Rahmania Madrasah Sirajganj

এক নযরে নামাজের সকল ফরয, ওয়াজিব, সুন্নত, মুসতাহাব সমূহ ও নারীদের নামাজের পার্থক্য


نحمدہ و نصلي علي رسوله الکریم اما بعد

নামাজ হলো সকল ইবাদাত এর মাথা, নামাাজ ঠিক থাকল, সব ঠিক থাকল, নামাজ কেউ ঠিক মতো পরল, তো এই নামাজ তাকে সব ধরনের অপকর্ম থেকে হেফাজত করবে৷ আর নামাজ কেউ পরল না, নামাজে গলত হয়ে গেল, তো আস্তে আস্তে সব কাজে গলত শুরু হয়ে যাবে৷ এজন্য নামাজের দুরস্তি বিশেষ প্রয়োজন৷ শুধু নামাজের সুন্নত, মুস্তাহাব্বাত বা ফরাইজ জানলে হবে না, এগুলো কোন মুত্তাবেয়ে সুন্নত থেকে আমলী মশকের মাধ্যমে ঠিক করে নিতে হবে৷ নইলে এমনি এমনি আমল করা সম্ভব নয়, এজন্য আমরা এখান থেকে ইনশাআল্লাহ নামাজ এর মৌলিক মাসাইল গুলো জেনে নেব, আর কোন আল্লাহওয়ালাকে আমলে মশক করিয়ে নেব, ইনশাআল্লাহ৷

নামাযের বাহিরে ৭টি ফরজ, যেগুলোকে নামজের শর্ত বলা হয়।

১। শরীর পবিত্র থাকা (সুনানে আবী দাউদ, ৬৫০)
২। কাপড় পবিত্র থাকা (সুরা মুদ্দাসিসর, ৪)
৩। নামজের স্থান পবিত্র থাকা (সুরা হজ, ২৬)
৪। সতর ঢাকা (সুরা আরাফ, ৩১)
৫। কেবলামুখি হওয়া (সুরা বাকারাহ, ১৪৪)
৬। ওয়াক্ত মতো নামাজ পড়া
৭। নামাজের নিয়ত করা (সুরা বায়্যিনাহ, ৫)

নামাজের ভিতরের ছয়টি ফরজ,  নামজের রোকন বলা হয়।

১। তাকবিরে তাহরিমা( আল্লহু আকবার) বলা
২। কিয়াম করা (দারিয়ে নামাজ পড়া)
৩। কেরাত পড়া
৪। রুকু করা
৫। দুই সেজদা করা
৬। শেষ বৈঠক কর।(হেদায়া-১/৯৭)

নামজের ওয়াজিব ২১ টি

১। তাকবিরে তাহরিমা বলার সময় আল্লাহু আকবার বলা (আদ্দুররুল মুখতার-মাআ শামী-২/২৭৮)
২। সুরা ফাতেহা পড়া
৩। সূরা ফাতেহার সাথে অন্য সূরা মিলানো
৪। ফজর নামজের প্রথম দুই রাকাত কেরাতে জন্য নির্দিষ্ট করা
৫। কেরাতের পূর্বে সূরা ফাতেহা পড়া
৬। সূরা ফাতেহা একাধিকবার না পড়া (হিন্দিয়া-১/১২৮)
৭। যেহরী (উচ্চস্বরে কেরাত পড়া হয় এমন) নামজে উচ্চস্বরে কেরাত পড়া
৮। সিররী (অনুচ্চস্বরে কেরাত পড়া হয় এমন) নামজে অনুচ্চস্বরে কেরাত পড়া।(ফাতাওয়া শামী-২১৫)
৯। নামাজের রোকন সমূহ ধিরস্থিরভাবে আদায় করা, রুকু সিজদায় এক তাসবিহ পরিমান দেরি করা৷ ( হিন্দিয়া-১/১২৯)
১০। রুকু থেকে উঠে সোজা হয়ে ইত্বমিনানের সাথে দাঁড়ানো (শামী-২/১৫৮)
১১। সেজদার মাঝে কপাল ও নাক জমিনের সাথে লাগিয়ে রাখা। (শামী-২/২০৪)
১২। প্রত্যেক রাকাতে এক সেজদার পর অপর সেজদা করা (শামী -২/১৫৩)
১৩। উভয় সেজদার মাঝে ইত্বমিনানের সাথে বসা। (শামী-২/১৫৮)
১৪। প্রথম বৈঠক করা ।(বাদায়েউস সানায়ে-১/৩৯৯)
১৫। প্রথম বৈঠক ও শেষ বৈঠকে তাশাহ্যুদ পড়া। (শামী -২/১৫৯)
১৬। প্রথম বৈঠকের পরে বিলম্ব নাকরে তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়ানো । (মারাকিল ফালাহ-১৩৬)
১৭। নামজের ক্রিয়া সমূহের মাঝে তারতীব রক্ষা করা। |(হালবী কাবীর-২৯৭)
১৮। সালাম শব্দ দ্বারা নামাজ শেষ করা। (আদ্দুররুল মুখতার মাআ শামী-২/১৬২)
১৯। বেতের নামাজে দোয়ায়ে কুনুত পড়া। (আদ্দুররুল মুখতার মাআ শামী-২/১৬৩)
২০। দুই ঈদের নামজে অতিরিক্ত ছয় তাকবির বলা। (আদ্দুররুল মুখতার মাআ শামী-২/১৬৩)
২১। দুই ঈদের নামজেট দ্বিতীয় রাকাতে রুকুর তাকবীর বলা।(মারাকিল ফালাহ-৯৩)

নামাজের সুন্নত মোট ৫১ টি

ক. দাঁড়ানো অবস্থায় সুন্নাত ১১টি

১. উভয় পায়ের আঙ্গুলসমূহ কিবলামুখী করে রাখা এবং উভয় পায়ের মাঝখানে চার আঙ্গুল, উর্ধ্বে একবিঘত পরিমাণ ফাঁকা রাখা। (নাসায়ী হাঃ নং ৮৯২/ হিন্দিয়া, ১ : ৭৩)

২. তাকবীরে তাহরীমার সময় চেহারা কিবলার দিকে রেখে নজর সিজদার জায়গায় রাখা এবং হাত উঠানোর সময় মাথা না ঝুঁকানো। (তিরমিযী, হাঃ নং ৩০৪/ মুস্তাদরাক, ১৭৬১)

৩. উভয় হাত কান পর্যন্ত উঠানো। অর্থাত উভয় হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলির মাথা কানের লতি পর্যন্ত উঠানো। (মুসলিম, হাঃ নং ৩৯১)

৪. হাত উঠানোর সময় আঙ্গুলসমূহ ও হাতের তালু কিবলামুখী রাখা। (তাবরানী আউসাত, হাঃ নং ৭৮০১)

৫. আঙ্গুলসমূহ স্বাভাবিক রাখা অর্থাত একেবারে মিলিয়েও না রাখা, আবার বেশি ফাঁক ফাঁক করেও না রাখা। (মুস্তাদরাক, হাঃ নং ৮৫৬)

৬. ইমামের তাকবীরে তাহরীমার সাথে সাথে মুক্তাদীর তাকবীরে তাহরীমা আদায় করা, যদি মুক্তাদির তাকবিরে তাহরিমা ইমামের তাকবীরে তাহরীমার পূর্বে শেষ হয়, তাহলে মুক্তাদীর নামায হবে না।(মুসলিম, হা নং ৪১৪, ৪১৫/ বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৭৩৪)

৭. হাত বাঁধার সময় ডান হাতের তালু বাম হাতের পিঠের (পাতার) উপর রাখা। (আবু দাউদ, হাঃ নং ৭২৬/ মুসান্নাফে ইবন আবী শাইবাহ, হাঃ নং ৩৯৪২)

৮. ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি ও কনিষ্ঠাঙ্গুলি দ্বারা গোলাকার বৃত্ত বানিয়ে বাম হাতের কব্জি ধরা। (তিরমিযী, হাঃ নং ২৫২/ ইবনে মাজাহ, হাঃ নং ৮১১)

৯. অবশিষ্ট তিন আঙ্গুল বাম হাতের উপর স্বাভাবিকভাবে বিছিয়ে রাখা। (ফাতহুল কাদীর, ১ : ২৫০)

১০. নাভীর নীচে হাত বাঁধা। (আবু দাউদ, হাঃ নং ৭৫৬/ হিন্দিয়া, ১ : ৭৩)

১১. ছানা পড়া। (আবু দাউদ, হাঃ নং ৭৭৫, ৭৭৬)

খ. ক্বিরা‘আতের সুন্নাত ৭টি

১. প্রথম রাকা‘আতে ছানা পড়ার পর পূর্ণ আ‘উযুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ পড়া। (আবু দাউদ, হাঃ নং ৭৬৪/ ইবনে মাজাহ, হাঃ নং ৮০৭)

২. প্রতি রাকা‘আতে সূরা ফাতিহা ও সূরা মিলানোর পূর্বে পূর্ণ বিসমিল্লাহ পড়া৷ (নাসায়ী শরীফ, হাঃ নং ৯০৫)

৩. সূরা ফাতিহার পর সকলেই নীরবে ‘আমীন’ বলা। (সুনানে দারাকুতনী, হাঃ নং ১২৫৬/ বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৭৮০)

৪. ফজর এবং যোহরের নামাযে ত্বিওয়ালে মুফাসসাল (লম্বা ক্বিরা‘আত ) অর্থাত সূরা ‘হুজরাত’ থেকে সূরা ‘বুরূজ’ পর্যন্ত, আসর এবং ইশার নামাযে আউসাতে মুফাসসাল (মধ্যম ক্বিরা‘আত) অর্থাত সূরা ‘ত্বরিক’ থেকে সূরা ‘লাম-ইয়াকুন’ পর্যন্ত এবং মাগরিবে ক্বিসারে মুফাসসাল (ছোট ক্বিরা‘আত) অর্থাত সূরা ‘যিলযাল’ থেকে সূরা ‘নাস’ পর্যন্ত থেকে প্রতি রাকা‘আতে যে কোন একটি সূরা বা কোন কোন সময় বড় সূরা থেকে পরিমাণ মত ক্বিরা‘আত পড়া। (নাসায়ী শরীফ, হাঃ নং ৯৮৩/ মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাঃ নং ২৬৭২)

৫. ফজরের প্রথম রাক‘আত দ্বিতীয় রাক‘আত অপেক্ষা লম্বা করা। অন্যান্য ওয়াক্তে উভয় রাক‘আতে ক্বিরা‘আতের পরিমাণ সমান রাখা উচিত। (মুসলিম শরীফ, হাঃ নং ৪৫১, ৪৫২)

৬. ক্বিরা‘আত অত্যন্ত তাড়াতাড়ি বা একেবারে ধীর গতিতে না পড়া, বরং মধ্যম গতিতে পড়া। (মুসলিম শরীফ, হাঃ নং ৭৩৩)

৭. ফরয নামাযের তৃতীয় এবং চতুর্থ রাক‘আতে শুধু সূরা ফাতিহা পড়া। (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৭৭৬)

গ. রুকুর সুন্নাত ৮টি

১. তাকবীর বলতে বলতে রুকুতে যাওয়া।(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৭৮৯)

২. উভয় হাত দ্বারা হাঁটু ধরা। (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৭৯০)

৩. হাতের আঙ্গুলসমূহ ফাঁক করে ছড়িয়ে রাখা। (আবু দাউদ, হাঃ নং ৭৩১)

৪. উভয় হাত সম্পূর্ণ সোজা রাখা, কনুই বাঁকা না করা। (আবু দাউদ, হাঃ নং ৭৩৪)

৫. পায়ের গোছা, হাঁটু ও উরু সম্পূর্ণ সোজা রাখা। হাঁটু সামনের দিকে বাঁকা না করা। (আবু দাউদ, হাঃ নং ৮৬৩)

৬. মাথা, পিঠ ও কোমর সমান রাখা, উঁচু-নীচু না করা এবং দুই পায়ের মাঝে নজর রাখা। (মুসলিম শরীফ, হাঃ নং ৪৯৮/ বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৮২৮)

৭. রুকুতে কমপক্ষে তিনবার রুকুর তাসবীহ سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيْمْ (সুবহানা রাব্বিয়াল ‘আযীম) পড়া। (আবু দাউদ, হাঃ নং ৮৮৯)

৮. রুকু হতে উঠার সময় ইমামের سَمِعَ اللّٰهُ لِمَنْ حَمِدَهْ ‘সামি‘আল্লাহু লিমান হামিদাহ্ এবং মুক্তাদীর رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدْ ‘রাব্বানা ওয়া লাকাল হাম‌্দ’ এবং একাকী নামায আদায়কারীর উভয়টি বলা। (আলমগীরী, ১ : ১২/ বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৭৮৯, ৭৩৩)

বি.দ্র. রুকু থেকে উঠে সম্পূর্ণ সোজা হয়ে এক তাসবীহ পরিমাণ স্থিরভাবে দাঁড়ানো জরুরী। (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৮০০, ৮০১, ৮০২)

ঘ. সিজদার সুন্নাত ১২টি

১. তাকবীর বলতে বলতে সিজদায় যাওয়া। (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৮০৩)

বি.দ্র. সিজদায় যাওয়া ও সিজদা হতে দাঁড়ানোর সময় তাকবীর এক আলিফ থেকে অধিক টানা উচিত নয়। অবশ্য হদর এবং তারতীলের পার্থক্য থাকবে। (শামী, ১ : ৪৮০)

২. প্রথমে উভয় হাঁটু মাটিতে রাখা। (নাসায়ী, হাঃ নং ১০৮৯/ আবু দাউদ, হাঃ নং ৮৩৮)

৩. তারপর হাঁটু থেকে আনুমানিক এক হাতের একটু বেশি দূরে উভয় হাত রাখা এবং হাতের আঙ্গুলসমূহ কিবলামুখী করে সম্পূর্ণরূপে মিলিয়ে রাখা। (মুসনাদে আহমাদ, হাঃ নং ১৮৮৮২/ সহীহ ইবনে খুযাইমাহ, হাঃ নং ৬৪৩)

৪. তারপর উভয় বৃদ্ধাঙ্গুলির মাথা বরাবর নাক রাখা। (মুসনাদে আহমাদ, হাঃ নং ১৮৮৮০)

৫. তারপর কপাল রাখা। (মুসনাদে আহমদ, হাঃ নং ১৮৮৮০)

৬. অতঃপর দুই হাতের মাঝে সিজদা করা এবং দৃষ্টি নাকের অগ্রভাগের দিকে রাখা। (মুসলিম, হাঃ নং ৪০১/ মুস্তাদরাকে হাকেম, হাঃ নং ১৭৬১)

৭. সিজদায় পেট উরু থেকে পৃথক রাখা। (মুসনাদে আহমাদ, হাঃ নং ২৩৬৬২/ আবু দাউদ, হাঃ নং ৭৩৫)

৮. পাঁজড়দ্বয় থেকে উভয় বাহু পৃথক রাখা। (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৮০৭)

৯. কনুই মাটি ও হাঁটু থেকে পৃথক রাখা। (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৮২২)

১০. সিজদায় কমপক্ষে তিনবার সিজদার তাসবীহ سُبْحَانَ رَبِّيَ الْاَعْليٰ (সুবহানা রাব্বিয়াল আ‘লা ) পড়া।

১১. তাকবীর বলতে বলতে সিজদা হতে উঠা। (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৮২৫)

১২. প্রথমে কপাল, তারপর নাক, তারপর উভয় হাত, তারপর উভয় হাঁটু উঠানো। (তিরমিযী, হাঃ নং ২৬৮/ মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাঃ নং ২৯৫৮)

বি.দ্র.- দাঁড়ানো অবস্থা থেকে সিজদায় যাওয়ার সময় হাঁটু মাটিতে লাগার আগ পর্যন্ত বুক সম্পূর্ণ সোজা রাখা জরুরী। বিনা ওজরে বুক ঝুঁকিয়ে সিজদায় গেলে একাধিক রুকু হয়ে সুন্নাতের খেলাফ হবে। দু‘সিজদার মাঝে সম্পূর্ণ সোজা হয়ে এক তাসবীহ পরিমাণ স্থির হয়ে বসা জরুরী। (আবু দাউদ হাঃ নং ৮৩৮/ শামী, ১ঃ৪৬৪)

ঙ. নামাযে বসার সুন্নাত ১৩টি

১. বাম পা বিছিয়ে তার উপর বসা। ডান পা সোজা ভাবে খাড়া রাখা। উভয় পায়ের আঙ্গুলসমূহ সাধ্যমত কিবলার দিকে মুড়িয়ে রাখা। (নাসাঈ, হাঃ নং ১১৫৮)

২. উভয় হাত স্বাভাবিক ভাবে রানের উপর হাঁটু বরাবর করে রাখা এবং দৃষ্টি দুই হাঁটুর মাঝ বরাবর রাখা। (মুসনাদে আহমাদ, হাঃ নং ১৬১০৬)

৩. اَشْهَدُ ‘আশ্‌হাদু’ বলার সঙ্গে সঙ্গে মধ্যমা ও বৃদ্ধাঙ্গুলির মাথা এক সাথে মিলিয়ে গোলাকার বৃত্ত বানানো এবং অনামিকা ও কনিষ্ঠাঙ্গুলিদ্বয় মুড়িয়ে রাখা এবং لَا اِلٰهَ ‘লা-ইলাহা’ বলার সময় শাহাদাত আঙ্গুল সামান্য উঁচু করে ইশারা করা। অতঃপর اِلَّا اللّٰهُ ‘ইল্লাল্লাহু’ বলার সময় আঙ্গুলের মাথা সামান্য ঝুঁকানো। হাঁটুর সাথে না লাগানো। (আবু দাউদ, হাঃ নং ৭২৬/ নাসাঈ, হাঃ নং ১২৭৪)

৪. আখেরী বৈঠকে আত্তাহিয়্যাতু পড়ার পর দরূদ শরীফ পড়া। (তিরমিযী, হাঃ নং ৩৪৭৭)

৫. দরূদ শরীফের পর দু‘আয়ে মাছুরা পড়া। (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৮৩৪/ তিরমিযী, হাঃ নং ৫৯৩)

৬. উভয় দিকে সালাম ফিরানো। (তিরমিযী, হাঃ নং ২৯৫)

৭. ডান দিকে আগে সালাম ফিরানো। উভয় সালাম কিবলার দিক থেকে আরম্ভ করা এবং সালামের সময় দৃষ্টি কাঁধের দিকে রাখা। (মুসলিম, হাঃ নং ৫৮২)

৮. ইমামের উভয় সালামে মুক্তাদী, ফেরেশতা ও নামাযী জ্বিনদের প্রতি সালাম করার নিয়ত করা। (মুসলিম, হাঃ নং ৪৩১)

৯. মুক্তাদীগণের উভয় সালামে ইমাম, অন্যান্য মুসল্লী, ফেরেশতা ও নামাযী জ্বিনদের প্রতি সালাম করার নিয়ত করা। (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাঃ নং ৩১৪৯, ৩১৫২)

১০. একাকী নামাযী ব্যক্তি শুধু ফেরেশতাগণের প্রতি সালাম করার নিয়ত করা। (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাঃ নং ৩১৪০)

১১. মুক্তাদীগণের ইমামের সালামের সাথে সাথে সালাম ফিরানো। (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৮৩৮)

১২. দ্বিতীয় সালাম প্রথম সালাম অপেক্ষা আস্তে বলা। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, হাঃ নং ৩০৫৭)

১৩. ইমামের দ্বিতীয় সালাম ফিরানো শেষ হলে মাসবূকের ছুটে যাওয়া নামায আদায়ের জন্য দাঁড়ানো। (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাঃ নং ৩১৫৬)

নামাজের মুস্তাহাব সমূহ ৭টি

১। দাঁড়ানো অবস্থায় সেজদার স্থানের দিকে, রুকু অবস্থায় উভয় পায়ের পাতার উপর, সেজদার সময় নাকের দিকে, বৈঠকের সময় কোলের দিকে দৃষ্টি রাখা।(বাদায়েউস সানায়ে-১/৫০৩)
২। তাকবীরে তাহরিমা বলার সময় হাত চাদর থেকে বাহিরে বের করে রাখা।
৩। সালাম ফিরানোর সময় উভয় কাঁধের উপর দৃষ্টি রাখা।(মারাকিল ফালাহ-১৫১)
৪। নামাজে মুস্তাহাব পরিমান ক্বেরাত( ফজর ও যোহরে তিওয়ালে মুফাস্যাল,সূরা হুজরাত থেকে সূরা বুরুজ পর্যন্ত।আছর ও ইশাতে আওসাতে মুফাস্যাল, সূরা তরেক থেকে বায়্যিনা পর্যন্ত। মাগরীবে কিসারে মুফাস্যাল সূরা যিলযাল থেকে শেষ পর্যন্ত।)পড়া।(ফাতাওয়া শামী-২/২৬১)
৫। জুমআর দিন ফজরের নামাজে প্রথম রাকাতে সূরা আলিফ,লাম,মিম সেজদা ও দ্বিতীয় রাকাতে সূরা দাহর পড়া।(ফাতাওয়া শামী-২/২৬৫)
৬।যথা সম্ভব কাঁশি ও ঢেকুর চেপে রাখা।(ফাতাওয়া শামী-২/১৭৬)
৭। হাই আসলে মুখ বন্ধ রাখার চেষ্টা করা।(ফাতাওয়া শামী-২/১৭৭)

বিঃ দ্রঃ :  পুরুষ ও মহিলাদের নামাজে অবশ্য পার্থক্য রয়েছে তাই উপরোক্ত নিয়মে শুধু পুরুষরা নামাজ পড়বে!

নারীদের নামাজের পার্থক্য : 

১. তাকবীরে তাহরীমা বলার সময় উভয় হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠানো। (তাবারানী কাবীর ২২ : ১৯)

২. হাত কাপড়ের ভিতর হতে বের না করা। (তিরমিযী, হাঃ নং ১১৭৩)

৩. হাত বুকের উপর রাখা। (শামী, ১ : ৪৮৭)

৪. আঙ্গুলসমূহ মিলিয়ে ডান হাতের তালু বাম হাতের পিঠের উপর স্বাভাবিকভাবে রাখা। পুরুষদের মত বাম হাতের কব্জি না ধরা। (ফাতাওয়া রাহীমিয়া, ৭ : ২২২)

৫. রুকুতে পুরুষদের তুলনায় কম ঝুঁকা। (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাঃ নং ৫০৬৯)

৬. রুকুতে উভয় বাহু পাঁজরের সঙ্গে পরিপূর্ণ মিলিয়ে রাখা। (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাঃ নং ৫০৬৯)

৭. রুকুতে উভয় হাত হাঁটুর উপর স্বাভাবিক রাখা এবং হাতের আঙ্গুলসমূহ মিলিয়ে রাখা। পুরুষদের ন্যায় আঙ্গুল ছড়িয়ে হাঁটু না ধরা। (ত্বাহত্বাবী, ২১৫)

৮. রুকুতে উভয় পায়ের গোড়ালী পরিপূর্ণ মিলিয়ে রাখা। (শামী, ১ঃ ৫০৪)

৯. অত্যন্ত জড়সড় ও সংকুচিত হয়ে সিজদা করা। (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাঃ নং ৫০৬৯)

১০. সিজদায় পুরুষদের ন্যায় কনুইদ্বয় খোলা ও ছড়িয়ে না রাখা। (মারাসীলে আবী দাউদ, হাঃ নং ৮৭)

১১. উভয় রানের সঙ্গে পেট মিলিয়ে রাখা৷ (মারাসীলে আবী দাউদ, হাঃ নং ৮৭)

১২. বাহুদ্বয় সাধ্যানুযায়ী পাঁজরের সঙ্গে মিলিয়ে রাখা। (মারাসীলে আবী দাউদ, হাঃ নং ৮৭)

১৩. উভয় কনুই সাধ্যমত মাটিতে মিলিয়ে রাখা। (মারাসীলে আবী দাউদ, হাঃ নং ৮৭)

১৪. সিজদায় উভয় পা খাড়া না রাখা, বরং ডান দিক দিয়ে উভয় পা বের করে মাটিতে বিছিয়ে রাখা এবং উভয় পায়ের আঙ্গুলসমূহ যথাসম্ভব কিবলামুখী করে রাখা। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাঃ নং ২৭৮১, ২৭৯২)

১৫. বৈঠকের সময় বাম নিতম্বের উপর বসা। (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, ৩ : ১৩৯)

১৬. এবং উভয় পা ডান দিকে দিয়ে বের করে কিবলামুখী করে মাটিতে বিছিয়ে রাখা। (আল ইস্তিযকার, ১ঃ ৪৮০)

১৭. বৈঠকের সময় হাতের আঙ্গুলসমূহ মিলিয়ে হাঁটু বরাবর রাখা। (মুসানাফে ইবনে আবী শাইবা, হাঃ নং ২৭৮৫)

বি.দ্র. দাঁড়ানো অবস্থায় মহিলাদের উভয় পা মিলিয়ে রাখার স্পষ্ট কোন প্রমাণ না থাকায় হযরত থানবী (রহ.) দু’পায়ের মাঝে পুরুষদের ন্যায় চার আঙ্গুল ফাঁক রাখার ফতওয়া দিয়েছেন। (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১ : ২২২)

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে আমল করার তৌফিক দান করুন, আমিন৷

পড়েছেনঃ 602 জন

1 thought on “এক নযরে নামাজের সকল ফরয, ওয়াজিব, সুন্নত, মুসতাহাব সমূহ ও নারীদের নামাজের পার্থক্য”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *