Rahmania Madrasah Sirajganj

ঐক্যে মাঝে বাঁধা কি তাহলে চরমোনাই? ঐতিহাসিক তথ্যে যা জানা গেল!

কি কারণে চরমোনাই ফেরকার সাথে আজও পর্যন্ত ঐক্য হয়নি ওলামায়ে দেওবন্দ!!!!

“চরমোনাই ফেরকা বনাম শীর্ষ উলামা-মাশায়েখ”

*আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী রহ:
*আল্লামা আজিজুল হক রহ:
*আল্লামা মুফতী সাঈদ আহমদ পালনপুরী রহ:
*আল্লামা আরশাদ মাদানী দা:বা:
*আল্লামা মুফতী ফজলুল হক আমিনী রহ:
*আল্লামা মুফতী আবুল কাসেম নোমানী দা:বা:
*আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী সাহেব রহ:
*আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী রহ:
*আল্লামা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী দা:বা:
*আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী দা:বা:
*আল্লামা মুফতী আবু সাঈদ দা:বা:
*আল্লামা মুফতি নুর আহমদ দা:বা:
*মাওঃ মহিউদ্দিন খান রহ:
*মাওঃ আব্দুল হামীদ পীর সাহেব মধুপুর দা:বা:
*আল্লামা মুস্তফা আল হোসাইনী রহ:
*মাওঃ মুমতাজুল করীম বাবা হুজুর দা:বা:
*মুফতী আব্দুল আযীয কাসেমী দা:বা:

*শাইখুল হাদীস মাও: উবায়দুল্লাহ ফারুক দা:বা:

“মুরুব্বীদের দৃষ্টিতে চরমোনাই!!!

★{{{আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী রহঃ}}}
মহাপরিচালক ও শাইখুল হাদীস, হাটহাজারী মাদ্রাসা।
সাবেক আমীর, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

★{{{আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী রহ:}}}
শাইখুল হাদীস, হাটহাজারী মাদ্রাসা, চট্টগ্রাম।
সাবেক আমীর, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

*2018সনে দেওবন্দের মেহমানখানায় আল্লামা পালনপুরী রহ: আল্লামা আহমদ শফী রহ: এর নিকট চরমোনাই সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন,”চরমোনাইরা মুরুব্বী মানে না। মুরুব্বিদের সাথে থাকে না”

২০১৮ সালে দেওবন্দের মেহমানখানায় এই আলোচনার সময় বহু বাংলাদেশী তালিবে ইলম ও হাযির ছিল।

*একদিন বাদ যোহর হাটহাজারী মাদ্রাসার বড় মসজিদে আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেন-“আজ কলেজ মাঠে চরমোনাই মাহফিল।তারা মুরুব্বীদের সাথে বেয়াদবি করে। মুফতিয়ে আজম হজরত ফয়জুল্লাহ রহ:কে ‘ফাত্তানে আজম” বলে গালি দিয়েছে।তোমরা কেউ আজ মাদ্রাসা থেকে বের হবে না।

*আল্লামা শাহ আহমদ শফী সাহেব রহ:,আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী সাহেব রহ: প্রমুখ বুযুর্গানে দীন প্রথম দিকে চরমোনাই মাহফিলে গেলেও পরবর্তীতে আর তাদের বেয়াদবির কারনে যেতেন না।

★{{{আল্লামা সাঈদ আহমদ পালনপুরী রহ:}}}
শাইখুল হাদীস, দারুল উলুম দেওবন্দ,ভারত।

*চরমোনাইরা বহু চেষ্টা করেছিল-আল্লামা পালনপুরী রহ:কে তাদের মাহফিলে আনতে। কিন্তু তিনি তাদের দাওয়াত সরাসরি প্রত্যাখান করে দিতেন।

*তিনি তাদেরকে তাদের বেয়াদবির কারণে “চরমুন্ডা” বলতেন।

*এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “যে পীর সাহেব ‘ভোটের রাজনীতিকে জিহাদ বলে, এবং সে দলের নেতাকে আমীরুল মুজাহিদীন বলে “উনকা দিমাগ খারাব হে”

★{{{আল্লামা মুফতী আবুল কাসেম নোমানী দা:বা:}}}
মহাপরিচালক, দারুল উলুম দেওবন্দ, ভারত।

*চরমোনাইরা বহু চেষ্টা-তাদবীর করেছে-তাঁকে তাদের মাহফিলে এনে নিজেদেরকে আহলে হক দাবী করে ভালোভাবে ধর্মব্যবসা করার জন্য।কিন্তু তিনি তাদের দাওয়াত প্রত্যাখান করে দিতেন।

*এক.
“আল্লামা আহমদ শফী রহ: অসুস্থ হয়ে ইন্ডিয়াতে
চিকিৎসা নিতে গিয়ে ছিলেন৷ চিকিৎসা শেষে দারুল উলূম দেওবন্দ যিয়ারত করতে চান৷ খবর শুনে উস্তাদে মুহতারাম আরশাদ মাদানী হাফি: দিল্লি থেকে মাওলানা শফী সাহেব রহ:কে রিসিভ করে দেওবন্দ নিয়ে আসেন৷

পরদিন সকালে আল্লামা শফী সাহেবের সাথে সাক্ষাতের দারুল উলূমের মুহতামিম সাহেব ‘মাওলানা আবুল কাসেম নোমানী’ মেহমান খানার খাস কামরায় আসলেন৷ আল্লামা শফি সাহেবকে সালাম দিয়ে মুসাফা করলেন৷

বললেন,
میں ابوالقاسم ہوں. دارالعـلوم کا احقـر خادم ہوں. آپ خـیریت سے ہے؟؟
পাশ থেকে এক বাঙ্গালী ছাত্র বলে দিলেন যে, ইনি দারুল উলূমের মুহতামিম সাহেব৷ তখন শফি সাহেবও উর্দুতে কথা বললেন৷ সে সময় আল্লামা শফি সাহেবের কথা পরিষ্কার বোঝা যেতো৷

কথা বার্তার এক পর্যায়ে মুহতামিম সাহেব আল্লামা শফি সাহেবকে বললেন:
حضرت آپ سے ایک بات جاننا ضروری ہے. مجہے بنغلادیش سے چر مونای والوں نے فون کیا تہا. اور انہوں کے اپنا ایک پروگرام کیلئے مجہے دعوت دی.
کیا میں وہاں جا سکتاہوں
চরমোনাই আসার ব্যাপারে অনুমতি চাইলে, শফি সাহেব উত্তর দিয়েছিলেন:
نہی آپ وہاں مت جایئے. وہ لوک علمائے اھل حق مے سے نہی ہے…

★{{{তরজুমানে আহলে সুন্নাহ,বাতিলের আতংক, আল্লামা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী দা:বা:}}

*তিনি আগে চরমোনাইদের মাহফিলে গেলেও এখন আর যান না।তিনি অন্যান্য ফেরাকে বাতেলার ন্যায় চরমোনাই ফেরকারও মুখোশ উন্মোচন করছেন।তাদের প্রচলিত বেদয়াত মার্কা যিকির সম্পর্কেও কুরআন- সুন্নাহর নির্দেশনা তুলে ধরেছেন। তবে তাদের মুখোশ উন্মোচন করার ক্ষেত্রে সরাসরি চরমোনাই নাম উল্লেখ করেন না।

★{{{আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী রহঃ}}}
মহাপরিচালক ও শাইখুল হাদীস, বারিধারা মাদ্রাসা।
সাবেক মহাসচিব, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

চরমোনাই দুই ভাই সব সময় প্রখ্যাত বুজুর্গ আল্লামা কাসেমীকে বাতিল বলতেন।

★{{{মাও:মুমতাজুল করীম বাবা হুযুর দা:বা:}}}
উস্তাদ, দারুল উলুম হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।

*এই সফরে মাওঃ মুমতাযুল করীম বাবা হুযুর (দা:বা:) কে(উত্তরখান দারুল ফালাহ) দেখে যাওয়ার দরখাস্ত করলে তৎক্ষণাৎ আসবেন বলে অধমের আবেদন কবুল করেন।সেদিন আমি হুযুরের সাথের সিটে বসে হুযুরের যবান থেকে সরাসরি শুনেছে, চরমোনাই দুই পীর সাহেব বাবা হুজুরকে কী পরিমাণ কষ্ট দিয়েছে। এমনকি সে সফরে গাড়ীতে বসেই মোবাইলে বিভিন্ন সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সরাসরি হুযুরের যবানে চরমোনাই পীরকে অনেক গালি-বকা দিতে শুনেছি।

★{{{আল্লামা মুফতী নুর আহমদ সাহেব দা:বা:}}}
প্রধান মুফতি, হাটহাজারী মাদ্রাসা, চট্টগ্রাম।

*কয়েক বছর পূর্বে নির্বাচনের দিন এক ব্যক্তি হাটহাজারী মাদরাসার প্রধান মুফতি,আল্লামা নুর আহমদ সাহেব দা:বা: এর নিকট এসে বলেন-হুজুর! হাতপাখায় কি ভোট দিব? তিনি উত্তরে বলেন- হাতপাখায় ভোট দিতে কে বলেছে? ….

★{{{মাও: মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী দা:বা:}}}
আমীর, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।
মহাপরিচালক, বাবুনগর মাদ্রাসা, চট্টগ্রাম।

★{{{মাওঃ আব্দুল হামীদ পীর সাহেব মধুপুর দা:বা: এবং মুফতী ইযহারুল ইসলাম চৌধুরী হাফি:}}}

*২০১৩ সালে হাটহাজারী মাদ্রাসায় হেফাজতের ওলামা সম্মেলনে চরমোনাইরা মুরুব্বীদের বয়ানে বিঘ্নতা সৃষ্টি,বেয়াদবী এবং ফেতনাবাজী করতে চাইলে মাও: মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী দা:বা:, এবং মুফতী ইযহারুল ইসলাম চৌধুরী হাফি: প্রমুখ শীর্ষ উলামায়ে কেরাম চরমোনাই পীর মৌলভী রেজাউল কারীম সাহেবকে হেয় প্রতিপন্ন করতে চেয়েছিলেন। এজন্য দেখা গেছে পরবর্তীতে ফয়জুল করিম আল্লামা শাহ আহমদ শফীকে শুকরানা মাহফিলের পর বিশাল ওয়াজের মধ্যে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছে এমনকি হুজুরকে খুব উশৃংখলতার সাথে বারবার ফাসেক বলতে দেখা গিয়েছে।
*২০১৩ সালে হাটহাজারী মাদ্রাসায় হেফাজতের ওলামা সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রায় সকল মুহতামিম ও উল্লেখযোগ্য শাইখুল হাদিস বড় বড় আলেম ওলামাদের উপস্থিতিতে চরমোনাইর পীর কোন একজনের বয়ানে বিঘ্নতা সৃষ্টি,বেয়াদবী এবং ফেতনাবাজী করতে চাইলে পরিস্থিতি অত্যান্ত ঘোলাটে ও হৈ-হুল্লোড় কর বিশৃংখল সামাল দিতে গিয়ে বলেছিলেন শত বছরের এই মকবুল এদারায়ে আজ পর্যন্ত কেউ বেয়াদবি করে ছাড় পায়নি বেয়াদব কে আল্লাহ ছাড় দেবেন না। এরপর আল্লামা আহমদ শফি রাহিমাহুল্লাহ মুনাজাতের মধ্যে ওই দিন বলেছিলেন আজকের বেয়াদবি ও ভবিষ্যতের সকল বেয়াদবি ক্ষমা করে দিলাম।

*চরমোনাই নেতা গাজী আতাউর রহমান সাহেব ৭মে তারিখের পোস্টে লেখেছেন-তাঁরা (উপরে উল্লিখিত শীর্ষ উলামায়ে কেরাম) সেদিন চরমোনাই পীর সাহেবকে অপমান-অপদস্থ করেছিলেন”
এবং সে পরবর্তীতে হিন্দুত্ববাদের আগ্রাসনের শিকার হয়ে যখন হেফাজতের শীর্ষ ওলামায়ে কেরাম সরকারের জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়ে কারাগারে বন্দী আছেন তখন অদৃশ্য কোনো অপশক্তির ইশারায় সে হেফাজতের বিরুদ্ধে সিরিজ লেখার সময় উল্লেখ করেছেন যে পীর সাহেব মধুপুর দা: বা:, চরমোনাই পীরকে বেয়াদব বলেছিলেন অথচ তিনি নাম উল্লেখ করে কাউকে বেয়াদব বলেননি তিনি উসুলি কথা বলেছেন যে এই মকবুল এদারায়ে কোন বেয়াদব আজ পর্যন্ত বেয়াদবি করে পার পেয়ে যেতে পারেনি।

★{{{মাও: মুহিউদ্দীন খান রহ:}}}

চরমোনাই সম্পর্কে মাও: মুহিউদ্দীন খান রহ: বলেন,”যদি কেউ এ যুগে দাজ্জাল দেখতে চায়,সে যেন চরমোনাই পীরের ছেলেদেরকে দেখে”

★{{{শাইখুল হাদীস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারূক সাহেব হাফি:}}}

তিনি বলেন, যে ছাত্রের ইলমে শয়তান পেশাব করে,সেই চরমোনাই করে”
(২০১৪সালে জমিয়তের আঞ্চলিক সভায়)

★{{{শাইখুল হাদীস মাও:আজিজুল হক রহ: এবং মুফতী ফজলুল হক আমিনী রহ:}}}

জনপ্রিয় ইসলামী রাজনীতিবীদ এই দুইজন শীর্ষ আলেমকে চরমোনাইরা কী পরিমাণ কষ্ট দিয়েছে,তা দেশবাসীর কাছে অজানা নয়। এই ফেতনাবাজ ফয়জুল করিম বলেছিল মুফতি আমিনী সাহেব রাহিমাহুল্লাহ নাকি নিফাকের উপর মৃত্যুবরণ করেছে নাউজুবিল্লাহ মিন জালিক অথচ তিনি শাহাদাত বরণ করেছেন প্রায় দুই বছর জালিমের নির্যাতন ভোগ করে।

মৌলভী ফজলুল করীম রহ: তার আপন উস্তাদ শাইখুল হাদীস রহ: কে ঐক্যজোটে যাওয়ায় কটাক্ষ করে বলেন- “নারীর কাপড়ের আঁচলের নীচে যেতে মজা….সেখানে গিয়ে ইসলামী হুকুমত কায়েম করা যাবে?….

★{{{আল্লামা মুস্তফা আল হোসাইনী রহ:}}}

রামপুরা জামিয়া কারিমিয়ার শাইখুল হাদীস, চরমোনাই দলের প্রথম সারীর রাজনীতিবীদ সেরা আলেম, শীর্ষ ইতিহাসবীদ অদ্বিতীয় ওয়ায়িজ,আল্লামা মুস্তফা আল হোসাইনী রহ: সারা জীবন চরমোনাই করলেও তাদের বেয়াদবী- অবমূল্যায়ন প্রভৃতির কারণে তিনি চরমোনাই দল বর্জন করেন।তাদের সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করে জমিয়তে যোগ দেন।

★{{{মুফতী আব্দুল আযীয কাসেমী দা:বা:}}}

রাজধানীর অন্যতম সেরা প্রতিষ্ঠান “জামিউল উলুম” মিরপুরের প্রধান মুফতী ও বিশিষ্ট মুহাদ্দিস,উস্তাযে মুহতারাম,মুফতী আবদুল আযীয কাসেমী হাফি: দরসে বলেছেন- “দেওবন্দে আমাদের দাওরায়ে হাদীস পড়ার সময় চরমোনাই সেকেন্ড পীর দেওবন্দে যান। দেওবন্দের দাখেলা পরীক্ষা কঠিণ হওয়ায় তিনি ভর্তি পরীক্ষাই দেন নি। তাই, তিনি দেওবন্দে ভর্তি হতেই পারেন নি। তারপর কয়েকজন বাঙালী ছাত্রদের আবেদনে ওয়াকফে কেরাত বিভাগে পড়ার সুযোগ করে দেয়া হয়।কিন্তু তিনি কয়েক মাস থেকে চলে আসেন।এখন কাসেমী হয়ে গেছেন!!

★{{{আল্লামা মুফতী আবু সাঈদ দা:বা:}}}
প্রধান মুফতি, ফরিদাবাদ মাদ্রাসা,ঢাকা।
পীর সাহেব ফুলছোঁয়া, চাঁদপুর।

২০০৫/৬ শিক্ষাবর্ষে ফরিদাবাদ মাদরাসায় সুনানে আবু দাউদের দরসে “ইসলামী রাজনীতির ঐক্য” বিষয়ে তাঁর বক্তব্য

(১) হুযূর বলেন, জাতীয় খতীব আল্লামা ওবায়দুল হক সাহেবের প্রতিনিধি দলের মুখপাত্র হয়ে আমিসহ আলেমদের একটি প্রতিনিধিদল প্রথমে রামপুরা জামিআ কারিমিয়ায় চরমোনাই পীর সাহেবের কাছে যাই ৷ তিনি শর্ত দিলেন, “শায়খুল হাদীস আর আমিনীকে আগে চার দলীয় জোট ছাড়তে হবে ৷”
উপস্থিত আলেমগণ বললেন, হুযূর ঐক্যের বৃহত্তর স্বার্থে শর্ত না দিলে ভাল হয় ৷
পীর সাহেব বললেন, নারী নেতৃত্ব হারাম, না ছাড়লে ঐক্য হবে না ৷
মুফতী আবূ সাঈদ সাহেব বললেন, হুযূর! গণতন্ত্রও তো হারাম, ঠেকায় পড়ে করছেন না ?
পীর সাহেব চরমোনাই তখন গরম হয়ে বললেন, গণতন্ত্র হারাম আপনাকে কে বলেছে ? গণতন্ত্র সম্পূর্ণ জায়েয ৷

(তখন হুযূর আমাদেরকে বললেন, দেখছেন ! যিনি গণতন্ত্রকে জায়েয বলেন, তিনি আবার নারী নেতৃত্বকে হারাম বলেন, অথচ যে যুক্তিতে গণতন্ত্র জায়েয, ঐ যুক্তিতে তো নারী নেতৃত্বও জায়েয হয় ৷)

পীর সাহেবের অনড় অবস্থান দেখে প্রতিনিধি দল খতীব সাহেবের পরামর্শে শায়খুল হাদীস ও মুফতী আমিনী রহিমাহুমাল্লাহ্ এর কাছে যান ৷ তাঁদের উভয়ের বক্তব্য ছিল, “ঠিক আছে বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে আমরা চার দলীয় জোট ছাড়তে রাজি ৷”

(২) এবার প্রতিনিধি দল আবার রামপুরা কারিমিয়ায় পীর সাহেব চরমোনাইয়ের কাছে এসে জানান যে, তাঁরা উভয়ে ঐক্যের স্বার্থে চারদল ছাড়তে রাজি আছেন ৷

পীর সাহেব চরমোনাই রহ. তখন আবার নতুন শর্ত দিলেন যে, “ঐক্য হতে হলে নেতৃত্ব ইসলামী শাসনতন্ত্রের হাতে থাকতে হবে ৷” সবাই যতই বুঝালেন, সবাই মিলে যাকে আমীর বানাতে হবে, তিনিই আমীর হবেন, কিন্তু পীর সাহেব এ শর্তেও অনড়।
অর্থাৎ তাকে আমির বানানোর জন্য শর্ত দিচ্ছে!

প্রতিনিধিদল আবার গেলেন শায়খুল হাদীস রহ. এর কাছে ৷ গিয়ে পীর সাহেবের শর্ত জানালেন ৷ সবাইকে অবাক করে দিয়ে শায়খুল হাদীস রহ. বললেন, “ঐক্যের স্বার্থে ফজলুল করীম সাহেবকে আমীর মানতে আমার অসুবিধা নাই, আপনারা আমিনীর কাছে যান ৷”

সবাই আমিনী রহ. এর কাছে গেলে তিনিও শায়খের কথায় একমত পোষণ করেন ৷

(৩) এবার প্রতিনিধিদল আবার কারিমিয়ায় পীর সাহেবের কাছে এসে শায়খ ও আমিনীর অনাপত্তি জানালে পীর চরমোনাই এবার আবার নতুন শর্ত দেন ৷ “ঐক্য হলে আমিনী মহাসচিব হতে পারবে না ৷”
সবাই ঐক্যের স্বার্থে এমন শর্ত না দেয়ার অনুরোধ করলেও তিনি সাফ জানিয়ে দেন ৷ আমিনী মহাসচিব হলে ঐক্য হবে না ৷
এবার প্রতিনিধিদল শায়খের কাছে গেলে তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যানের পদ আমি ছেড়ে দিতে পারব ৷ কিন্তু আমিনী মহাসচিব হবে না, এ কথা আমি বলতে পারব না ৷”

প্রতিনিধিদল সে প্রস্তাব নিয়ে আর মরহুম আমিনী রহ. এর কাছে যাননি ৷

সে সময়ের ঐক্য প্রচেষ্টা এভাবেই ব্যর্থ হয় চরমোনাই এর কারণে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য
এদেশের ওলামায়ে কেরামের মাঝে ঐক্য না হওয়ার পিছনে সব সময় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে চরমোনাই এর কারণে!

পড়েছেনঃ 226 জন