আরবী তারিখঃ এখন ১৫ জিলকদ ১৪৪৫ হিজরি মুতাবিক ২৪ মে ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, রোজ শুক্রবার, সময় দুপুর ১:২৭ মিনিট
এলানঃ-
>>> ১৪৪৫-১৪৪৬ হিজরী, ২০২৪-২০২৫ ইং তে সালেকীনদের জন্য সুন্নতী ইজতেমা সমূহ <<<
* মাহে যিলক্বদের প্রথম সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ফজর থেকে শুক্রবার মাগরিব পর্যন্ত। (আসন্ন)
* মাহে রবিউল আউয়ালের শেষ সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ফজর থেকে শুক্রবার মাগরিব পর্যন্ত। (আসন্ন)
* মাহে রজবের প্রথম সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ফজর থেকে শুক্রবার মাগরিব পর্যন্ত। (আসন্ন)
.....................................................................
>> ১৪৪৫-১৪৪৬ হিজরী, ২০২৪-২০২৫ ইং তে মজলিসে আইম্মাহ সমূহ (ইমাম-মুআজ্জিনদের জন্য) <<<
* মাহে শাউয়ালের শেষ শনিবার সকাল ৮টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত। (হয়ে গেছে)
* মাহে মুহাররমের শেষ শনিবার সকাল ৮টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত। (আসন্ন)
* মাহে রবিউস সানীর শেষ শনিবার সকাল ৮টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত। (আসন্ন)
* মাহে রজবের শেষ সপ্তাহে বিষয় ভিত্তিক সেমিনার। (আসন্ন)
*** প্রতি আরবী মাসের শেষ বৃহস্পতিবার মাদরাসার সকলের জন্য মাসিক সুন্নতী ইজতেমা।
*** প্রতি বছর ২০ শাবান থেকে ৩০ রমাযানুল মুবারক পর্যন্ত ৪০ দিন, রমাযানুল মুবারক এর প্রথম ১৫ দিন, রমাযানুল মুবারক এর শেষ দশক হযরাতে সালেকীনদের জন্য এতেকাফ।

জুমু’আর দিনের বিশেষ আমল সমূহ

হযরত দা. বা. বলেনঃ জুমু’আর দিন যেহেতু অন্যান্য দিন গুলোর চেয়ে একটু ব্যতিক্রম, তাই মাদরাসার মামুলাতের মধ্যেও কিছু পরিবর্তন থাকে, নিচে জুমু’আর দিনের আমল সমূহ উল্লেখ করা হলো, যা গতানুগতিক অন্যান্য মামুলাতের সাথে পালন করা অতি বাধ্যতামূলক।

প্রথম হাদিস

عَنْ اَوْسِ بْنُ اَوْسٍ رَضِيَ اللّٰهُ تَعَالٰي عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ: مَنْ غَسَّلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَ اغْتَسَلَ، وَ بَكَّرَ وَ ابْتَكَرَ، وَ مَشٰى وَ لَمْ يَرْكَبْ، وَ دَنَا مِنَ الْإِمَامِ وَ اسْتَمَعَ، وَ لَمْ يَلْغُ، كَانَ لَهٗ بِكُلِّ خُطْوَةٍ عَمَلُ سَنَةٍ أَجْرُ صِيَامِهَا وَ قِيَامِهَا

অর্থঃ হযরত আউস ইবনে আউস সাকাফী রা. বর্ননা করেন, আমি রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি জুমুআর দিন ১. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ সেরে উত্তমরূপে গোসল করবে, ২. আগে আগে মসজিদে গমন করবে, ৩. পায়ে হেটে মসজিদে গমন করবে, ৪. ইমামের কাছাকাছি বসার চেষ্টা করবে, ৫. মনোযোগ সহকারে খুৎবা শ্রবণ করবে, ৬. অহেতুক কাজ ও কথাবার্তা থেকে বিরত থাকবে। আল্লাহ তাআলা তাকে প্রতি কদমে এক বছর নফল নামাজ ও নফল রোজার সওয়াব দান করবেন।
দেখুনঃ নাসায়ী শরীফঃ ১৩৮৪, তিরমিজি শরিফঃ ৪৯৬, আবু দাউদ শরীফঃ ৩৪৫, সহীহ ইবনে খুযাইমাহঃ ১৭৫৮

  • উক্ত হাদিসের ফজিলত অর্জন করতে রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ এর ত্বলাবাগণ আগে আগে মসজিদে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

দ্বিতীয় হাদিস

عَنْ اَبِيْ سَعِيْدِنِ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللّٰهُ تَعَالٰي عَنْهُ اَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ قَالَ: مَنْ قَرَاَ سُوْرَةَ الَكَهَفِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ أَضَاءَ لَهٗ مِنَ النُّوْرِ مَا بَيْنَ الْجُمُعَتَيْنِ. وَ فِيْ رِوَايَةٍ اَضَاءَ لَهٗ مِنْ النُّوْرِ فِيمَا بَيْنَهٗ وَ بَيْنَ الْبَيْتِ الْعَتِيقِ

অর্থঃ হযরত আবু সাইদ খুদরী রা. থেকে বর্নিত, রসুলুল্লাহ সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি জুমুআর দিন, সুরা কাহাফ তিলাওয়াত করবে, তার জন্য এমন নুর প্রজ্বলিত হবে, যা এই জুমুআ থেকে পরবর্তী জুমুআ পর্যন্ত প্রজ্বলিত থাকবে, অন্য রেওয়ায়াতে আছে, উক্ত নুর পাঠকারী থেকে বাইতুল্লাহ শরীফ পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে। দেখুনঃ বাইহাকী শরীফঃ ৩/৩৫৩, ২৪৪৪

তৃতীয় হাদিস

عَنْ اَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللّٰهُ تَعَالٰي عَنْهُ قَالَ: قَالَ مَنْ صَلَّى صَلَاةَ الْعَصْرِ مِنْ يَّوْمِ الْجُمُعَةِ فَقَالَ قَبْلَ اَنْ يَّقُوْمَ مَكَانَهٗ: اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدِنِ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ وَعَلٰى اٰلِهٖ وَ سَلِّمْ تَسْلِيْمًا، ثَمَانِيْنَ مَرَّةً، غُفِرَتْ لَهٗ ذُنُوْبَ ثَمَانِيْنَ عَامًا، وَ كَتَبَتْ لَهٗ عِبَادَةَ ثَمَانِيْنَ سَنَةً

অর্থঃ হযরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্নিত, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি জুমুআর দিনে আসরের নামাজের পরে নিজ নামাজের স্থান ত্যাগ করার পূর্বে اَللَّهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدِنِ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ وَعَلٰى اٰلِهٖ وَسَلِّمْ تَسْلِيْمَا দরুদ শরীফটি ৮০ বার পাঠ করবে, আল্লাহ তাআলা তাঁর ৮০ বছরের গুনাহ মাফ করে দিবেন এবং তার আমল নামায় ৮০ বছরের নেক আমলের সওয়াব লিখে দেবেন। দেখুনঃ ইবনু বাশকুয়াল, আল কওলুল বাদী’ ফিসসলাতি আলাল হাবীবিশ শাফীঃ ২৮৪

চতুর্থ হাদিস

عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللّٰهِ رَضِيَ اللّٰهُ تَعَالٰي عَنْهُ ، عَنْ رَسُوْلِ اللّٰهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ اَنَّهٗ قَالَ: يَوْمُ الْجُمُعَةِ ثِنْتَا عَشْرَةَ يُرِيْدُ سَاعَةً، لَا يُوْجَدُ مُسْلِمٌ يَسْاَلُ اللّٰهَ عَزَّ وَ جَلَّ شَيْئًا، اِلَّا اٰتَاهُ اللّٰهُ عَزَّ وَ جَلَّ ، فَالْتَمِسُوْهَا اٰخِرَ سَاعَةٍ بَعْدَ الْعَصْرِ-

অর্থঃ হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রা. থেকে বর্নিত, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ শুক্রবারে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোন মুসলমান বান্দা আল্লাহ তাআলার কাছে যা কিছু চায় আল্লাহ তাআলা অবশ্যই তাকে দান করেন, অতএব তোমরা আসরের নামাজের পর মাগরিবের পূর্বে উক্ত সময় তালাশ করো। দেখুনঃ আবু দাউদ শরীফঃ ১/১৫০

  • জুমু’আর দিন আসরের নামাজ থেকে মাগরিবের নামাজ পর্যন্ত সকল ত্বলাবা-আসাতিযাগনের ইতিকাফের নিয়তে মাদরাসার মসজিদে অবস্থান ও চলমান মামুলাত সমূহে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক, এ সময় সকল ত্বলাবা-আসাতিযাগনের সকল প্রকার ছুটি নিষিদ্ধ রয়েছে।
  • আসরের নামাজের পর ৮০ বার দরুদ শরীফ পাঠ শেষে গুরুত্বপূর্ণ দ্বীনি আলোচনা হয়, মাগরিবের আজানের ২০ মিনিট পূর্বে সূরায়ে ফাতিহার আমল ও সম্মিলিতভাবে হাদীসে বর্ণিত ফযিলতের আশায় মাদরাসার যাবতীয় বিষয়, বন্ধু-বান্ধবদের যাবতীয় বিষয় ও বর্তমান পরিস্থিতি সহ অন্যান্য সকল বিষয়কে সামনে রেখে দুআ অনুষ্ঠিত হয়।

হযরত দা. বা. বলেনঃ যেহেতু অন্যান্য দিনগুলোর চেয়ে শুক্রবার ব্যতিক্রম, তাই শুক্রবার আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত মাদরাসার মামুলাতও একটু ব্যতিক্রম। একদম মাদরাসার শুরু থেকেই আমরা প্রতি শুক্রবার আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত মাদরাসার ছাত্র উস্তাদ ও আমাদের ঘনিষ্ঠ দোস্ত আহবাবদের সাথে নিয়ে পাশাপাশি যারা এই মজলিসে অংশগ্রহণ করতে চায় তাদেরকেও সাথে নিয়ে সপ্তাহিক একটা নফল এতেকাফ ও মাগরিবের প্রাক্কালে হাদিসে বর্ণিত ফজিলত অর্জনের উদ্দেশ্যে বিশেষ দুআর এহতেমাম করা হয়। এখানে গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল হয় যার এজাযত আমাদের শাইখ হযরতওয়ালা শাহ ফকিহুল মিল্লাত মুফতি আব্দুর রহমান রহ. গত ১০ এপ্রিল ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দে মারকাযুল ফিকরিল ইসলামী বাংলাদেশ বসুন্ধরা ঢাকার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে আসরের নামাজ পর প্রদান করেন। অর্থাৎ একটি বিশেষ নিয়মে সূরা ফাতেহার আমল করা হয়। আমাদের অনেক দোস্ত আহবাব, ছাত্র, উস্তাদরা এই সূরা ফাতেহার দম করা পানি নিয়ে থাকেন, এবং অনেকে আমাদের জানিয়েছেন এটা দ্বারা তাদের অনেক উপকার হয় আলহামদুলিল্লাহ। অনেক অসুস্থ ব্যক্তি সুস্থতা লাভ করেছেন, বাড়ি ঘরে খারাপ জিন্নাত এর বিভিন্ন সমস্যা থেকে মুক্তি পেয়েছেন এরকম অনেক খবর আমাদের জানা আছে আলহামদুলিল্লাহ। হযরত ফকিহুল মিল্লাত রহ. আমাকে বলেছিলেন এই আমলের বিনিময়ে কোন কিছু গ্রহণ করতে পারবেনা, এজন্য আমরা এই আমলকে প্রকাশ্যেই করে থাকি, যেনো সকলের নেক ধারনা বাকি থাকে।

বিশেষভাবে সূরা ফাতিহার আমলের নিয়ম

  • প্রথমে ৭ বার যেকোন দরুদ শরীফ।
  • এরপর বিসমিল্লাহ এর সাথে মিলিয়ে ৭ বার সূরা ফাতিহা পড়া এভাবে بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ الْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعٰلَمِيْنَ
  • এরপর আবার যেকোনো দরুদ শরীফ ৭ বার পড়া

এরপর কেউ তেল বা পানি নিয়ে আসলে দম করে দেওয়া হয়, অতঃপর সকল অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য দুআ করা হয়। হযরত ফকিহুল মিল্লাত রহ. বলেনঃ এই আমল হযরত রহ. এর উস্তাদ কুতুবুল আলম হযররত মাদানী রহ. শিখিয়েছেন ও আমল করার অনুমতি দিয়েছেন।

হযরত দা. বা. বলেনঃ উপরোক্ত মামুলাতসহ মাদরাসার নির্দেশিত সকল মামুলাতে, সকল ত্বলাবা-আসাতিযাগনের সার্বিক অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক, মাদরাসার সকল ত্বলাবা-আসাতিযাদের চলমান রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক দলসমূহের সাথে যে কোন প্রকার সম্পৃক্ততা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, মাদরাসার সকল ত্বলাবাদের জন্য যে কোন প্রকার মোবাইল ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, এসংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে কেউ অপরাধী প্রমাণিত হলে তাকে আমরা মাদরাসায় রাখতে পারি না।

হযরত দা. বা. বলেনঃ আমরা প্রচলিত বিভিন্ন নিয়ম-কানুন যেগুলো অন্যান্য বিভিন্ন মাদরাসাতে রয়েছে একটু এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি। এর মূল কারণ হলো আমাদের আকাবির ও আসলাফগণ এগুলো করতেন না। কিভাবে শুরু হলো সেটাও জানা নেই, বিষয়টি হলো মসজিদে মসজিদে জুমুআর নামাজের পর বা বিভিন্ন নামাজের পর কালেকশনের জন্য মগ চালানো, এই মগ চালানো জায়েজ হলেও আমি ব্যক্তিগতভাবে আমাদের আকাবির আসলাফদের আদর্শ অনুযায়ী আমাদের আদর্শ প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিশেষভাবে আমাদের এখানে আমরা মাদরাসার জন্য বে-বরকতীর কারণ মনে করি। এগুলো মাদরাসাওয়ালাদেরকে, মসজিদওয়ালাদেরকে, আল্লাহওয়ালাদেরকে অসম্মান ও বে-ইজ্জতীর মত কারণ। তেমনি ভাবে মাদরাসা বা মসজিদের গেইটে বা আশেপাশের কোথাও মুক্ত হস্তে দান করার জন্য বক্স বানানো, এগুলো মাদরাসা-মসজিদওয়ালাদের আদর্শ নয়, এছাড়া এই বক্সের মধ্যে কে যাকাতের টাকা দিল? কে মান্নতের টাকা দিল? আর কে সাধারণ টাকা দিল এটাও নির্ণয় করা সম্ভব নয়। আমাদেরকে হযরতওয়ালা মুরশিদুস সুন্নাহ দা. বা. ও হযরত ফকিহুল মিল্লাত রহ. এগুলো থেকে অনুৎসাহিত করেছেন, আমরা আল্লাহ তাআলার কাছে চাইতে থাকবো এটা আমাদের কাজ, আর আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে দিতে থাকবেন এটা আল্লাহ তাআলার কাজ। মাঝখান থেকে এই সমস্ত কোথা থেকে আমাদের মাদরাসাগুলোতে ঢুকে গেছে জানা নেই, আল্লাহ তাআলা হেফাজত করেন, আমিন।

বিস্তারিত জানতে আমাদের “মামুলাতে মাদরাসা” কিতাবটি পড়ুন