Rahmania Madrasah Sirajganj

দ্বীন প্রচারের জন্য শুধুমাত্র মসজিদকে নির্দিষ্ট করে কুরআন-সুন্নাহ পরিপন্থী অবস্থান মওলানা সাদের!

نحمده و نصلي علي رسوله الكريم اما بعد

মজমুআয়ে খুতুত অর্থাৎ সাদ সাহেবের ভুলগুলো ওলামায়ে কেরামের সামনে আসার পর ওলামায়ে কেরাম তার কাছে যে চিঠি দিয়েছিলেন, এই চিঠিতে উল্লেখ আছে যে তিনি বলেন ‘প্রত্যেককে মসজিদে এনে দ্বীনের কথা বলাই সুন্নত। মসজিদের বাইরে গিয়ে দ্বীনের দাওয়াত তো সুন্নতের পরিপন্থী।…মসজিদের বাইরের পরিবেশ গাফলতির পরিবেশ। সেখানে দ্বীনের কথা বলার অর্থ দ্বীনের অবমাননা করা’। সুত্র : সাদ সাহেবের কাছে আকাবির হযরতগনের ১১ মার্চ ২০১৫ তারিখে লেখা চিঠি। উদ্ধৃতি, মজমুআয়ে খুতুত৷

আসলে এখানে প্রথমে আমাদের জানতে হবে সুন্নত কাকে বলে?  শুধুমাত্র সুন্নত শব্দ দ্বারা বোঝানো হলে, ইসলামী আইনবিদদের ভাষায় সেটাকে সুন্নতে মুয়াক্কাদা বলা হয়, সুন্নতে মুআক্কাদা বলা হয়, যে আমলকে রাসূল  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবাদত হিসেবে পাবন্দীর সাথে করেছেন। কখনো ওজর ছাড়া ছেড়ে দিয়েছেন বা নিজেতো ছাড়েননি কিন্তু যে ছেড়ে দিয়েছে তাকে ভর্ৎসনা করেননি। এরকম আমলকে সুন্নতে মুআক্কাদা বলা হয়৷ (আততাআরিফাতুল ফিক্বহিয়্যাহ-৩২৮, আলমুজিজ ফি উসুলিল ফিক্বহ-৪৩৯-৪০) সুন্নতে মুআক্কাদা ওয়াজিবের মতই। অর্থাৎ ওয়াজিবের ব্যাপারে যেমন জবাবদিহী করতে হবে, তেমনি সুন্নতে মুআক্কাদার ক্ষেত্রে জবাবদিহী করতে হবে। তবে ওয়াজিব তরককারীর জন্য সুনিশ্চিত শাস্তি পেতে হবে, আর সুন্নতে মুআক্কাদা ছেড়ে দিলে কখনো মাফ পেয়েও যেতে পারে। তবে শাস্তিও পেতে পারে৷

وحكمها كالواجب إلا أن تارك الواجب يعاقب وتاركها لا يعاقب- التعريفات للجرجانى-138

সুন্নতের উপরোক্ত সংজ্ঞা অনুযায়ী যদি কোন ব্যক্তিকে দ্বীনি কোন কথা বলতে হয়, তাহলে তথাকথিত হযরতজীর দাবি অনুযায়ী একজন মানুষকে বাধ্যতামূলক মসজিদে এনে দ্বীনি কথা বলতে হবে, অন্যথায় সেটা দিনের অবমাননা হবে, চলুন দেখে আসি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুধু কি মসজিদের ভেতরেই দ্বীনি কাজ করতেন? নাকি মসজিদের বাহিরেও করতেন?  আমরা সকলেই কমবেশি শুনেছি এবং জানি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বপ্রথম মক্কার কুরাইশদের কাছে যখন দাওয়াত নিয়ে গেলেন, দাওয়াত দিলেন, কিন্ত উত্তরে আবু লাহাব বলল ا لهذا جمعتنا অর্থাৎ তুমি কি আমাদেরকে এজন্য ডেকেছ? تبت لك৷ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের এই উত্তরে কষ্ট পেয়ে ধৈর্য ধারণ করলেন, এরই পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তাআলা সূরা লাহাব নাযিল করলেন, আবার রসুলুল্লাহ সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তায়েফে গেলেন, এবং বললেন قولوا لا اله الا الله تفلحون অর্থাৎ তোমরা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ পরও সফলকাম হবে৷ কিন্ত তারা তো মানলই না, বরং রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রক্তাক্ত করলো, উক্ত ঘটনাদ্বয় দ্বারা বুঝা যায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মক্কার কুরাইশ ও তায়েফবাসীর কাছে দাওয়াত দেয়ার জন্য য়েছিলেন, তখন উক্ত জায়গাদ্বয় অবশ্যই মসজিদ ছিল না সেই স্থানটি অবশ্যই মসজিদ ছিল না, তাহলে কি নাউজুবিল্লাহ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেই নিজ আদর্শ পরিপন্থী কাজ করলেন? এটা কি দ্বীনের অবমাননা? এটি একটি ঘটনা মাত্র, অথচ মসজিদ ছারাও বিভিন্ন স্থানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাহাবায়ে কেরাম রাঃ দাওয়াতের কাজ করেছেন যা অসংখ্য হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত৷ তাহলে তথাকথিত হযরতজীর দাবি কি সম্পূর্ণ সুন্নত পরিপন্থী নয়? একথা অবশ্যই ঠিক যে আল্লাহ তাআলার প্রিয় স্থান মসজিদ, এবং মসজিদের বাইরের পরিবেশ গাফলতির পরিবেশ, তাই বলে কি মসজিদের বাহিরে এসে দাওয়াতের কাজ সুন্নত পরিপন্থী হয়ে যাবে? গত ১০০ বছর যাবৎ দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ চলছে, আমাদের মুবাল্লীগ ভাইয়েরা অবশ্যই আসরের নামাজের পর, ফজরের নামাজের পর নিয়ম অনুযায়ী, গাস্তগুলো মসজিদের বাহিরে করেছেন, যদি তথাকথিত হযরতজীর দাবি অনুযায়ী মসজিদের বাইরে দাওয়াত দেওয়া সুন্নত পরিপন্থী হয় তাহলে কে তাবলিগের অতিত তিন হযরতজী, মাওলানা ইলিয়াস, মাওলানা ইউসুফ ও মাওলানা এনামুল হাসান রহঃ সহ তাবলিগের লক্ষ লক্ষ ধর্মপ্রাণ সাথীগণ আজীবন সুন্নতের পরিপন্থী কাজ করে এসেছেন? অন্যথায় বলতে হবে তথাকথিত হজরতজীর দাবীই সুন্নাহ পরিপন্থী, যা সরাসরি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিনকে ব্যাপকভাবে প্রচার করার বিরুদ্ধে এক নব্য ষড়যন্ত্র! আল্লাহ তাআলা ইহুদী-নাসারাদের সকল প্রকার ষড়যন্ত্র থেকে মুসলিম উম্মাহকে কে মুসলিম কে হেফাজত করুন, আমিন৷ দেখুন : বুখারী শরীফ হাদিস নং ৪৭৭০, মুসনাদে আহমদে হযরত রবিআহ বিন আব্বাদ রাঃ এর ঐতিহাসিক হাদিস৷

পড়েছেনঃ 444 জন