁটু বরাবর করে রাখা এবং দৃষ্টি দুই হাঁটুর মাঝ বরাবর রাখা। পুরুষগণ হাতের আঙ্গুলগুলো স্বাভাবিকভাবে রাখবে। দেখুনঃ মুসলিম শরীফঃ ১/২১৬ হাদিস নং ৫৮০, আবু দাউদ শরীফঃ ১/১৪২ হাদিস নং ৯৯০

* মহিলাগণ হাতের আঙ্গুলগুলো মিলিয়ে রাখবে। দেখুনঃ মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাঃ ১/২৭০ হাদিস নং ২৭৯৪
৩. তাশাহুদ এর মধ্যে اَشْهَدُ বলার সঙ্গে সঙ্গে মধ্যমা ও বৃদ্ধাঙ্গুলির মাথা এক সাথে মিলিয়ে গোলাকার বৃত্ত বানানো এবং অনামিকা ও কনিষ্ঠাঙ্গুলিদ্বয় মুড়িয়ে রাখা এবং لَا اِلٰهَ বলার সময় শাহাদাত আঙুল সামান্য উঁচু করে ইশারা করা। অতঃপর اِلَّا اللّٰهُ বলার সময় আঙুলের মাথা সামান্য ঝুঁকানো, হাঁটুর সাথে না লাগানো। দেখুনঃ আবু দাউদ শরীফঃ ১/১০৫ হাদিস নং ৭২৬, নাসাঈ শরীফঃ হাদিস নং ১২৭৩
৪. আখেরী বৈঠকে তাশাহুদ পড়ার পর দরূদ শরীফ পাঠ করা। দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ১/৪৭৭, হাদিস নং ৩৩৭০, তিরমিযী শরীফঃ ২/১৮৬ হাদিস নং ৩৪৭৭
৫. দরূদ শরীফের পর দু’আয়ে মাছুরা পড়া। দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ১/১১৫ হাদিস নং ৮৩৪, তিরমিযী শরীফঃ ১/১৩০ হাদিস নং ৫৯৩
৬. উভয় দিকে সালাম ফিরানো। দেখুনঃ মুসলিম শরীফঃ ১/১৮১ হাদিস নং ৫৮২, তিরমিযী শরীফঃ ১/৬৫ হাদিস নং ২৯৫
৭. ডান দিকে আগে সালাম ফিরানো। উভয় সালাম কিবলার দিক থেকে আরম্ভ করা এবং সালামের সময় দৃষ্টি কাঁধের দিকে রাখা। দেখুনঃ মুসলিম শরীফঃ ১/২১৬ হাদিস নং ৫৮২, তিরমিযী শরীফঃ ১/৬৬ হাদিস নং ২৯৬
৮. ইমাম উভয় সালামে মুক্তাদী, ফেরেশতা ও নামাযী জ্বিনদের প্রতি সালাম করার নিয়ত করা।
দেখুনঃ মুসলিম শরীফঃ ১/১৮১ হাদিস নং ৪৩১, মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাকঃ ২/২২২ হাদিস নং ৩১৪১
৯. মুক্তাদীগণ উভয় সালামে ইমাম, অন্যান্য মুসল্লী, ফেরেশতা ও নামাযী জিনদের প্রতি সালাম করার নিয়ত করা।
দেখুনঃ মুসলিম শরীফঃ ১/১৮১ হাদিস নং ৪৩১, ইবনে মাজাহ শরীফঃ ১/৬৫-৬৬ হাদিস নং ৯২২, মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাকঃ ২/২২৩-২২৪ হাদিস নং ৩১৪৯, ৩১৫২
১০. একাকী নামাযী ব্যক্তি শুধু ফেরেশতাগণের প্রতি সালাম করার নিয়ত করা। দেখুনঃ মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাকঃ ২/২২১ হাদিস নং ৩১৪০
১১. মুক্তাদীগণ ইমামের সালাম ফিরানোর সাথে সাথে অবিলম্বে সালাম ফিরানো। দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ১/১১৬ হাদিস নং ৮৩৮
১২. ইমাম সালাম ফিরানোর সময় দ্বিতীয় সালাম প্রথম সালাম অপেক্ষা আস্তে বলা এবং প্রথম সালাম অপেক্ষা দ্বিতীয় সালামে মদ কম করা। দেখুনঃ তিরমিযী শরীফঃ ১/৬৬ হাদিস নং ২৯৭, মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহঃ ১/৩০০ হাদিস নং ৩০৫৭
১৩. ইমামের দ্বিতীয় সালাম ফিরানো শেষ হলে মাসবূকের ছুটে যাওয়া নামায আদায়ের জন্য দাঁড়ানো।
দেখুনঃ মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাকঃ ২/২২৫ হাদিস নং ৩১৫৬


সালানা ইমতেহান এর নেসাবঃ খানার সুন্নত, পান করার সুন্নত ও ঘুমের সুন্নত সমূহের মশকে আমলীর ইমতেহান হবে।

নেযামে মশকে আমলীঃ শশমাহী ইমতেহানের পর মাদরাসা খোলা থেকে সালান ইমতেহান এর খিয়ার পর্যন্ত একটি নির্দিষ্ট সময়ে মাদরাসার সকল ছাত্রদেরকে একত্রে বসিয়ে ধারাবাহিক ভাবে দৈনিক ১/২টি করে সুন্নতের মুজাকারা-মশকে আমলী করানো, যেনো প্রতিদিনি ১/২টি করে সুন্নত ছাত্রদের আমলে এসে যায় এজন্য প্রতি ২৪ ঘন্টায় বিভিন্ন সময়ে উস্তাদদের মাধ্যমে নেগরানীর ব্যবস্থা করা, রোক-টোক করা। নেসাব অনুযায়ী সকল সুন্নত আমলে চলে আসতে হবে, সালানা ইমতেহানে সেহমাহী-শশমাহীসহ পূর্ন নেসাবের সকল সুন্নতের ইয়াদ ও মশকে আমলীর পরিক্ষা হবে। সুন্নতের পরিক্ষায় ফেল করলে পরিক্ষায় ফেল বলে বিবেচিত হবে, নতুন বছরে তারাক্কী হবে না।

খানা খাওয়ার সুন্নত ২৪টি

১. দস্তরখানা বিছানো, দস্তরখানায় কিছু লেখা না থাকা । দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ৫৩৮৬, নাইলুল আওতারঃ ৮/১৬৭
২. উভয় হাত কব্জি পর্যন্ত ভালভাবে ধোয়া, না মোছা। দেখুনঃ আবু দাউদ শরীফঃ ৩৭৬১, আদ্দুররুল মুখতারঃ ৬/৩৪০
৩. প্রথমে খানা তথা আল্লাহর নেয়ামতের দিকে মুখাপেক্ষী হয়ে বসা, তারপর দস্তরখানা বিছানো। দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ৫৩৮৫, ৫৩৯৯
৪. দস্তরখানা খুব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। এর উপর ঝুটা, উচ্ছিষ্ট খাবার, হাড্ডি ইত্যাদি না ফেলা ও তাতে পা না রাখা।
দেখুনঃ মুসলিম শরীফঃ ২০৩৩
৫. খানা সামনে আসলে اللّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيمَا رَزَقْتَنَا، وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ পড়া ও খানার খাওয়ার শুরুতে بِسْمِ اللّٰهِ وَ بَرَكَةِ اللّٰهِ পড়া।
দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ৫৩৭৬, রদ্দুল মুহতারঃ ৬/৩৪০, আল আযকার
৬. ডান হাত দিয়ে খাওয়া, বাম হাত দিয়ে খানা না খাওয়া। দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ৫৩৭৬, মুসলিম শরীফঃ ২০২০
৭. খানার মজলিসে বয়সের দিক দিয়ে যিনি বড় এবং বুযুর্গ, তাঁর দ্বারা খানা শুরু করানো। দেখুনঃ মুসলিম শরীফঃ ২০১৭
৮. খাদ্য এক ধরনের হলে ও ইজতেমায়ী খানায় নিজের সম্মুখ থেকে খাওয়া, ইনফেরাদী খানায় ইচ্ছে মত খাওয়ার অনুমতি আছে। খানা তিন আঙ্গুলে খাওয়া, প্রয়োজনে অতিরিক্ত মেলানো যাবে। দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ৫৩৭৬, আল ফিকহুল ইসলামীঃ ৩/৫৩৫
৯. খাদ্যের কোন অংশ পড়ে গেলে উঠিয়ে প্রয়োজনে পরিষ্কার করে খাওয়া। দেখুনঃ মুসলিম শরিফঃ ২০৩৩
১০. হেলান দিয়ে বসে না খাওয়া। দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ৫৩৯৮
১১. খাদ্যের ত্রুটি বের না করা। দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ৫৪০৯
১২. জুতা পরিহিত থাকলে জুতা খুলে খানা খাওয়া। দেখুনঃ মুস্তাদরাকে হাকেমঃ ৭১২৯
১৩. বসে খাওয়া, খানা খাওয়ার সময় اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيهِ وَأَطْعِمْنَا خَيْرًا مِنْهُ দুআ পড়া। দেখুনঃ মুসলিম শরিফঃ ২/১৭৩, তিরমিযী শরীফঃ ৩৪৫৫
১৪. খানা খাওয়া শেষে খানার পাত্রসমূহ আঙ্গুল দ্বারা ভালভাবে চেটে পরিস্কার করে খাওয়া। এতে খাবারের পাত্রসমূহ আহারকারীর জন্য মাগফিরাত কামনা করে। হাতের আঙ্গুলসমূহ যথাক্রমে কনিষ্ঠা, অনামিকা, মধ্যমা, শাহাদাত, বৃদ্ধা চেটে খাওয়া।
দেখুনঃ মুসলিম শরীফঃ ২০৩৩, তিরমিযী শরীফঃ ১৮০৪, তাবরানী আউসাতঃ ১৬৪৯, দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ১৬৮, মুসলিম শরীফঃ ২০৯৭
১৫. খানা শেষে اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِىْ اَطْعَمَنَا وَ سَقَانَا وَ جَعَلَنَا مُسْلِمِيْنَ দু‘আ পড়া। দেখুনঃ আবু দাউদ শরীফঃ ৩৮৫০
১৬. খানা শেষে আগে দস্তরখানা উঠিয়ে তারপর নিজে উঠা। দেখুনঃ ইবনে মাজাহ শরীফঃ ৩২৯৫, শামাইলে তিরমিযী শরীফঃ পৃঃ ১২
১৭. দস্তরখানা ডান হাতে উঠানোর সময় اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ حَمْدًا كَثِيْرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيْهِ غَيْر مَكْفِىٍّ وَ لَا مُوَدَّعٍ وَلَا مُسْتَغْنىً عَنْهُ رَبَّنَا দু‘আ পড়া।
দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ৫৪৫৮, বুখারী শরীফঃ ১৬৮, মুসলিম শরীফঃ ২০৯৭, মুসনাদে আহমাদঃ ২৫০৪৩, মুস্তাদরাকঃ ৭৯১
১৮. খানা খেয়ে উভয় হাত ধোয়া। দেখুনঃ তিরমিযী শরীফঃ ১৮৪৬
১৯. খানা খাওয়ার সময় একেবারে চুপ থাকা মাকরূহ। এজন্য খাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে পরস্পরে ভাল কথা আলোচনা করা। কিন্তু যে ধরনের কথা বা সংবাদে দুশ্চিন্তা বা ঘৃণার উদ্রেক হতে পারে, তা খানার সময় বলা অনুচিত। দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ৫৩৭৬
২০. খানার শুরুতে بِسْمِ اللّٰهِ পড়তে ভুলে গিয়ে স্মরণ হলেই খানার মাঝে بِسْمِ اللّٰهِ اَوَّلَهٗ وَاٰخِرَهٗ দুআ পড়া। দেখুনঃ আবু দাউদ শরীফঃ ৩৭৬৭
২১. দাওয়াতের খানা খাওয়ার পর اَللّٰهُمَّ اَطْعِمْ مَنْ اَطْعَمَنِىْ وَ اسْقِ مَنْ سَقَانِىْ দু‘আ পড়া। দেখুনঃ মুসলিম শরীফঃ ২০৫৫
২২. মেযবানকে শুনিয়ে اَكَلَ طَعَامَكُمُ الْاَبْرَارُ وَ صَلَّتْ عَلَيْكُمُ الْمَلَائِكَةُ وَ اَفْطَرَ عِنْدَكُمُ الصَّائِمُوْنَ দুআটি পড়া। দেখুনঃ আবু দাউদ শরীফঃ ৩৮৫৪
২৩. কুলি করে মুখ পরিষ্কার করা। দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ৫৪৫৫
২৪. নতুন ফল খাওয়ার সময় اَللّٰهُمَّ بَارِكْ لَنَا فيْ ثَمَرِنَا. وَبَارِكْ لَنَا فِيْ مَدِيْنَتِنَا. وَبَارِكْ لَنَا فِيْ صَاعِنَا. وَبَارِكْ لَنَا فِيْ مُدِّنَا দু’আ পড়া।
দেখুনঃ মুসলিম শরীফঃ ১৩৭৩, তিরমিযী শরীফঃ ৩৪৫৪
২৪. ইফতারের সময় اَللّٰهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَعَلٰى رِزْقِكَ اَفْطَرْتُ দু’আ পড়া। দেখুনঃ আবু দাউদ শরীফঃ ২৩৫৮

পান করার সুন্নাত ১৩টি

১. পানির পেয়ালা ডান হাত দিয়ে ধরা। দেখুনঃ মুসলিম শরীফঃ ২০২০
২. বসে পান করা, বসতে অসুবিধা না হলে দাঁড়িয়ে পান না করা। দেখুনঃ মুসলিম শরীফঃ ২০২৪
৩. بِسْمِ اللّٰهِ বলে পান করা এবং পান করে اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ বলা। দেখুনঃ তাবরানী আওসাতঃ ৬৪৫২
৪. কমপক্ষে তিন শ্বাসে পান করা এবং শ্বাস ছাড়ার সময় পানির পাত্র মুখ হতে সরিয়ে নেয়া। দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ৫৬৩১
৫. পাত্রের ভাঙ্গা দিক দিয়ে পান না করা। দেখুনঃ আবু দাউদ শরীফঃ ৩৭২২
৬. যদি পাত্রের ভিতর নজরে না আসে, সেটার মুখে মুখ লাগিয়ে পান না করা। কারণ, তাতে কোন বিষাক্ত প্রাণী থাকতে পারে।
দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ৫৬২৬
৭. পানি পান করার পর اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِىْ سَقَانَا مَاءً عَذْبًا فُرَاتًا بِرَحْمَتِهٖ وَلَمْ يَجْعَلْهُ بِذُنُوْبِنَا مِلْحًا اُجَاجَا দু‘আ পড়া। দেখুনঃ তাবরানীঃ ৮৯৯
৮. পানীয় দ্রব্য পান করে কাউকে দিতে হলে ডান দিকের ব্যক্তিকে আগে দেয়া এবং এই ধারাবাহিকতা অনুযায়ীই শেষ করা।
দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ৫৬১৯
৯. উযু করার পর যে পাত্রে হাত দিয়ে পানি নেয়া হয়, সে পাত্রের অবশিষ্ট পানি কিবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে পান করা। এতে বিভিন্ন রোগ-ব্যাধি হতে আরোগ্য লাভ হয়। দেখুনঃ শামীঃ ১/১২৯, বুখারী শরীফঃ ৫৬১৬
১০. দুধ পান করার পূর্বে اَللّٰهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيْهِ وَ زِدْنَا مِنْهُ দু‘আ পড়া। দেখুনঃ আবু দাউদ শরীফঃ ৩৭৩০
১১. দুধ ব্যতীত অন্য কোন পানীয় দ্রব্য হলে وَ زِدْنَا এর পরে خَيْرًا বৃদ্ধি করা। দেখুনঃ আমালুল ইয়াওমি ওয়াল্লাইলাহঃ ১২৭
১২. যে ব্যক্তি পান করাবে তার সর্বশেষে পান করা। দেখুনঃ মুসলিম শরীফঃ ৬৮১
১৩. যমযমের পানি কিবলামুখী হয়ে اَللّٰهُمَّ اِنِّىْ اَسْئَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا وَ رِزْقًا وَاسِعًا وَ شِفَاءً مِّنْ كُلِّ دَاءٍ দু‘আ পড়ে দাঁড়িয়ে পান করা। দেখুনঃ মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাকঃ ৯১১২, সুনানে দারাকুতনীঃ ২৭১২, শামায়েলে তিরমিযী শরিফঃ ২/১৫

ঘুমানোর সুন্নাত ১৩টি

১. ইশার নামাযের পর যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি ঘুমাতে চেষ্টা করা, দুনিয়াবি কথা-বার্তা না বলা। দেখুনঃ বুখারী শরিফঃ ৫৪৭
২. উযু করে শয়ন করা। দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ৬৩১১
৩. শোয়ার পূর্বে বিছানা ৩ বার ভালভাবে ঝেড়ে নেয়া। দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ৬৩২০
৪. ঘুমানোর পূর্বে উভয় চোখে তিনবার করে সুরমা লাগানা দেখুনঃ শামায়েলে তিরমিযী শরিফঃ পৃঃ ৪
৫. ঘুমানোর পূর্বে তাসবিহে ফাতেমী سُبْحَانَ اللّٰهِ ৩৩ বার, اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ ৩৩ বার এবং اَللّٰهُ اَكْبَرُ ৩৪ বার পড়া। দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ৩১১৩
৬. সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক্ব ও সূরা নাস প্রত্যেকটা তিনবার করে পড়ে হাতে দম করে যতটুকু সম্ভব মাথা হতে পা পর্যন্ত সমস্ত শরীরে হাত মুছে দেয়া। তিনবার এরূপ করা। দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ৫০১৭
৭. ঘুমানোর সময় ডান কাতে কিবলামুখী হয়ে শোয়া সুন্নাত। উপুড় হয়ে শয়ন করতে নিষেধ করা হয়েছে। কারণ এভাবে শয়ন করাকে আল্লাহ তা‘আলা পছন্দ করেন না। দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ৬৩১৪, সহীহ ইবনে হিব্বানঃ ৫৫৪৯
৮. এরপর بِاسْمِكَ رَبِّىْ وَضَعْتُ جَنْبِىْ وَبِكَ اَرْفَعُهٗ، اِنْ اَمْسَكْتَ نَفْسِىْ فَاغْفِرْلَهَا وَاِنْ اَرْسَلْتَهَا فَاحْفَظْهَا بِمَا تَحْفَظُ بِهٖ عِبَادَكَ الصَّالِحِيْنَ দু‘আ পড়া বা اَللّٰهُمَّ بِاسْمِكَ اَمُوْتُ وَاَحْيٰ দু‘আটিও পড়া। দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ৬৩২০, দেখুনঃ তিরমিযী শরিফঃ ২/১৭৮
৯. ঘুমানোর পূর্বে কালেমায়ে ত্বয়্যিবাহ পড়া। দেখুনঃ যাদুল মাআদঃ ৪/২৪৬
১০. শয়নের পর কোন করানে ঘুম না আসলে اَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللّٰهِ التَّامَّةِ مِنْ غَضَبِهٖ وَعِقَابِهٖ وَ شَرِّ عِبَادِهٖ وَ مِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِيْنِ وَ اَنْ يَّحْضُرُوْنَ দুআটি পড়া। দেখুনঃ তিরমিযী শরিফঃ ৩৫২৮
১১. স্বপ্নে ভয়ংকর কিছু দেখলে, চক্ষু খুলে বাঁ দিকে হালকা থু-থু ফেলে اَعُوْذُ بِاللّٰهِ مِنَ الشَّيْطَانِ وَ مِنْ شَرِّ هٰذِهٖ الرُّؤْيَا দুুআ পড়া এবং পার্শ পরিবর্তন করে ঘুমানো। দেখুনঃ মুসলিম শরিফঃ ২২৬২
১২. সুযোগ হলে দুপুরে খানার পর কিছুক্ষণ কাইলূলাহ করা অর্থাৎ শয়ন করা। ঘুম আসুক বা না আসুক। দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ৯৩৯
১৩. ঘুমানোর পূর্বে সূরা আলিফ লাম মীম সিজদা এবং সূরায়ে মুলক পড়া। দেখুনঃ তিরমিযী শরিফঃ ২/১৭৮

ঘুম থেকে উঠার সুন্নাত ৪টি

১. ঘুম থেকে উঠেই উভয় হাতের তালুর দ্বারা মুখমণ্ডল এবং চক্ষুদ্বয়কে হালকাভাবে মর্দন করা, যাতে ঘুমের ভাব দূর হয়ে যায়।
দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ১৮৩
২. ঘুম হতে উঠার পর اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِىْ اَحْيَانَا بَعْدَ مَا اَمَاتَنَا وَ اِلَيْهِ النُّشُوْرُ দু‘আ পড়া। দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ৬৩২৪
৩. যখনই ঘুম হতে উঠা হয়, তখনই মিসওয়াক করা একটা সুন্নাত। উযু করার সময় উযুর সুন্নত হিসেবে মিসওয়াক করা সুন্নত।
দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ২৪৫, আবু দাউদ শরিফঃ ৪৭
৪. ঘুম থেকে উঠে তিনবার اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ এবং কালেমায়ে ত্বয়্যিবাহ পড়া। দেখুনঃ যাদুল মাআদঃ ৪/২৪৬

Loading