আরবী তারিখঃ এখন ১৫ জিলকদ ১৪৪৫ হিজরি মুতাবিক ২৪ মে ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, রোজ শুক্রবার, সময় দুপুর ১২:৩২ মিনিট
এলানঃ-
>>> ১৪৪৫-১৪৪৬ হিজরী, ২০২৪-২০২৫ ইং তে সালেকীনদের জন্য সুন্নতী ইজতেমা সমূহ <<<
* মাহে যিলক্বদের প্রথম সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ফজর থেকে শুক্রবার মাগরিব পর্যন্ত। (আসন্ন)
* মাহে রবিউল আউয়ালের শেষ সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ফজর থেকে শুক্রবার মাগরিব পর্যন্ত। (আসন্ন)
* মাহে রজবের প্রথম সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ফজর থেকে শুক্রবার মাগরিব পর্যন্ত। (আসন্ন)
.....................................................................
>> ১৪৪৫-১৪৪৬ হিজরী, ২০২৪-২০২৫ ইং তে মজলিসে আইম্মাহ সমূহ (ইমাম-মুআজ্জিনদের জন্য) <<<
* মাহে শাউয়ালের শেষ শনিবার সকাল ৮টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত। (হয়ে গেছে)
* মাহে মুহাররমের শেষ শনিবার সকাল ৮টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত। (আসন্ন)
* মাহে রবিউস সানীর শেষ শনিবার সকাল ৮টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত। (আসন্ন)
* মাহে রজবের শেষ সপ্তাহে বিষয় ভিত্তিক সেমিনার। (আসন্ন)
*** প্রতি আরবী মাসের শেষ বৃহস্পতিবার মাদরাসার সকলের জন্য মাসিক সুন্নতী ইজতেমা।
*** প্রতি বছর ২০ শাবান থেকে ৩০ রমাযানুল মুবারক পর্যন্ত ৪০ দিন, রমাযানুল মুবারক এর প্রথম ১৫ দিন, রমাযানুল মুবারক এর শেষ দশক হযরাতে সালেকীনদের জন্য এতেকাফ।

যে নিয়ামতের কথা আমাদের কল্পনাতেও আসেনা –হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ.

হারদুঈ হযরত আল্লামা আবরারুল হক হক্কী রাহিমাহুল্লাহু তাআলা বলেন, যে সময় হযরত থানবী রাহিমাহুল্লাহু তাআলা চিকিৎসার জন্যে লাখনৌ অবস্থান করছিলেন, তখন আমার খুজলি-পাঁচড়া হওয়ায় ছুটি নিয়েছিলাম৷ কিন্তু আমি হারদুঈ না এসে লাখনৌ চলে যাই৷আমার পিতাও গিয়েছিলেন৷ ঐসময়ে একজন যুবক৷ যার বয়স চল্লিশ হবে৷ হযরত থানবী রাহিমাহুল্লাহু তাআলার কাছে কিছু বিষয় জানার অনুমতি চাইলো৷ তখন থানবী রাহিমাহুল্লাহু তাআলার বয়স ছিলো আশি বছর৷ হযরত থানবী রাহিমাহুল্লাহু তাআলা বললেন, ঠিক আছে প্রশ্ন করো৷ যদি উত্তর জানা থাকে, তাহলে বলবো৷ অন্যথায় যে পারবে এমন বড়ো কারো ঠিকানা বলে দিবো৷ তখন যুবক বললো- খানা খাওয়ার শেষের যে দুআটি, أَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِيْ أَطْعَمَنَا وَ سَقَانَا وَ جَعَلَنَا مِنَ الْمُسْلِمِيْنَ – প্রশংসা আল্লাহ তাআলার, যিনি আমাদেরকে খাওয়ালেন৷ পান করালেন৷ এবং আমাদেরকে মুসলমান বানালেন৷এই দুআর প্রথম দুইটি অংশ أَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِيْ أَطْعَمَنَا وَ سَقَانَا তো খাবার বিষয়ের সাথে মিল আছে বুঝা যায়৷ কিন্তু দুআর শেষ অংশটিوَ جَعَلَنَا مِنَ الْمُسْلِمِيْن তো খাবারের আলোচ্য বিষয়ের সাথে মিল আছে বুঝা যায় না৷ হযরত থানবী রাহিমাহুল্লাহু তাআলা যুবকের এমন অসাধারণ প্রশ্ন শুনে খুশি হয়ে বললেন- এমন প্রশ্ন তো আলেমদের থেকে হওয়া উচিত ছিলো৷ অনেক চমৎকার প্রশ্ন৷হযরত থানবী রাহিমাহুল্লাহু তাআলা যুবকের প্রশ্নের উত্তরে বললেন- নিয়ামতসমূহ দুই প্রকার৷ এমন নিয়ামত যা সর্বদাই থাকে৷ যেমন ঈমান ও ইসলাম দুটি নিয়ামত৷ এই দুটি নিয়ামত এমন, যা মানুষের সাথে সর্বদাই থাকে৷এমন নিয়ামত যার মধ্যে বিচ্ছিন্নতা আসে৷ যেমন খাওয়া ও পান করা দুটি নিয়ামত৷ এই দুটি নিয়ামত এমন, যা মানুষের সাথে সর্বদাই থাকে না৷ বরং প্রয়োজনবশত মানুষ এসব নিয়ামত দ্বারা উপকৃত হয়৷তারপর বললেন, মানুষের অবস্থা হলো- যে সমস্ত নিয়ামত সর্বদাই থাকে- সেই নিয়ামতের অনুভূতি মানুষের মধ্যে থাকে না৷ অনেক সময় মানুষ সেসব নিয়ামতের কথাই ভুলে যায়৷ এই কারণে মানুষ এসব নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা আদায়ের প্রতি খেয়ালও করেনা৷ সুস্থ ও নিরাপদে আছে মনে করে কৃতজ্ঞতাস্বরুপ আজ শুকরিয়া আদায় করেছে, এমন কয়জন পাওয়া যাবে?কিন্তু খানাপিনার নিয়ামতের বিষয়টি ভিন্ন৷ এগুলো সময়ে সময়ে আসার কারণে নিয়ামতের বিষয়টি মাথায় থাকে এবং সেজন্যে মানুষ শুকরিয়াও আদায় করে ৷সুতরাং যে নিয়ামতগুলো সময়ে সময়ে আসে, সেগুলোর শুকরিয়া আদায়ের সাথে সাথে এমন নিয়ামতেরও শুকরিয়া আদায় করার বিষয়টি আল্লাহ তাআলা যুক্ত করে দিয়েছেন, যে নিয়ামতগুলো স্থায়ী৷ যাতে এসব নিয়ামতের অনুভূতিও মানুষের অন্তরে থাকে এবং এগুলোরও কৃতজ্ঞতা আদায় হয়ে যায়৷ যেমন খানার শেষের দুআতে যুক্ত করে দেয়া হয়েছে এভাবে যে, হে আল্লাহ তাআলা! আপনি আমাদেরকে খানা খাওয়ালেন৷ পান করালেন৷ এবং ঈমানের নিয়ামত দ্বারাও মর্যাদাশীল করেছেন৷এই কারণেই খানার শেষের দুআর সাথে وَ جَعَلَنَا مِنَ الْمُسْلِمِيْنَ অংশটি মিলিয়ে দেয়া হয়েছে৷ যাতেকরে মানুষ স্থায়ী নিয়ামত ঈমান ও ইসলামকে ভুলে না যায়৷ বরং এগুলোরও শোকরিয়া আদায় করে৷

Loading