আরবী তারিখঃ এখন ১৬ জিলহজ ১৪৪৫ হিজরি মুতাবিক, ২৩ জুন ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, রোজ রবিবার, সময় সন্ধ্যা ৬:০৮ মিনিট
খানকাহ এর সুন্নতী ইজতেমা ও মারকাজী মজলিসে আইম্মাহ সমূহ
সুন্নতী ইজতেমাঃ প্রতি বছরের মাহে মুহাররম, মাহে রবিউস সানী ও মাহে রজব এর প্রথম সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার হযরাতে সালেকীনদের জন্য রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ প্রাঙ্গনে খানকাহে ইমদাদিয়া আশরাফিয়ার সুন্নতী ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ।
মারকাজী মজলিসে আইম্মাহঃ ১. মাহে শাউয়ালের শেষ শনিবার। ২. মাহে যিলহজের শেষ শনিবার। ৩. মাহে সফরের শেষ শনিবার। ৪. মাহে রবিউস সানীর শেষ শনিবার। ৫. মাহে জুমাদাল আখিরাহ এর শেষ শনিবার। ৬. মাহে রজবের শেষ সপ্তাহে বিষয় ভিত্তিক মজলিস।
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ- ✓✓ প্রতি আরবী মাসের শেষ বৃহস্পতিবার রহমানিয়া মাদরাসার সকলের জন্য মাসিক সুন্নতী ইজতেমা হবে। ✓✓ প্রতি বছর ২০ শাবান থেকে ৩০ রমাযানুল মুবারক পর্যন্ত ৪০ দিন, রমাযানুল মুবারক এর প্রথম ১৫ দিন, রমাযানুল মুবারক এর শেষ দশক হযরাতে সালেকীনদের জন্য এতেকাফ হবে ইনশাআল্লাহ।
সুন্নতী মজলিস/মজলিসে আইম্মাহ সমূহ (আঞ্চলিক)
সুন্নতী মজলিসঃ ১. ২৯ জুন ২৪ ইং রোজ শনিবার শাহজাদপুরের গাড়াদহ ফিল্ড জামে মসজিদে সুন্নতী মজলিস। ২. ১৩ জুলাই ২৪ ইং রোজ শনিবার উল্লাপাড়ার ডেফলবাড়ী নুরানীয়া হাফিজিয়া মাদরাসায় সুন্নতী মজলিস।
মজলিসে আইম্মাহঃ ১১ জুলাই ২৪ ইং রোজ বৃহস্পতিবার চরমেটুয়ানী মসজিদে ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়নের মজলিসে আইম্মাহ।

এখন মানুষের দোষ বেশি; কিন্তু আপনার আমার করনীয় কি?

ফকিহুল মিল্লাত আল্লামা মুফতি আব্দুর রহমান রহমতুল্লাহি আলাইহি বলতেন ,আগের যুগে মানুষের গুণ বেশি ছিল, দোষ কম ছিল। তখন দোষ-গুণ উভয়টি দেখা হতো। এখন বর্তমান যুগে মানুষের দোষ বেশি। গুণ কম। এখন মানুষের দোষ দেখিও না। যার মধ্যে যে গুণ বিদ্যমান আছে, তা থেকে উপকৃত হতে চেষ্টা করবে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কারো দোষ দেখে গোপন করবে সে ওই ব্যক্তির মতো সাওয়াব পাবে, যে কোনো জীবিত কবরস্থ ব্যক্তিকে জিন্দা করল (উদ্ধার করে প্রাণ রক্ষা করলো)।

আরেক হাদীসে আছে যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কারো দোষ ত্রুটি গোপন রাখবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা’আলা তার দোষ ত্রুটি গোপন রাখবেন।

এক মাদ্রাসার মুহতামিম সাহেবের ব্যাপারে একটি বিষয়ে অবগত হয়ে খুব খুশি হলাম। তিনি তাঁর মাদ্রাসায় নিয়ম করে দিয়েছেন, কোন ওস্তাদ এবং তালেবে ইলম অন্য ওস্তাদ বা তালিবেইলমের মধ্যে কী গুণ লক্ষ্য করেছে প্রতিদিন তা বলতে হবে। বলতে হবে আজকে আমি অমুক ওস্তাদ বা তালিবেইলমের মধ্যে এই গুণটি লক্ষ্য করেছি। প্রতিদিন কারো না কারো একটি গুণ খুঁজে বের করতে হবে। জানতে পারলাম এতে ওই মাদ্রাসার ওস্তাদ তালেবেইলমদের মধ্যে গীবত এবং সমালোচনা প্রায় বিদায় নিয়েছে। বিরাজ করছে জান্নাতি সুন্দর পরিবেশ।

মনে মনে দোয়া করলাম ওই মুহতামিম সাহেব এবং ওই মাদ্রাসার সকল ওস্তাদ তালবেইলমদের জন্য।

আসুন আমরা মানুষের দোষ ত্রুটি চর্চা ত্যাগ করি। গুণ চর্চা শুরু করি। মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন। গীবত আর সমালোচনায় ভরপুর হয়ে গেছে মাদ্রাসা, মসজিদ এবং সারা দেশের পরিবেশ। কারো না কারো না হলে কমপক্ষে সরকারের বিভিন্ন কাজের অপ্রয়োজনীয় সমালোচনা আর গীবত তো চলছেই হরদম। পুরো পরিবেশ আজ গীবত আর দোষ চর্চার বিষাক্ত ছোবলে আক্রান্ত হয়ে গেছে।

মনে রাখতে হবে কিয়ামতের দিন হাজ্জাজ বিন ইউসুফের যেমন জুলুমের বিচার হবে তদ্রুপ আমি গীবত করে থাকলে আমাকেও কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। বিচারের সম্মুখীন হতে হবে।

আল্লাহ তা’আলা সবাইকে হিফাজত করুন‌।

Loading