আরবী তারিখঃ এখন ১৫ জিলকদ ১৪৪৫ হিজরি মুতাবিক ২৪ মে ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, রোজ শুক্রবার, সময় দুপুর ১:৩৫ মিনিট
এলানঃ-
>>> ১৪৪৫-১৪৪৬ হিজরী, ২০২৪-২০২৫ ইং তে সালেকীনদের জন্য সুন্নতী ইজতেমা সমূহ <<<
* মাহে যিলক্বদের প্রথম সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ফজর থেকে শুক্রবার মাগরিব পর্যন্ত। (আসন্ন)
* মাহে রবিউল আউয়ালের শেষ সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ফজর থেকে শুক্রবার মাগরিব পর্যন্ত। (আসন্ন)
* মাহে রজবের প্রথম সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ফজর থেকে শুক্রবার মাগরিব পর্যন্ত। (আসন্ন)
.....................................................................
>> ১৪৪৫-১৪৪৬ হিজরী, ২০২৪-২০২৫ ইং তে মজলিসে আইম্মাহ সমূহ (ইমাম-মুআজ্জিনদের জন্য) <<<
* মাহে শাউয়ালের শেষ শনিবার সকাল ৮টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত। (হয়ে গেছে)
* মাহে মুহাররমের শেষ শনিবার সকাল ৮টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত। (আসন্ন)
* মাহে রবিউস সানীর শেষ শনিবার সকাল ৮টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত। (আসন্ন)
* মাহে রজবের শেষ সপ্তাহে বিষয় ভিত্তিক সেমিনার। (আসন্ন)
*** প্রতি আরবী মাসের শেষ বৃহস্পতিবার মাদরাসার সকলের জন্য মাসিক সুন্নতী ইজতেমা।
*** প্রতি বছর ২০ শাবান থেকে ৩০ রমাযানুল মুবারক পর্যন্ত ৪০ দিন, রমাযানুল মুবারক এর প্রথম ১৫ দিন, রমাযানুল মুবারক এর শেষ দশক হযরাতে সালেকীনদের জন্য এতেকাফ।

যে সুন্নতটি জিন্দা করলে নবীজীর সাথে জান্নাতে থাকা যাবে

عن أَنَس بْن مَالِكٍ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ يَا بُنَىَّ إِنْ قَدَرْتَ أَنْ تُصْبِحَ وَتُمْسِيَ لَيْسَ فِي قَلْبِكَ غِشٌّ لأَحَدٍ فَافْعَلْ ‏”‏ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ لِي ‏”‏ يَا بُنَىَّ وَذَلِكَ مِنْ سُنَّتِي وَمَنْ أَحْيَا سُنَّتِي فَقَدْ أَحَبَّنِي ‏.‏ وَمَنْ أَحَبَّنِي كَانَ مَعِي فِي الْجَنَّةِ ‏”‏ ‏.‏

হযরত আনাস ইবনে মালিক রাদিআল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিতঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বলেছেনঃ হে বৎস! তুমি যদি সকাল-সন্ধ্যা এমনভাবে কাটাতে পারো যে, তোমার অন্তরে কারো প্রতি কোনো রকম বিদ্বেষ নেই, তাহলে তাই করো। তিনি আমাকে পুনরায় বললেনঃ হে বৎস! এটা হলো আমার সুন্নত। আর যে ব্যক্তি আমার সুন্নতকে জীবিত করল সে আমাকেই ভাল বাসল, আর যে ব্যক্তি আমাকে ভালবাসল সে তো জান্নাতে আমার সাথেই থাকবে। (জামে’ তিরমিযি, হাদিস নং ২৬৭৮)

হাদিসটি ভালো করে লক্ষ্য করলে দেখা যায়: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর একটি সুন্নত জিন্দা করলে তাঁর সাথে জান্নাতে বসবাস করার মতো সৌভাগ্যের সুসংবাদ দান করেছেন। কিন্তু হাদিসটিতে প্রথমেই যে সুন্নতটি উল্লেখ করে এ সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে তা হলো দিনরাত কখনোই কারো প্রতি অন্তরে কোনো রকম হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ না করা।

অথচ আমরা যারা সুন্নতকে জিন্দা করার ওয়াজ করি তারা নিজেরাও অনেকেই মারাত্মক হিংসা বিদ্বেষের মধ্যে ডুবন্ত আছি। ইহইয়ায়ে সুন্নত করতে গিয়েও পড়ে গেছি সুন্নত বিরোধী মানসিকতার ঘূর্ণিজালে।

আত্মসমালোচনা করতে গেলে একথা বলতে দ্বিধা নেই যে আমাদের মাদ্রাসাগুলোর পরিবেশও এখন কিছুটা এমন হয়ে গেছে যে একজন ওস্তাদ অনুপস্থিত থাকলে বাকিরা সবাই তার প্রতি নিজেদের প্রতি হিংসার গীবত নামক কথামালার প্রস্তর নিক্ষেপ করতে থাকে। অথচ যারা এমন করেন তাদের অনুপস্থিতিতে অন্যরাও তার ব্যাপারে ঠিক এমনটিই করেন। মাআযাল্লাহ্ ! যার কারনে আজ মাদ্রাসাগুলোতে ওস্তাদদের মধ্যে তৈরি হয়েছে গ্রুপিং ; আর তার বাজে প্রভাব পড়তেছে তালিবেইলমদের মাঝেও।

আল্লাহ তা’আলা সবাইকে হিফাজত করুন। আর এর থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপরোল্লেখিত সুন্নতকে জিন্দা করার বিকল্প কোনো পথ নেই। আসুন! আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সালামের মৃত এসুন্নতকে জিন্দা করতে চেষ্টা করি এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জবানে মুবারকে ঘোষিত একশত শহীদের সওয়াব হাসিল করি। পাশাপাশি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে জান্নাতে বসবাস করবার সৌভাগ্য অর্জন করার যোগ্য হয়ে উঠি।

Loading