আরবী তারিখঃ এখন ৫ শাওয়াল ১৪৪৫ হিজরি মুতাবিক ১৪ এপ্রিল ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, রোজ রবিবার, সময় রাত ৮:৩৭ মিনিট
এলানঃ-
১৪৪৫-১৪৪৬ হিজরী, ২০২৪-২০২৫ ইং এর মাসিক সুন্নতী ইজতেমা সমূহ
* ২৫ এপ্রিল ২৪ ইং বৃহস্পতিবার মাগরিব-ইশা মাদরাসার সকলের জন্য
* ৩০-৩১ মে ২৪ ইং বৃহস্পতিবার ফজর-শুক্রবার মাগরিব পর্যন্ত সালেকীনদের জন্য
* ২৭ জুন ২৪ ইং বৃহস্পতিবার মাগরিব-ইশা মাদরাসার সকলের জন্য
* ২৫-২৬ জুলাই ২৪ ইং বৃহস্পতিবার ফজর-শুক্রবার মাগরিব পর্যন্ত সালেকীনদের জন্য
* ২৯ আগষ্ট ২৪ ইং বৃহস্পতিবার মাগরিব-ইশা মাদরাসার সকলের জন্য
* ২৬-২৭ সেপ্টেম্বর ২৪ ইং বৃহস্পতিবার ফজর-শুক্রবার মাগরিব পর্যন্ত সালেকীনদের জন্য
* ২৪ অক্টোবর ২৪ ইং বৃহস্পতিবার মাগরিব-ইশা মাদরাসার সকলের জন্য
* ২৮-২৯ নভেম্বর ২৪ ইং বৃহস্পতিবার ফজর-শুক্রবার মাগরিব পর্যন্ত সালেকীনদের জন্য
* ২৬ ডিসেম্বর ২৪ ইং বৃহস্পতিবার মাগরিব-ইশা মাদরাসার সকলের জন্য
* ৩০-৩১ জানুয়ারী ২৫ ইং বৃহস্পতিবার ফজর-শুক্রবার মাগরিব পর্যন্ত সালেকীনদের জন্য
* ২৭ ফেব্রুয়ারী ২৫ ইং বৃহস্পতিবার মাগরিব-ইশা মাদরাসার সকলের জন্য
* মার্চ ২৫ ইং এজতেমা সালেকীনদের জন্য

রহমানিয়া ইমদাদুল উলুম মাদরাসা সিরাজগঞ্জ এর লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মাঝে মৌলিক ব্যবধান

হযরত দা. বা. বলেনঃ রহমানিয়া ইমদাদুল উলুম মাদরাসা সিরাজগঞ্জ যেহেতু বিশ্ব বিখ্যাত দারুল উলুম দেওবন্দের একটি শাখা বা দারুল উলুম দেওবন্দের আদর্শে আদর্শিত, তাই দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য উদ্দেশ্যই রহমানিয়া ইমদাদুল উলুম মাদরাসা সিরাজগঞ্জ এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। এর বিস্তারিত নিচে উল্লেখ করা হলো।

১. দারুল উলুম দেওবন্দ এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের অনুকরণে এবং মৌলিক পাঠ্যসূচির অনুসরণে, আরবী ও দ্বীনি ইলম অর্থাৎ উলুমুল কুরআন, উলুমুল হাদিস, উলুমুত তাফসীর, উলুমুল ফিকহ, উলুমুল আকাইদ, উলুমুল কালাম ও অপরাপর ধর্মীয় বিষয়াদি মুসলমানদিগকে শিক্ষা দান করা।
২. সাথে সাথে অন্যান্য উলুম ও ফুনুন শিক্ষা প্রদান করা, যেগুলো আরবি ভাষা শেখা কিংবা দ্বীনি উদ্দেশ্য পুরো করার ক্ষেত্রে জরুরি ও সহায়ক হয়, ঠিক তেমনি ভাবে উর্দু, ফারসি, বাংলা ও ইংরেজি ইত্যাদি ভাষা প্রয়োজনীয় পরিমাণ শিক্ষা দেয়া।
৩. ইশাআতে দ্বীন বা ইসলামের ব্যাপক প্রচার-প্রসার ও তাহাফফুযে ইসলাম বা ইসলামের সঠিক হিফাজতের খিদমাত মৌখিক ওয়াজ-নসিহত ও লেখনি দ্বারা আঞ্জাম দেয়া এবং দ্বীনি তালিম-তরবিয়ত ও তাবলীগের মাধ্যমে মুসলমানদের মধ্যে খইরুল কুরুন তথা ইসলামের সোনালী যুগ ও সালফে সালেহীনের ন্যায় ইসলামি আখলাক, আমাল ও আবেগ অনুভূতি সৃষ্টি করা। সর্বোপরি একদল মানুষকে সাহাবায়ে কিরাম রা. গনের আদর্শে আদর্শিত হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টায় মগ্ন থাকা।
৪. রসূলুল্লাহ সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সকল সুন্নত সমূহের ব্যাপক প্রচার-প্রসার করা। মাদরাসা-মসজিদ, ঘর-বাড়ি, অফিস-আদালতসহ পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে সকল সুন্নত সমূহের মশকে আমলী বা ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ (প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং) এর মাধ্যমে ব্যাপকভাবে সুন্নতের খেদমত করার চেষ্টা অব্যাহত রাখা। বিশেষ ভাবে আযান ও ইকামত, নামায ও তিলাওয়াত, ইত্যাদি শরীয়তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সমূহ কিভাবে উম্মত সুন্নত তরিকায় করতে পারে এর কার্যক্রম বাস্তবায়ন করার ফিকর করতে থাকা।
৫. রহমানিয়া ইমদাদুল উলুম মাদরাসা সিরাজগঞ্জ এর প্রত্যেক ছাত্র-উস্তাদকে শুধু ত্বলিবে ইলম হিসেবে নয় বরং ত্বলিবে ইলম ও আমল হিসাবে তৈরি করার চেষ্টা করা। মাদরাসার ভেতরগত ও বহিরাগত পরিবেশকে ইলমে নবুওয়াত (তালীম) এর পাশাপাশি নুরে নবুওয়াত (তরবিয়ত) দ্বারা সাজানোর চেষ্টা করতে থাকা। ছাত্র-উস্তাদসহ মাদরাসার সাথে সংশ্লিষ্ট সকলেই বিশেষভাবে মাদরাসার দোস্ত-আহবাবগণ কিভাবে আল্লাহওয়ালা হতে পারে এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের চেষ্টা করতে থাকা।
৬. নিজেদের মনগড়া চিন্তা-চেতনা বাদ দিয়ে পূর্ববর্তী আসলাফ ও আকাবীরগনের চিন্তা-চেতনা বাস্তবায়ন করার ফিকর করা। সর্বময় জনসাধারণকে দুনিয়া থেকে আখেরাতমুখী, দুনিয়ার প্রকাশ্যমান বস্তুসমূহ থেকে আমলমুখী ও মাখলুক থেকে আল্লাহমুখী করার ধারা অব্যাহত রাখা।
৭. রহমানিয়া ইমদাদুল উলুম মাদরাসা সিরাজগঞ্জ এর আশপাশের এলাকা ও এলাকার বাইরে অত্র মাদরাসার আদর্শ ও নীতি অনুসারে দ্বীনি উলুম এর প্রচার-প্রসার ঘটানোর লক্ষ্যে মহল্লা ভিত্তিক দ্বীনি মকতব-মাদরাসা কায়েম করা, যেন জনসাধারণ এবং শিশু-কিশোররা উক্ত মকতব-মাদরাসা থেকে পবিত্র কুরআনে কারীম সহিহ ও শুদ্ধভাবে শিখতে পারে, আমল করতে পারে।

রহমানিয়া ইমদাদুল উলুম মাদরাসা সিরাজগঞ্জ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মাঝে মৌলিক ব্যবধান

হযরত দা. বা. বলেনঃ বাংলাদেশের অন্যান্য কওমী মাদরাসা এবং আমাদের রহমানিয়া ইমদাদুল উলুম মাদরাসা সিরাজগঞ্জ এর মাঝে খুব একটা পার্থক্য নেই। আমরা এখন কওমী মাদরাসা না বলে দেওবন্দী সিলসিলার দ্বীনি মাদরাসা বলা শুরু করেছি। কেননা কতজন কতভাবে কওমী শব্দ ব্যবহার করে কতকিছু করছে আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন। আমাদের রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ এর সাথে অন্যান্য কওমী প্রতিষ্ঠানগুলোর সামান্য কিছু পার্থক্য তো অবশ্যই আছে, সেটা হলোঃ
১. অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে মকতব থেকে লেখাপড়া করানো হয়, ফলে সেখানে অনেক ছাত্র। আর আমাদের এখানে দাওরায়ে হাদিস পর্যন্ত শুধুমাত্র কয়েকটি বিভাগ রয়েছে। ফলে ছাত্রসংখ্যা বেশ কম। আমার মন-মানসিকতা ছিল, প্রতি বিভাগে ৫-১০ জন করে ছাত্র হলেই যথেষ্ট হয়ে যাবে। কারন বেশি ছাত্র মাকসাদ নয়, বরং কিছু ছাত্র-উস্তাদ মিলে একটি মুত্তাবেয়ে সুন্নত জামাআত তৈরী করবো। একটি আল্লাহওয়ালা জামাআত তৈরী করবো ইনশাআল্লাহ। মেসালী জামাআত, মাকসাদ রেযায়ে ইলাহী।
২. দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে শুধুমাত্র তালীমের প্রতি বেশ জোর দেওয়া হয়, লেখা-পড়ার মান উন্নয়ন খুব জোর দিয়েই করা হয়, কিন্ত তরবিয়াতের প্রতি কম গুরুত্ব দেয়া হয়। আর আমাদের এখানে তালীমের পাশাপাশি তরবিয়াতেরও সমান গুরুত্ব রয়েছে। ইলম-আমলের সমন্বয় বা তালীম-তরবিয়াতের সমান গুরুত্ব, এটা রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ এর অনন্য বৈশিষ্ট্য।
৩. রহমানিয়া ইমদাদুল উলুম মাদরাসা সিরাজগঞ্জ এর সার্বিক কার্যক্রমকে নিজেদের মাঝে সিমাবদ্ধ না রেখে, বরং পুরো উম্মতের মাঝে ছরিয়ে দেয়া। তাই শুরু থেকেই তালীম-তরবিয়াতের সাথে সাথে দাওয়াতেরও ব্যাপক গুরুত্ব রয়েছে।
৪. প্রচলিত কালেকশন করা থেকে আমরা সম্পূর্ন বিরত থাকি। আমাদের শাইখ হযরতওয়ালা শাহ মুরশিদুস সুন্নাহ দা. বা. বলেনঃ “তোমরা মাদরাসাওয়ালারা যদি পবিত্র কুরআনে কারিমের সহিহ শুদ্ধ তিলাওয়াত ও এর মশক জারী রাখো আর সকল ক্ষেত্রে সুন্নতের পাবন্দ করো, তাহলে মাদরাসাওয়ালদের কোন প্রকারের অভাব থাকবে না। কোথায় থেকে আসবে এটা কল্পনাতেও আসবে না। যদি বিশ্বাস না হয় করে দেখো” আমরা হযরতওয়ালা শাহ মুরশিদুস সুন্নাহ দা. বা. এর নির্দেশনা মানার চেষ্টা করে যাই, এই নির্দেশনা মানাই মাদরাসার ব্যয় নির্বাহের মূল উৎস। চাইতে যদি হয় আল্লাহ তাআলার কাছে চাইবো, কোন দরবারে ঘুরতে হলে আল্লাহ তাআলার দরবার সব সময় খোলা। বেহুদা মানুষের দরবারে গিয়ে বেইজ্জতির বোঝা কেন উঠাবো? আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ তাআলার রহমতে আমরা ইজ্জতের জীবন-যাপন করছি, ইজ্জতের খানা খাচ্ছি, মাদরাসা খুব ভালোই চলছে। এক্ষেত্রে আমরা হযরত হাকীমুল উম্মত রহ. এর আল ইলমু ওয়াল উলামা, তুহফাতুল উলামা ও উসুলে হযরতওয়ালা হারদুয়ী রহ.কে মাদরাসা পরিচালনার মূল হিসেবে রেখেছি, থাকবে ইনশাআল্লাহ।
৫. বিভিন্ন মাদরাসায় বিশেষ ব্যক্তিদের মনগড়া চিন্তা-চেতনা বাস্তবায়ন হয়, পক্ষান্তরে আমাদের এখানে নিজেদের মনগড়া চিন্তা-চেতনা বাদ দিয়ে পূর্ববর্তী আসলাফ ও আকাবীরগনের চিন্তা-চেতনাকেই মূল মনে করে এর মধ্যেই সিমাবদ্ধ থাকা হয়।

উসুলে হাশত গানাহ বা দারুল উলুম দেওবন্দের আট মুলনীতি

হযরত দা. বা. বলেনঃ উসুলে হাশত গানাহ বা দারুল উলুম দেওবন্দের আট মুলনীতি রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জে পরিপূর্ন ভাবে পালন করার চেষ্টা করা হয়। আমরা মনে করি রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ দারুল উলুম দেওবন্দের একটি শাখ বা ডাল।

১. اصل اول یہ ہے کہ تا مقدور کارکنان مدرسہ کی ہمیشہ تکثیر چندہ پر نظر رہے، آپ کوشش کریں اور وں سے کرائیں خیراندیشان کو یہ بات ہمیشہ ملحوظ رہے۔
অর্থঃ যথা সম্ভব মাদরাসার আসাতিযায়ে কিরাম ও মুলাযিমদের অধিক হারে চাঁদা আদায়ের বিষয়টির প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে। নিজেও এর জন্য চেষ্টা করবে। অন্যের মাধ্যমেও চেষ্টা করাতে হবে। মাদরাসার হিতাকাঙ্খীদেরও এ বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে।
২. ابقاء طعام بلکہ افزائش طعام طلبہ میں جس طرح ہوسکے خیراندیشان مدرسہ ساعی رہیں۔
অর্থঃ যে ভাবেই হোক মাদরাসার ছাত্রদের খানা চালু রাখতে হবে এবং ক্রমান্বয়ে তা বৃদ্ধি করার ব্যাপারে মাদরাসার হিতাকাঙ্খী ও কল্যাণকামীদের সর্বদা সচেষ্ট থাকতে হবে।
৩. مشیران مدرسہ کو ہمیشہ یہ بات ملحوظ رہے کہ مدرسہ کی خوبی اور اسلوبی ہو، اپنی بات کی پچ نہ کی جائے، خدا نخواستہ جب اس کی نوبت آئے گی کہ اہل مدرسہ اہل مشورہ کو اپنی مخالفتِ رائے اور اوروں کی رائے کے موافق ہونا ناگوار ہو تو پھر اس مدرسہ کی بناء میں تزلزل آجائے گا۔ القصہ تہِ دل سے بروقت مشورہ اور نیز اس کے پس و پیش میں اسلوبیٴ مدرسہ ملحوظ رہے، سخن پروری نہ ہو، اور اس لیے ضروری ہے کہ اہل مشورہ اظہارِ رائے میں کسی وجہ سے متامل نہ ہوں اور سامعین بہ نیت نیک اس کو سنیں، یعنی یہ خیال رہے کہ اگر دوسرے کی بات سمجھ میں آجائے گی تو اگرچہ ہمارے مخالف ہی کیوں نہ ہو بدل و جان قبول کریں گے اور نیز اس وجہ سے یہ ضروری ہے کہ مہتمم امورِ مشورہ طلب میں اہل مشورہ سے ضرور مشورہ کیا کرے خواہ وہ لوگ ہوں جو ہمیشہ مشیرِ مدرسہ رہتے ہیں یا کوئی وارد و صادر جو علم و عقل رکھتا ہو اور مدرسوں کا خیر اندیش ہو، اور نیز اسی وجہ سے ضروری ہے کہ اگر اتفاقاً کسی وجہ سے کسی اہل مشورہ سے مشورہ کی نوبت نہ آئے اور بقدر ضرورت اہل مشورہ کی مقدار معتد بہ سے مشورہ کیا گیا ہو تو پھر وہ شخص اس وجہ سے ناخوش نہ ہو کہ مجھ سے کیوں نہ پوچھا، ہاں اگر مہتمم نے کسی سے نہ پوچھا تو پھر اہل مشورہ معترض ہوسکتے ہیں۔
অর্থঃ মাদরাসার উপদেষ্টাগণকে মাদরাসার উন্নতি, অগ্রগতি, এবং সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার দিকে সর্বদাই লক্ষ্য রাখতে হবে। স্বীয় মত প্রতিষ্ঠার একগুয়েমী যাতে কারো মাঝে সৃষ্টি না হয় এদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। আল্লাহ না করুন যদি এমন অবস্থা দেখা দেয় যে, উপদেষ্টাগণ স্ব-মতের বিরোধিতা কিংবা অন্যের মতামতকে সমর্থন করার বিষয়টি সহনশীল ভাবে গ্রহণ করতে না পারেন; তা’হলে এ প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিমূল নড়বড়ে হয়ে পড়বে। আর যথাসম্ভব মুক্ত মনে পরামর্শ দিতে হবে এবং তার অগ্র-পশ্চাতে মাদরাসার শৃংখলা রক্ষার বিষয়টি লক্ষণীয় হতে হবে। স্ব-মত প্রতিষ্ঠার মনোবৃত্তি না থাকতে হবে। এজন্য পরামর্শ দাতাকে মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে তার মতামত গ্রহণীয় হওয়ার ব্যাপারে অবশ্যই আশাবাদী না হতে হবে। পক্ষান্তরে শ্রোতাদেরকে মুক্তমন ও সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে তা শ্রবণ করতে হবে। অর্থাৎ এরুপ মনোবৃত্তি রাখতে হবে যে, যদি অন্যের মত যুক্তিযুক্ত ও বোধগম্য হয়, তা হলে নিজের মতের বিপরীত হলেও তা গ্রহণ করে নেওয়া হবে। আর মুহতামিম বা পরিচালকের জন্য পরামর্শ সাপেক্ষে সম্পাদনীয় বিষয়ে উপদেষ্টাগণের সাথে পরামর্শ করে নেওয়া অবশ্যই জরুরী হবে। তবে মুহতামিম নিয়মিত উপদেষ্টাদের থেকেও পরামর্শ গ্রহণ করতে পারবেন কিংবা তাৎক্ষণিক ভাবে উপস্থিত এমন কোন বিদগ্ধ জ্ঞানী আলেম থেকেও পরামর্শ গ্রহণ করতে পারবেন যিনি এ সকল দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের জন্য হিতাকাঙ্খী ও কল্যাণকামী। তবে যদি ঘটনাক্রমে উপদেষ্টা পরিষদের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্যের সাথে পরামর্শ ক্রমে কাজ করে ফেলা হয় তাহলে কেবল এজন্য অসন্তুষ্ট হওয়া উচিৎ হবে না যে, আমার সাথে পরামর্শ করা হল না কেন? কিন্তু যদি মুহতামিম কারো সঙ্গেই পরামর্শ না করেন তা’হলে অবশ্যই উপদেষ্টা পরিষদ আপত্তি করতে পারবে।
৪. یہ بات بہت ضروری ہے کہ مدرسین باہم متفق المشرب ہوں اور مثل علماء روزگار خود بیں اور دوسروں کے درپئے توہین نہ ہوں،خدا نہ خواستہ جب اس کی نوبت آئے گی تو پھر اس مدرسہ کی خیر نہیں۔
অর্থঃ মাদরাসার সকল মুদাররিসীনকে অবশ্যই সমমনা ও একই চিন্তা চেতনার অনুসারী হতে হবে। সমকালীন দুনিয়াদার আলেমদের ন্যায় নিজ স্বার্থ প্রতিষ্ঠা ও অন্যকে হেয় প্রতিপন্ন করার দুরভিসন্ধিতে লিপ্ত না হতে হবে। আল্লাহ না করুন যদি কখনো এরুপ অবস্থা দেখা দেয়, তা’হলে মাদরাসার জন্য এটি মোটেই শুভ ও কল্যাণকর হবে না।
৫. خواندگی مقررہ اس انداز سے ہو جو پہلے تجویز ہوچکی ہو یا بعد میں کوئی انداز مشورے سے تجویز ہو ورنہ یہ مدرسہ اول تو خوب آباد نہ ہوگا اور اگر آباد ہوگا تو بے فائدہ ہوگا۔
অর্থঃ পূর্ব থেকে যে পাঠ্যসূচী নির্ধারিত রয়েছে কিংবা পরবর্তীতে পরামর্শের ভিত্তিতে যে পাঠ্যসূচী নির্ধারণ করা হবে, তা যাতে সমাপ্ত হয়; এই ভিত্তিতেই পাঠদান করতে হবে। অন্যথায় এ প্রতিষ্ঠান সুপ্রতিষ্ঠিত হবেই না, আর যদি হয়ও তবু তা ফায়দা জনক হবে না।
৬. اس مدرسہ میں جب تک آمدنی کی کوئی سبیل یقینی نہیں جب تک یہ مدرسہ ان شاء اللہ بشرط توجہ الی اللہ اسی طرح چلے گا اور اگر کوئی آمدنی ایسی یقینی حاصل ہوگئی جیسی جاگیر یا کارخانہ تجارت یا کسی امیر محکم القول کا وعدہ تو پھر یوں نظر آتا ہے کہ یہ خوف و رجاء جو سرمایہ رجوع الی اللہ ہے ہاتھ سے جاتا رہے گا اور امداد غیبی موقوف ہوجائے گی اور کارکنوں میں باہم نزاع پیدا ہوجائے گا، القصہ آمدنی اور تعمیر وغیرہ میں ایک نوع کی بے سروسامانی ملحوظ رہے۔
অর্থঃ এ প্রতিষ্ঠানের জন্য যতদিন পর্যন্ত কোন স্থায়ী আয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হবে; ততদিন পর্যন্ত আল্লাহর প্রতি নির্ভরশীলতার শর্তে তা এমনি ভাবেই চলতে থাকবে ইনশাআল্লাহ। কিন্তু যদি স্থায়ী আয়ের কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, যেমন কোন জায়গীর লাভ, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান, মিল ফ্যাক্টরী গড়ে তোলা, কিংবা বিশ্বস্ত কোন আমীর উমারার অনুদানের অঙ্গীকার ইত্যাদি, তা’হলে এরুপ মনে হচ্ছে যে, আল্লাহর প্রতি ভয় ও আশার দোদুল্যমান অবস্থা; যা মূলতঃ আল্লাহ অভিমুখী হওয়ার মূল পুঁজি, তা হাত ছাড়া হয়ে যাবে এবং গায়েবী সাহায্যের দ্বার রুদ্ধ হয়ে যাবে। তদুপরী প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও কর্মচারীগণের মাঝে পারস্পরিক বিদ্বেষ ও কলহ বিবাদ দেখা দিবে। বস্তুতঃ আয়- আমদানী ও গৃহাদি নির্মাণের বিষয়ে অনেকটাই অনাড়ম্বরতা ও উপায় উপকরণহীন অবস্থা অবলম্বন করার প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে।
৭. سرکار کی شرکت اور امراء کی شرکت بھی زیادہ مضر معلوم ہوتی ہے۔
অর্থঃ সরকার ও আমীর উমারাদের সংশ্লিষ্টতাও এ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতির কারণ হবে বলে মনে হচ্ছে।
৮. تامقدور ایسے لوگوں کا چندہ موجب برکت معلوم ہوتا ہے جن کو اپنے چندہ سے امید ناموری نہ ہو، بالجملہ حسن نیت اہل چندہ زیادہ پائیداری کا سامان معلوم ہوتا ہے۔
অর্থঃ যথাসম্ভব এমন ব্যক্তিদের চাঁদাই প্রতিষ্ঠানের জন্য অধিক বরকতময় বলে মনে হচ্ছে; যাদের চাঁদা দানের মাধ্যমে সুখ্যাতি লাভের প্রত্যাশা থাকবে না। বস্তুতঃ চাঁদা দাতাগণের নেক নিয়্যাত প্রতিষ্ঠানের জন্য অধিক স্থায়ীত্বের কারণ হবে বলে মনে হয়।