Rahmania Madrasah Sirajganj

মাহে রজব-শা’বান কি ও কেন?

মাহে রজব উপস্থিত, আসুন, রজব ও শা‘বানের বরকত লাভের জন্য এবং মাহে রামাজানে পৌঁছার জন্য দু‘আ করি, মাহে রজবের প্রসিদ্ধ দু‘আর সংশ্লিষ্ট হাদীস সম্পর্কে তাহকীকী পর্যালোচনা
এবং মাহে রজবের অন্যান্য বিশেষ আমল সম্বন্ধে আলোচনা ||

আজ মাহে রজব শুরু হয়েছে। রজব মাসের শুরুতে একটি দু‘আ পড়া প্রসিদ্ধ রয়েছে। এ সম্পর্কে নিম্নোক্ত হাদীসটি বর্ণনা করা হয়–
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ـ رضي الله عنه ـ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا دَخَلَ رَجَبٌ، قَالَاللهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي رَجَبَ وَشَعْبَانَ وَبَلِّغْنَا رَمَضَانَ:
হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন–“যখন রজব মাস আসতো, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বলতেন–
اللهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي رَجَبَ وَشَعْبَانَ وَبَلِّغْنَا رَمَضَانَ
(আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফী রাজাবা ও শা‘বান, ওয়া বাল্লিগনা রামাজান)।
অপর বর্ণনায় দু‘আটি এভাবে আছে–
اللهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي رَجَبَ وَشَعْبَانَ وَبَارِكْ لَنَا فِي رَمَضَانَ
(আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফী রাজাবা ও শা‘বান, ওয়া বারিক লানা ফী রামাজান)।

(প্রমাণ : মুসনাদে আহমাদ, ১ম খণ্ড, ২৫৯ পৃষ্ঠা/ সুনানে বাইহাকী-শু‘আবুল ঈমান, ৩য় খণ্ড, ৩৭৫ পৃষ্ঠা/ মুসনাদে বাযযার, ১ম খণ্ড, ২৮৫ ও ৪০২ পৃষ্ঠা/ সুনানে ইবনুস সুন্নী, হাদীস নং ৬৫৯ প্রভৃতি)
—————————–
পর্যালোচনা
—————————–
এ হাদীসটি বহু কিতাবে বর্ণিত হয়েছে একাধিক তরীকের মা্ধ্যমে। কিন্তু সবগুলো তরী্ক্বই জয়ীফ। কারণ, ‍সব তরীকেই এর রাবী زائدة بن أبي الرقاد হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন زياد النُميري থেকে। অথচ তারা উভয়ই জয়ীফ রাবী। মুহাদ্দিসগণ زائدة بن أبي الرقاد কে মুনকার বা অজ্ঞাত বলেছেন এবং زياد بن عبد الله النُميري البصري কে জয়ীফ বলেছেন।
(দ্রষ্টব্য : মীযানুল ই‘তিদাল, ৩য় খণ্ড, ৯৬ পৃষ্ঠা/ মাজমাউয যাওয়ায়িদ, ২য় খণ্ড, ১৬৫ পৃষ্ঠা/ বুলুগুল আমানী, ৯ম খণ্ড, ২৩১ পৃষ্ঠা প্রভৃতি)তাই এ ধরনের হাদীস দ্বারা শরীয়তের বুনিয়াদী হুকুম সাব্যস্ত হয় না। তবে ফজীলতের ক্ষেত্রে এ ধরনের (স্বাভাবিক জয়ীফ) হাদীসের বয়ান গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়। এ জন্য এ হাদীসের বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে আল্লামা হাফেজ ইবনে রজব (রহ.) উল্লেখ করেন–
: فيه دليل ندب الدعاء بالبقاء إلى الأزمان الفاضلة لإدراك الأعمال الصالحة فيها فإن المؤمن لا يزيده عمره إلا خيرا
“এ হাদীসের দ্বারা নেক কাজের সুযোগ পাওয়ার জন্য ফজীলতপূর্ণ সময়-কাল পর্যন্ত হায়াত লাভের দু‘আ করা মুস্তাহাব প্রমাণিত হয়। কেননা, মুমিনের হায়াত বৃদ্ধি তার নেক কাজকেই বাড়াবে।” (দ্রষ্টব্য : ফাইজুল ক্বাদীর, ৫ম খণ্ড, ১৩১ পৃষ্ঠা)
তেমনিভাবে আল্লামা আহমাদ আলবান্না তার বুলুগুল আমানী কিতাবে উক্ত হাদীসের দু‘আর তাৎপর্য সম্পর্কে লিখেছেন–
دعاء النبي صلى الله عليه وسلم بالبركة في هذه الأشهر الثلاثة يدل على فضلها . وفي تخصيص رمضان بالدعاء منفردا وعدم عطفه على رجب وشعبان دلالة على زيادة فضله
“এ তিনটি মাসে বরকত লাভের জন্য রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর দু‘আ করা এ মাস তিনটির ফজীলতকে সাব্যস্ত করে। আর রামাজান মাসকে দু‘আয় আলাদাভাবে বর্ণনা করা এবং তাকে রজব ও শা‘বানের উপর ন্যস্ত না করা রামাজানের অধিক ফজীলতের বিষয়কে প্রমাণ করে।” (দ্রষ্টব্য : বুলূগুল আমানী, ৯ম খণ্ড, ২৩১ পৃষ্ঠা)
সুতরাং ফজীলতের ক্ষেত্র হিসেবে উক্ত দু‘আ পড়া জায়িয হবে। অপরদিকে দু‘আটি যেহেতু দু’রকমভাবে বর্ণিত হয়েছে, তাই কখনো এটা এবং কখনও অন্যটা পাঠ করে উভয় দু‘আর আমল করাই বাঞ্ছনীয়।
তবে যেহেতু এ দু‘আটি জয়ীফ রিওয়ায়াতের মাধ্যমে পৌঁছেছে, তাই এ দু‘আ রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে আমল হওয়া নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয় না। সে জন্য ফজীলতের ক্ষেত্রেও শুধু তার সম্ভাবনা বা ধারণামূলক বিশ্বাস হতে পারে, তা নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হওয়ার বিশ্বাস হতে পারে না।
আর যদি কেউ এ দু‘আ সম্পর্কিত হাদীসসমূহকে নিতান্তই জয়ীফ বা আমলের অনুপযুক্ত বলে প্রমাণ করতে চান, সে অবস্থায়ও এ দু‘আটি উপরোক্ত হাদীসসমূহের ভিত্তি ছাড়াও এমনিতেও সাধারণভাবে পড়া জায়িয হবে এ প্রেক্ষিতে যে, সেখানে যে বিষয়ে দু‘আ করা হয়েছে, তা কুরআন ও হাদীস দ্বারা সমর্থিত। কেননা, এ হাদীসের দ্বারা রজব ও শা‘বান মাসের বরকতের জন্য দু‘আ করা হয়েছে এবং রামাজান পর্যন্ত হায়াত লাভ করে রামাজানের ফজীলত ও বরকত লাভের দু‘আ করা হয়েছে। আর এ মাসগুলোর এ বৈশিষ্ট্যের বিষয় কুরআন ও হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে।
যেমন, রজব মাস হচ্ছে আশহুরে হুরুম বা হারাম (সম্মানিত) চার মাসের একটি। এ মাসসমূহ সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন–
إِنَّ عِدَّةَ الشُّهُورِ عِندَ اللّهِ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا فِي كِتَابِ اللّهِ يَوْمَ خَلَقَ السَّمَاوَات وَالأَرْضَ مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ فَلاَ تَظْلِمُواْ فِيهِنَّ أَنفُسَكُمْ
“নিশ্চয় মাসের গণনা আল্লাহর নিকট বার মাস আল্লাহর বিধানে যেদিন তিনি আসমানসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, তন্মধ্য খেকে চারটি হারাম (সম্মানিত)। এটাই প্রতিষ্ঠিত দ্বীন। সুতরাং এ মাসগুলোতে তোমরা নিজেদের উপর জুলুম করো না (লড়াই-দাঙ্গার মাধ্যমে)।” (সূরাহ তাওবা, আয়াত নং ৩৬)
এ আয়াতের ব্যাখ্যায় হযরত আবু বাকরাহ (রা.) হতে বর্ণিত হযেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) স্বীয় বিদায় হজ্বের খুতবায় ইরশাদ করেন–
إِنَّ الزَّمَانَ قَدِ اسْتَدَارَ كَهَيْئَتِهِ يَوْمَ خَلَقَ اللَّهُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ. السَّنَةُ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ؛ ثَلاثٌ مُتَوَالِيَاتٌ ذُو الْقَعْدَةِ، وَذُو الْحِجَّةِ، وَالْمُحَرَّمُ، وَرَجَبُ مُضَرَ الَّذِي بَيْنَ جُمَادَى وَشَعْبَانَ
“নিশ্চয় সময়-কাল তার ঐ গঠনের সমপর্যায়ে পরিক্রমিক হয়েছে যেদিন আল্লাহ তা‘আলা আসমানসমূহ ও পৃথিবীকে সৃষ্টি করেছেন। বছর হচ্ছে বার মাস। তার মধ্যে চার মাস হারাম (সম্মানিত)। সেগুলোর তিনটি পর্যায়ক্রমে আগমনকারী। সেগুলো হচ্ছে–যীকা‘দাহ, যিলহিজ্জাহ ও মুহাররম। আর (একটি হচ্ছে পৃথক, তা হচ্ছে) মুজারের নির্বাচিত রজব মাস–যা জুমাদা (জুমাদাল উখরা) ও শা‘বানের মাঝে অবস্থিত।” (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩১৯৭ ও সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৬৭৯)
আবার মাহে শা‘বান যে বরকতপূর্ণ মাস, সে সম্পর্কে প্রমাণ এ হাদীস শরীফে রয়েছে, উসামা ইবনে যায়েদ (রা.) হতে বর্ণিত, (তার দীর্ঘ হাদীস বর্ণনায় রয়েছে যে,) তিনি বলেন–
قُلْتُ وَلَمْ أَرَكَ تَصُومُ مِنْ شَهْرٍ مِنَ الشُّهُورِ مَا تَصُومُ مِنْ شَعْبَانَ قَالَ ذَاكَ شَهْرٌ يَغْفُلُ النَّاسُ عَنْهُ بَيْنَ رَجَبٍ وَرَمَضَانَ وَهُوَ شَهْرٌ يُرْفَعُ فِيهِ الأَعْمَالُ إِلَى رَبِّ الْعَالَمِينَ فَأُحِبُّ أَنْ يُرْفَعَ عَمَلِى وَأَنَا صَائِمٌ
“আমি (রাসূলুল্লাহ সা.-এর নিকট) আরজ করলাম, আরো জিজ্ঞাস্য হলো, আমি আপনাকে শা‘বান মাসে যেরূপ বেশী রোযা রাখতে দেখি অন্যকোন মাসে এরূপ রোযা রাখতে দেখি না! তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করলেন–“শা‘বান এমন মাস যে, মানুষ রজব ও রামাজানের মাঝে তার ব্যাপারে গাফিল থাকে। অথচ এটা এমন মাস যে, এতে আমলসমূহ আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নিকট উঠানো হয়। তাই আমি পছন্দ করি, আমার আমল এমতাবস্থায় উঠানো হবে যে, আমি রোযাদার।” (সুনানে নাসায়ী, ২য় খণ্ড, ৩১০ পৃষ্ঠা/ সহীহ ইবনে হিব্বান, ১ম খণ্ড, ২৩৯ পৃষ্ঠা)
অপরদিকে মাহে রামাজানের অজস্র ফজীলতের কথা কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। বিশেষ করে লাইলাতুল কদরের অপরিসীম ফজীলত ও মাহাত্ম্য বর্ণনার অপেক্ষা রাখে না।
সুতরাং সাধারণভাবে যে কোন সম্ভাব্য ফজীলতপূর্ণ ব্যাপারে সেই ফজীলত লাভের জন্য দু‘আ করা বৈধ হিসেবে মাহে রজব ও শা‘বানের বরকত হাসিলের জন্য দু‘আ করা এবং মাহে রামাজানের অপরিসীম ফজীলত লাভের আশায় সে পর্যন্ত পৌঁছার জন্য দু‘আ করা নিঃসন্দেহে জায়িয হবে। আর তখন এটাকে হাদাীসের বর্ণিত দু‘আ বলে গণ্য না করে এমনিতেই সাধারণভাবে রজব ও শা‘বানের বরকত লাভের জন্য এবং রামাজানের ফজীলত লাভে উপনীত হওয়ার জন্য নিজের পক্ষ থেকে মহান আল্লাহর দরবারে আরজী পেশ হিসেবে (অর্থের দিকে খিয়াল করে) দু‘আ করবেন–
اللهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي رَجَبَ وَشَعْبَانَ وَبَلِّغْنَا رَمَضَانَ
(আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফী রাজাবা ও শা‘বান, ওয়া বাল্লিগনা রামাজান)।
অর্থ–হে আল্লাহ! আমাদের জন্য রজব ও শা‘বান মাসে বরকত দান করুন এবং আমাদেরকে মাহে রামাজানে পৌঁছে দিন।
আর এ হিসেবে রজব মাসের পর শা‘বান মাস এলে, সে সময় শুধু শাবান ও রামাজানের কথা উল্লেখ করে নিজের পক্ষ থেকে মহান আল্লাহর দরবারে আরজী পেশ হিসেবে এভাবে দু‘আ করা যাবে–
اللهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي شَعْبَانَ وَبَلِّغْنَا رَمَضَانَ
(আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফী শা‘বান, ওয়া বাল্লিগনা রামাজান)।
অর্থ–অর্থ–হে আল্লাহ! আমাদের জন্য শা‘বান মাসে বরকত দান করুন এবং আমাদেরকে মাহে রামাজানে পৌঁছে দিন।
আবার এ ভিত্তিতে শা‘বান মাসের পর মাহে রামাজানের আগমন হলে, তখন শুধু রামাজানের কথা উল্লেখ করে মহান আল্লাহর দরবারে রামাজানের বরকত লাভের জন্য নিজের পক্ষ থেকে দু‘আ করা যাবে। যেহেতু মাহে রামাজানকে হাদীস শরীফে شَهْرٌ مُبَارَكٌ ‘বরকতময় মাস’ বলা হয়েছে (দ্রষ্টব্য : সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং ২০৭৯) এবং উপরে বর্ণিত হাদীসের এক রিওয়ায়াতে মাহে রামাজানের বরকতের জন্য দু‘আর কথা রয়েছে। তাই তখন এভাবে বলবেন–
اللهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي رَمَضَانَ
(আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফী রামাজান)।
অর্থ–অর্থ–হে আল্লাহ! আমাদের জন্য মাহে রামাজানের বরকত ইনায়াত করুন।
এভাবে নিজের পক্ষ থেকে উক্ত দু‘আর আমল করলে কোন অসুবিধা নেই। বরং এতে সাধারণভাবে দু‘আ করার ছাওয়াব ও ফজীলত লাভ হবে। সেই সাথে এ দু‘আ কবূলের মাধ্যমে সহজে উক্ত মাসসমূহের ফজীলত ও বরকত লাভের আশা করা যায়।
(দ্রষ্টব্য : লাত্বায়িফুল মা‘আরিফ, ১৪৮ পৃষ্ঠা/ মুনতাদিয়াতুল ইরশাদ, ফাতওয়া নং ৪২৬৫ প্রভৃতি)
.
.
মাহে রজবের অন্যান্য বিশেষ আমল সম্বন্ধে আলোচনা
*****************************************************
মাহে রজবের ফজীলতের ব্যাপারে আশহুরে হুরুম-এর অন্তর্ভুক্ত হওয়াই অকাট্যভাবে প্রমাণিত। যার দরুণ এ মাসে যুদ্ধ-বিগ্রহ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেই সাথে সম্মানিত মাস হিসেবে এ মাসে গুনাহর কাজ করা অধিক মারাত্মক অন্যায় বলেও অনেকে বর্ণনা করেছেন। তাই ঝগড়া-ফাসাদ ও গুনাহ-পাপাচার থেকে বিশেষভাবে দূরে থাকাই এ মাসের বিশেষ আমল।
তবে এ ছাড়া এ মাসের অন্যকোন বিশেষ আমল তথা বিশেষ কোন নামায বা রোযা ইত্যাদি সম্পর্কে কোন নির্ভরযোগ্য হাদীস বর্ণিত হয়নি। এ ব্যাপারে যা কিছু বর্ণিত শুনা যায়, সেগুলো মাওজু বা জাল–যা আমলযোগ্য নয়।
অপরদিকে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মিরাজ সংঘটিত হওয়ার বছরের রজব মাসের ২৭ তারিখে (প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী) মিরাজ সংঘটিত হয়েছে, তাই শুধু সেই মিরাজের রাত্রিই শবে মিরাজ নামে অভিহিত। কিন্তু এরপর প্রতিবছর ২৭ রজবের রাতে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মিরাজ সংঘটিত হয় না। তাই প্রতি বছর ২৭ রজব শবে মিরাজের আগমন হয় না। এ জন্য রজবের ২৭ তারিখকে শবে মিরাজ সাব্যস্ত করা বা একে উপলক্ষ করে কোন বিশেষ আমল বা বিশেষ নামায-রোযার কোন নিয়ম শরীয়তে নেই। বলা বাহুল্য, এ ব্যাপারে নির্ভরযোগ্য কোন হাদীস বর্ণিত হয়নি।
(দ্রষ্টব্য : আল-আবাতিল লিয যুরকানী, ২য় খণ্ড, ৭১৪ পৃষ্ঠা/ যাইলুল লা‘আলী–সুয়ূতী, ১১৭ পৃষ্ঠা)
তাই মাহে রজবের বিশেষ আমলরূপে এ ধরনের যা কিছু পালন করা হয়, তা সবই বিদ‘আত। বিশেষ করে এ মাসের আগমন হলে, ‘সালাতুর রাগায়িব’ নামে যে নামায পড়ার কথা বলা হয় বা এ মাসের বিভিন্ন দিনে রোযা রাখা কিংবা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দু‘আ পড়ার কথা বলা হয়, তা অমূলক ও ভিত্তিহীন।
(দ্রষ্টব্য : আল মানারুল মুনীফ, পৃষ্ঠা নং ৯৬/ তাবয়িনুল আজাব, পৃষ্ঠা নং ১১ প্রভৃতি)
তবে আশহুরে হুরুম বা হারাম চার মাসে রোযা রাখার ব্যাপারে হাদীসে এসেছে। যেমন, রাসূলুল্রাহ (সা.) ইরশাদ করেন–“তোমরা হারাম মাসগুলোতে রোজা রাখ এবং রোজা ভঙ্গও কর।” (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ২৪২৮) এ হাদীসটি জয়ীফ। তবে ফজীলতের ক্ষেত্র হিসেবে এর উপর আমল করা হলে, এর ভিত্তিতে যদি কেউ রজব মাসেও রোযা রাখে এবং অন্য হারাম তিন মাসেও রোযা রাখে, তাহলে অসুবিধা নেই। কিন্তু শুধুই রজব মাসকে বিশেষভাবে রোযার জন্য খাস করা যাবে না।
অবশ্য এ মাসের বিশেষ আমলের ভিত্তিতে নয়, এমনিতেই নিষিদ্ধ দিনসমূহ ছাড়া যে কোনদিন রোযা রাখা যায় এবং প্রতি সপ্তাহে সোমবার ও বুধবার রোযা রাখার কথা হাদীসে আছে। তেমনি চাঁদের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে আইয়্যামে বেজের রোযা রাখার ফজীলত বর্ণিত হয়েছে। সে হিসেবে সাধারণভাবে এ আমলগুলো করা যাবে। আর দৈনন্দিন নিয়মিত নামায, তিলাওয়াত, জিকির ইত্যাদি আমল অব্যাহত রাখার হুকুম তো রয়েছেই। এভাবেই শরীয়তের নির্দেশিত পন্থায় এ মাসকে অতিবাহিত করা কর্তব্য।

পড়েছেনঃ 305 জন