Rahmania Madrasah Sirajganj

হাইআতুল উলইয়ার কো-চেয়ারম্যান-সহ বেফাকের ৩ পদে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে

বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া-এর মজলিসে আমেলার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে আল্লামা সাজিদুর রহমানকে বেফাকের সিনিয়র সহ-সভাপতি মনোনীত করা হয়েছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিনি কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ শিক্ষা অথরিটি আল হাইয়াতুল উলিয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়ার কো- চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন।

গতকাল (৩০ অক্টোবর) শনিবার যাত্রাবাড়ীর কাজলায় বেফাকের নবনির্মিত ভবনের দ্বিতীয় তলায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বেফাকের মজলিসে আমেলার ১০৪ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের (বেফাক) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও আল হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যান আল্লামা মাহমুদুল হাসান।

আমেলার বৈঠকে হাটহাজারী মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মাওলানা ইয়াহিয়া, ফরিদাবাদ মাদরাসার মহাপরিচালক মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, বরুনার পীর মুফতী রশীদুর রহমান ফারুক বর্ণভী, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ সাদী-সহ নয়জনকে সহ-সভাপতির দায়িত্ব প্রদান করা হয়।

এছাড়াও মাওলানা ইয়াহিয়া ও মুফতি মনসুরুল হক-সহ চারজন খাস কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।

বেফাকের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও হায়াতুল উলিয়ার কো- চেয়ারম্যান পদে মাওলানা সাজেদুর রহমান ছাড়াও আরো অনেকের নাম প্রস্তাব করা হয়। তবে পাঁচ সদস্যের একটি টিম আল্লামা সাজিদুর রহমান-এর নাম প্রস্তাব করেন। পরবর্তীতে হাইয়াতুল উলিয়া চেয়ারম্যান ও বেফাকের সভাপতি আল্লামা মাহমুদুল হাসানের অনুমতিতে আল্লামা সাজিদুর রহমানকে বেফাকের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও হায়াতুল উলিয়ার কো- চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করা হয়।

বেফাকের মজলিসে আমেলার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আল্লামা নুরুল ইসলাম জিহাদী, মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজি, মাওলানা আব্দুর রহমান হাফেজ্জী, মাওলানা মাহফুজুল হক, আল্লামা সাজিদুর রহমান, মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া,মুফতি নেয়ামতুল্লাহ ফরিদী, মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজু, মুফতি ফয়জুল্লাহ-সহ আরো অনেকে।

প্রসঙ্গত, বেফাকের মজলিসে আমেলার বৈঠকে যিনি সিনিয়র সহ-সভাপতি মনোনীত হন তিনি একাধারে আল হাইয়াতুল উলিয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া-এর কো-চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৭ সাল থেকে আল হাইয়াতুল উলিয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া প্রতিষ্ঠার পর এখন পর্যন্ত সংস্থাটির তিনজন কো- চেয়ারম্যান ইন্তেকাল করেছেন। সর্বশেষ মুফতি ওয়াক্কাস রহ.-এর ইন্তেকালের পর শূন্য ছিল পদটি। অবশেষে প্রায় সাত মাস পর এই পদের দায়িত্ব পেলেন আল্লামা সাজিদুর রহমান।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের প্রায় সব মাদরাসার সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে বাংলাদেশ কওমি মাদরাসার সরকার স্বীকৃত সর্বোচ্চ অথরিটি ‘আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’। দেশের আঞ্চলিক পাঁচবোর্ড ও বেফাক বোর্ডের তাকমিল জামাতকে মাস্টার্স (এম এ) সমমান দেওয়ার জন্য গঠিত হয়েছিলো এ অথরিটি। বোর্ড গঠনের পর গত ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কওমি মাদরাসাকে মাস্টার্সের (এম. এ) স্বীকৃতি দেন।

প্রতিষ্ঠাকালীন এ অথরিটির চেয়ারম্যান ছিলেন আল্লামা শাহ আহমদ শফি রহ.। তিনি গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর ইন্তেকাল করেন। আর প্রতিষ্ঠাকালীন কো-চেয়ারম্যান ছিলেন মাওলানা আশরাফ আলী রহ.। তিনি ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর ইন্তেকাল করেন। এরপর যাত্রাবাড়ী মাদরাসার মুহতামিম মুহিউস সুন্নাহ আল্লামা মাহমুদুল হাসানকে বেফাকের (ভারপ্রাপ্ত) সভাপতি ও হাইয়াতুল উলইয়ার চেয়ারম্যান নির্বাচন করা হয়।

একই সময়ে বেফাকের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও হাইয়াতুল উলইয়ার কো-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী রহ.। তিনিও ইন্তেকাল করেছেন ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর। তার ইন্তেকালের পর সর্বশেষ এই পদে নিয়োগ পান মুফতি ওয়াক্কাস রহ.। তবে তিনিও গত ৩১ মার্চ (বুধবার) ভোর ৪.৩০ মিনিটে রাজধানী ঢাকার মহাখালী শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন।

পড়েছেনঃ 113 জন