Rahmania Madrasah Sirajganj

সব কিছুই আল্লাহ তাআলার নিআমত –মুহিউস সুন্নাহ হযরতওয়ালা শাহ আবরারুল হক হরদূঈ রহ.

হারদুঈ হযরত আল্লামা আবরারুল হক হক্কী রা. একবার আসরের পর মজলিস চলছিলো৷ হঠাৎ হালকা বৃষ্টি শুরু হলো৷ যার কারণে মজলিসের লোকজন ঘরে যেতে শুরু করলো৷ এই দৃষ্য দেখে হযরত বললেন, যদি কেউ এই অবস্থায় জিজ্ঞাস করে- তোমরা আল্লাহ তাআলার রহমত থেকে পলায়ন করতেছো, তখন কী উত্তর দিবে? বিভিন্ন জন বিভিন্ন আঙ্গিকে প্রত্যেকের আন্দাজে উত্তর দিলো৷ সর্বশেষে হযরতের কাছেই এর উত্তর জানতে চাওয়া হলো৷

উত্তরে হযরত বলেন, কথা হলো সবকিছুই মহান রাব্বুল আলামীনের রহমত৷ যেভাবে বৃষ্টি আল্লাহ তাআলার নিয়ামত ও রহমত, তেমনিভাবে ছায়াদার স্থানও আল্লাহ তাআলার নিয়ামত ও রহমত৷ রোদ যেমন নিয়ামত, ছায়াও তেমনি নিয়ামত৷ গরমও তার নিয়ামত৷ এখন কথা হলো, সবকিছুকেই মহান রাব্বুল আলামীনের রহমত ও নিয়ামত মনে করে প্রত্যেকের অবস্থাভেদে যে নিয়ামতটি বান্দার জন্যে উপযোগী হয় সেটি গ্রহণ করবে৷ বাকী নিয়ামতকে নিয়ামত বিশ্বাস করে, অন্য নিয়ামত গ্রহণ করা আদবের বিপরিত না৷ এবং সেটিকে আল্লাহ তাআলার নিয়ামত ও রহমত থেকে মুখ ফিরানো বলে না৷

উদাহরণস্বরুপ, জরুরতবশত রোদ থেকে ছায়ায় যাওয়া খেলাফে আদব নয়৷ এবং এমন করা তাঁর রহমত ও নিয়ামত থেকে মুখ ফিরানো বলে না৷ বরং দ্বিতীয় নিয়ামত ও রহমতকে অনুসন্ধান বলে৷ হ্যাঁ, যদি কেউ রোদ, বৃষ্টি, প্রচন্ড ঠান্ডা বা প্রচন্ড গরম কে মহান রাব্বুল আলামীনের নিয়ামত ও রহমত মনে না করে৷ এবং সে মনে করে এগুলো এখন সময় উপযোগী না এবং এখন দেয়া ঠিক হয়নি৷ এই মনোভাব দেখিয়ে যদি কেউ অন্য নিয়ামত তালাশ করে, তাহলে তার কাজটি ঠিক হয়নি৷ বরং সে মন্দকাজ করলো৷ আর এমন মনোভাবে অন্য নিয়ামত তালাশ করাও নিষেধ৷হযরত বলেন, বরং সে এই মনোভাব রাখবে যে, সবকিছুই মহান রাব্বুল আলামীনের রহমত ও নিয়ামত৷ কিন্তু আমি দুর্বল হওয়ার কারণে এই নিয়ামতটি বহন করতে পারতেছি না৷ এই জন্যে যে নিয়ামতটি আমার জন্যে বহন করা সহজ, সেই নিয়ামতটি খোঁজতেছি৷ এমন মনোভাবে অন্য যে নিয়ামতটি সহজ, তা খোঁজা ঠিক আছে এবং শয়ীরতেও অনুমতি আছে৷ এবং এক্ষেত্রে বলা যাবে না যে, সে নিয়ামত থেকে মুখ ফিরিয়েছে৷এক নিয়ামত থেকে অন্য নিয়ামতের দিকে মনোনিবেশ করছে৷ বরং এক নিয়ামত থেকে অন্য নিয়ামত পাওয়ার জন্যে দুআও করা চায়৷ যেমন, অসুস্থতা নিয়ামত৷ আবার সুস্থতাও নিয়ামত৷ এক্ষেত্রে সুস্থতার জন্যে দুআ করা এবং অসুস্থতা থেকে পানাহ চাওয়া বৈধ আছে৷ এবং এমনটি করা সঠিকও৷ আর দুআ এভাবে করা- হে আল্লাহ! এই অসুস্থতাও আপনার নিয়ামত৷ কিন্তু আমি দুর্বল হওয়ার কারণে এই নিয়ামতটি বহন করতে পারছি না৷ এই জন্যে আপনি আপনার নিজ অনুগ্রহ ও দয়ার দ্বারা আমাকে সুস্থতার নিয়ামত দান করুন৷ এবং অসুস্থ নামক নিয়ামতকে সুস্থতা নামক নিয়ামত দ্বারা পরিবর্তন করে দিন৷ এবং সুস্থতার জন্যে চিকিৎসা করাও সুন্নত৷ বরং অনেক সময় চিকিৎসা গ্রহণ করা জরুরী হয়ে যায়৷

হযরত বলেন, মোটকথা হলো- প্রত্যেক নিয়ামতকে নিয়ামত মনে করে, নিজের দুর্বলতার কারণে অন্য নিয়ামত গ্রহণ করা, আগের নিয়ামতের ব্যাপারে কোন ধরনের অভিযোগ-অনুযোগ না করে- সহিহ আছে৷ এবং এমন করাই উপযোগী৷ তাতে কোন ধরনের খারাপতা নেই৷ এই কাজকে মন্দ বলার কোন সুযোগ নেই৷

পড়েছেনঃ 89 জন