Rahmania Madrasah Sirajganj

দাইয়ুস এর তালিকায় কি আপনার নাম রয়েছে? খুব সতর্ক হোন!

نحمده و نصلي علي رسوله الكريم اما بعد

দিন যত যাচ্ছে মুসলমানদের অবস্থা থেকে ভয়ানক ভাবে পরিবর্তন হচ্ছে, না মাত্র মুসলমান, কিন্তু কাজে কর্মে মুসলমানের কোন প্রমাণ নেই, আল্লাহ তাআলা সচ্ছলতা দিয়েছেন, ইচ্ছে করলেই এই স্বচ্ছলতার জন্য আল্লাহ তায়ালার শুকরিয়া আদায় করা সম্ভব, কিন্তু তা সম্ভব হচ্ছে না, সম্পদ এবং সচ্ছলতা আল্লাহ তাআলার গজবের কারণে পরিণত হয়েছে, স্বামী নামাজ পড়েন কিন্তু বাড়ির ভিতরে শরীয়ত সম্মত পর্দা নেই, মা পর্দা করে না, বোন পর্দা করে না, স্ত্রী পর্দা করেনা, স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা আল্লাহর জন্য না হয়ে বরং তার সৌন্দর্যের প্রতি হওয়ার কারণে তাকে পর্দা করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা সম্ভব হয় না, বা পর্দার কথা বললেও তার সাথে কড়াকড়ি করা হয় না, সন্তান এবং স্ত্রী-পুত্র কে অশ্লীলতা থেকে বিরত রাখা সম্ভব হয় না, এদেরকে হাদীসের ভাষায় দাইয়ুস বলা হয়েছে, এই শব্দটি আপনারা অনেক শুনেছেন, কিন্তু জানিনা নিজেদের ভিতরে কতটুকো আমলে আনতে পেরেছেন? রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তিন ব্যক্তির জন্য আল্লাহ তা’আলা জান্নাত হারাম করেছেন ১. নেশাদার দ্রব্যে আসক্ত ব্যক্তি, ২. পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান, ৩. দাইয়ুস। – (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং ৫৮৩৯)

দাইয়ুস সম্পর্কে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “ঐ ব্যক্তিকে দাইয়ুস বলা হয়, যে তার পরিবারের অশ্লীলতা ও কুকর্মকে মেনে নেয়।” (মুসনাদ আহমদ, নাসায়ী শরিফ)

অর্থাৎ যে ব্যক্তি তার স্ত্রী-কন্যা সহ পরিবারের অধীনস্ত অন্য সদস্যদের বেপর্দা চলাফেরা ও অশ্লীল কাজকর্ম বা ব্যভিচারকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করে, অথবা কোনরূপ বাধা না দিয়ে মৌনতা অবলম্বন করে।

হযরত ইমাম যাহাবী রহঃ বলেছেন, ‘দাইয়ুস’ সে ব্যক্তি, যে তার স্ত্রীর ফাহেশা কাজ সম্পর্কে অবগত, কিন্তু তার প্রতি ভালোবাসার কারণে এ ব্যাপারে সে উদাসীন থাকে, অথবা তার উপর তার স্ত্রীর বৃহৎ ঋণ বা মহরানার ভয়ে কিংবা ছোট ছেলে-মেয়েদের কারণে সে স্ত্রীকে কিছুই বলে না এবং যার আত্ম-সম্মানবোধ বলতে কিছুই নেই’। (যাহাবী, কিতাবুল কাবায়ের – ১/৫০)

হাদিসটির ব্যাখ্যা বিস্তারিত, তবে এখানে মূল বিষয় হল, ফাহেশা বা অশ্লীলতা। যে তার নিজ পরিবারে ইসলামী অনুশাসন মেনে চলতে শিথিলতা প্রদর্শন করে, স্ত্রী-কন্যাদেরকে পর্দার আদেশ করে না, পর্দাপালনে উৎসাহিতও করে না, ঘরে নিষিদ্ধ গান-বাদ্য চলতেই থাকে, এর কোন প্রতিবাদ করে না; এ রকম সকল শরীয়াহ বিরোধী অশ্লীলতাকে মেনে নেয় – সে ব্যক্তি ‘দাইয়ুস’। এ ব্যক্তি সম্পর্কে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “দাইয়ুস কখনই জান্নাতে প্রবেশ করবে না।” (নাসায়ী শরীফঃ ২৫৬২, মিশকাতঃ ৩৬৫৫)

রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন, “জেনে রেখো, তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং নিজ নিজ অধীনস্থের বিষয়ে তোমাদের প্রত্যেকেই জিজ্ঞাসিত হবে। অতঃপর দেশের শাসক জনগণের উপর দায়িত্বশীল, সে তার দায়িত্বশীলতার ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে। পুরুষ তার পরিবারের উপর দায়িত্বশীল, অতএব, সে তার দায়িত্বশীলতার বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। স্ত্রী তার স্বামীগৃহের উপর দায়িত্বশীলা, কাজেই সে তার দায়িত্বশীলতা বিষয়ে জিজ্ঞাসিতা হবে। দাস তার প্রভুর সম্পদের দায়িত্বশীল, সেও এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে। তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকেই নিজ নিজ অধীনস্থের দায়িত্বশীলতার ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে।” (বুখারী শরিফ : ৮৯৩; মুসলিম শরিফ : ১৮২৯)

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেছেন, “হে বিশ্বাসী বান্দাগণ, তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই আগুন থেকে রক্ষা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর, যাতে নিয়োজিত আছে পাষাণ হৃদয় ও কঠোর স্বভাবের ফেরেশতাগণ, তারা আল্লাহ তা’আলা যা আদেশ করেন, তা অমান্য করে না এবং তারা তা-ই করে যা করতে তাদের আদেশ করা হয়।” (সূরা আত-তাহরিম-৬)

“হে নবী-পত্নিগণ, তোমরা অন্য কোন নারীর মত নও, যদি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর, তবে (পরপুরুষের সাথে) কোমল কণ্ঠে কথা বলো না, তাহলে যার অন্তরে ব্যাধি রয়েছে সে প্রলুব্ধ হয়, আর তোমরা ন্যায়সঙ্গত কথা বলবে।” (সূরা আল-আহযাব-৩২)

“আর তোমরা নিজ গৃহে অবস্থান করবে, এবং প্রাক-জাহেলী যুগের মত সৌন্দর্য প্রদর্শন করো না, আর তোমরা নামাজ কায়েম কর, যাকাত প্রদান কর এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য কর, হে নবী পরিবার, আল্লাহ তো কেবল চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতাকে দূরীভূত করতে এবং তোমাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করতে।”(সূরা আল-আহযাব-৩৩)

দাইয়ুস ও এর পরিণতি সম্পর্কে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদিসের ভাষ্য তো স্পষ্ট। এবং আল্লাহর রাসুল বলেও দিলেন আমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং অধীনস্থদের সম্পর্কে আমরা অবশ্যই জিজ্ঞাসিত হবো। উপরন্তু আল্লাহ তা’আলা আদেশও করেছেন বান্দা যেন নিজেদেরকে এবং পরিবার-পরিজনদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচায়। তাই সাধারণভাবে সমস্ত অধীনস্থদেরকে এবং বিশেষভাবে পরিবার-পরিজনদেরকে যাবতীয় বেহায়াপনা, অশ্লীলতা-অন্যায়-পাপাচার এবং বে-পর্দা চলাফেরা করা থেকে বিরত রাখা এবং তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বাঁচানো আমাদের উপর ফরয।

এখন নিজেকে প্রশ্ন করা উচিৎ, আমি আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব কতটুকু নিষ্ঠার সাথে পালন করছি? অথবা আদৌ পালন করছি কি? বা এই দায়িত্বের অনুভূতিটুকুও কি আমার মাঝে আছে? তাহলে কি আমি দাইয়ুসদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাচ্ছি? আমি কি প্রস্তুত সেই জাহান্নামের জন্য যার ইন্ধন হবে মানুষ এবং পাথর? আমার স্ত্রী-সন্তান ঘরের ভেতরে অশ্লীলতায় লিপ্ত, ঘরের বাহিরেও অশ্লীলতায় লিপ্ত৷ তারা পর্দা করছে না, নীরবতাময় আমার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তারা পর্দা করছে না, তারা নামাজ পড়ছে না, তারা আল্লাহর উপর বিশ্বাস করছে না, তাদের বিশ্বাস আমার ধন সম্পদের উপর, তাদের বিশ্বাস আমার টাকার উপর, তাই তারা ইসলামকে অপ্রয়োজনীয় মনে করছে, কাল কেয়ামতের ময়দানে তাদের জন্য আমার কি অবস্থা হবে? আমার মেয়ে বাহিরে গিয়ে পর-পুরুষের সাথে ঘোরাফেরা করছে, মোবাইলের মাধ্যমে খারাপ ও নির্লজ্জ ছেলেদের সাথে যোগাযোগ রাখছে, আমার ছেলেও কোন মেয়ের সাথে এমন সম্পর্ক তৈরি করে ফেলেছে, এখনো কি সময় আসেনি এগুলো বন্ধ করার কি জবাব দিব আল্লাহর কাছে এই সমস্ত বিষয়ে? এই সম্পদ একদিন শেষ হয়ে যাবে, এই টাকা একদিন শেষ হয়ে যাবে, এই সম্মান একদিন শেষ হয়ে যাবে, রয়ে যাবে আমার আমলটুকো৷ আমার পরিবারের আমলটুকো৷ এটাই কিয়ামতের ময়দানে আমার প্রাপ্য, এ ছাড়া কেউই আমার পাশে থাকবে না, আল্লাহ আমাদেরকে মাফ করে দিন, আমাদেরকে কুরআন ও সুন্নাহ মাফিক জীবন যাপন করার তৌফিক দান করুন, আমিন৷

পড়েছেনঃ 283 জন