আরবী তারিখঃ এখন ১৫ জিলকদ ১৪৪৫ হিজরি মুতাবিক ২৪ মে ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, রোজ শুক্রবার, সময় দুপুর ২:১৩ মিনিট
এলানঃ-
>>> ১৪৪৫-১৪৪৬ হিজরী, ২০২৪-২০২৫ ইং তে সালেকীনদের জন্য সুন্নতী ইজতেমা সমূহ <<<
* মাহে যিলক্বদের প্রথম সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ফজর থেকে শুক্রবার মাগরিব পর্যন্ত। (আসন্ন)
* মাহে রবিউল আউয়ালের শেষ সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ফজর থেকে শুক্রবার মাগরিব পর্যন্ত। (আসন্ন)
* মাহে রজবের প্রথম সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ফজর থেকে শুক্রবার মাগরিব পর্যন্ত। (আসন্ন)
.....................................................................
>> ১৪৪৫-১৪৪৬ হিজরী, ২০২৪-২০২৫ ইং তে মজলিসে আইম্মাহ সমূহ (ইমাম-মুআজ্জিনদের জন্য) <<<
* মাহে শাউয়ালের শেষ শনিবার সকাল ৮টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত। (হয়ে গেছে)
* মাহে মুহাররমের শেষ শনিবার সকাল ৮টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত। (আসন্ন)
* মাহে রবিউস সানীর শেষ শনিবার সকাল ৮টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত। (আসন্ন)
* মাহে রজবের শেষ সপ্তাহে বিষয় ভিত্তিক সেমিনার। (আসন্ন)
*** প্রতি আরবী মাসের শেষ বৃহস্পতিবার মাদরাসার সকলের জন্য মাসিক সুন্নতী ইজতেমা।
*** প্রতি বছর ২০ শাবান থেকে ৩০ রমাযানুল মুবারক পর্যন্ত ৪০ দিন, রমাযানুল মুবারক এর প্রথম ১৫ দিন, রমাযানুল মুবারক এর শেষ দশক হযরাতে সালেকীনদের জন্য এতেকাফ।

উযু, তায়াম্মুম, গোসল ও ইস্তিঞ্জার সুন্নত সমূহ

উযুর সুন্নত ১৮ টি

১. উযুর নিয়ত করা। দেখুনঃ আদদুররুল মুখতারঃ ১/১০৫
২. উযুর শুরুতে بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ পড়া, অথবা بِسْمِ اللّٰهِ الْعَظِيْمِ وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ عَلٰى دِيْنِ الإِسْلَامِ পড়া। দেখুনঃ আদদুররুল মুখতারঃ ১/১০৮
৩. উভয় হাত কব্জি পর্যন্ত পৃথক পৃথকভাবে তিন তিনবার ধৌত করা। দেখুনঃ আদদুররুল মুখতারঃ ১/১১০
৪. তিন বার মিসওয়াক করা, মিসওয়াক না থাকলে আঙ্গুল দ্বারা দাঁত ঘষা। দেখুনঃ আদদুররুল মুখতারঃ ১/১১৩
৫. তিন বার কুলি করা। দেখুনঃ আদদুররুল মুখতারঃ ১/১১৫
৬. তিন বার নাকে পানি দেয়া। দেখুনঃ আদদুররুল মুখতারঃ ১/১১৬
৭. তিন বার নাক ঝাড়া অথবা পরিষ্কার করা। দেখুনঃ আলফিকহুল ইসলামীঃ ১/২৪৩
৮. উযুর প্রতিটি অঙ্গ তিন তিনবার ধৌত করা। দেখুনঃ ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়াঃ ১/৭
৯. পূর্ন মুখমণ্ডল তিনবার ধৌত করা এবং দাড়ি খিলাল করা। দেখুনঃ ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়াঃ ১/১১৭
১০. উভয় হাত কনুইসহ, উভয় পা টাখনুসহ তিন তিনবার ধৌত করা, ধোয়ার সময় হাত-পায়ের আঙ্গুলগুলোও খিলাল করা।
দেখুনঃ ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়াঃ ১/১১৭
১১. একবার পুরা মাথা মাসাহ করা। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর হাত দিয়ে মাথা মাসাহ করেছেন। উভয় হাতকে সামনে ও পিছনে নিয়েছেন। মাথার সম্মুখ ভাগ থেকে শুরু করে হাত দুটি মাথার পিছন দিকে নিয়ে গেছেন। এরপর হাত দুটি আবার যে স্থান থেকে শুরু করেছিলেন সেস্থানে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছেন।
দেখুনঃ আলবাহরুর রাইকঃ ১/২৬, তিরমিজী শরীফঃ হাদিস নং ৩২, ফাতাওয়া রহিমিয়াঃ ১/২০, ফাতাওয়া খানিয়াঃ ১/৩৫, ফাতহুল কাদীরঃ ১/১৭, খুলাসাতুল ফতওয়াঃ ১/৩৬, মাআরিফুস সুনানঃ ১/১৭৫, ফয়যুল বারীঃ ১/২৯৪, আলমুহীতুল বুরহানীঃ ১/১৭৬, ১/৪৭, আল এনায়াহঃ ১/৩৩, আল জাওহারাতুন নাইরাহঃ ১/৭, গনিয়াাতুল মুসতামালীঃ ২১-২২
১২. মাথার সাথে কানও মাসাহ করা। দেখুনঃ আলবাহরুর রাইকঃ ১/২৬
১৩. উযুর প্রতিটি অঙ্গ ঘষে-মেজে ধৌত করা। দেখুনঃ আলফিকহুল ইসলামীঃ ১/২৫৭
১৪. এক অঙ্গের পর অন্য অঙ্গ ধৌত করা। দেখুনঃ আলবাহরুর রাইকঃ ১/২৭
১৫. উযুর তরতীব বা ধারাবাহিকতা ঠিক রাখা। দেখুনঃ আলবাহরুর রাইকঃ ১/২৭
১৬. উযুর প্রতিটি অঙ্গ ডান দিক থেকে ধৌত করা। দেখুনঃ আলবাহরুর রাইকঃ ১/২৭
১৭. উযু করার পর কালেমায়ে শাহাদাত اَ شْهَدُ اَ ن لَّآ اِلٰهَ اِلَّا اللّٰهُ وَ اَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدً اعَبْدُهٗ وَرَسُوْلُهٗ পড়া। দেখুনঃ আলফিকহুল ইসলামীঃ ১/২৫৭
১৮. কালেমায়ে শাহাদাতের পর اَللّٰهُمَّ اجْعَلْنِيْ مِنَ التَّوَّابِيْنَ وَاجْعَلْنِيْ مِنَ الْمُتَطَهِّرِيْنَ দুআটি পড়া। দেখুনঃ আলফিকহুল ইসলামীঃ ১/২৫৭

তায়াম্মুমের সুন্নত ৬ টি

১. তায়াম্মুমের শুরুতে بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ পড়া। দেখুনঃ মুসনাদে আহমাদঃ ১২৬৯৪
২. মাটিতে হাত রাখার সময় আঙ্গুলসমূহ ফাঁক করে রাখা
৩. মাটিতে উভয় হাত রাখার পর হস্তদ্বয় সামান্য আগে পিছে নিয়ে মাটিতে ঘর্ষণ করা। দেখুনঃ মুসলিম শরীফঃ ৩৬৮
৪. তারপর উভয় হাত ঝেড়ে নেয়া। দেখুনঃ মুসলিম শরীফঃ ৩৬৮
৫. তায়াম্মুমের তরতীব ঠিক রাখা। অর্থাৎ প্রথমে সম্পূর্ণ মুখমণ্ডল, তারপর ডান হাত তারপর বাম হাত কনুইসহ মাসাহ্ করা।
দেখুনঃ আবু দাউদ শরীফঃ ৩৩০
৬. চেহারা ও হাতের মাসাহ্-এর মাঝে বিলম্ব না করা। দেখুনঃ আবু দাউদ শরীফঃ ৩৩০

গোসলের সুন্নত ১২টি

১. ফরয গোসলের পূর্বে ইস্তিঞ্জা অর্থাৎ পেশাব করা। দেখুনঃ মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাকঃ ১০২০
২. শুরুতে بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ পড়া। দেখুনঃ মুসনাদে আহমাদঃ ১২৬৯৪
৩. পৃথকভাবে উভয় হাত কব্জিসহ ধোয়া। দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ২৪৮
৪. শরীর বা কাপড়ের কোন স্থানে নাপাকী লেগে থাকলে প্রথমে তা তিনবার ধুয়ে পবিত্র করে নেয়া। দেখুনঃ মুসলিম শরীফঃ ৩২১
৫. নাপাকী লেগে থাকুক বা না থাকুক সর্বাবস্থায় গুপ্তাঙ্গ ধৌত করা, এরপর উভয় হাত ভালভাবে ধুয়ে নেয়া। দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ২৪৯
৬. সুন্নাত তরীকায় পূর্ণ উযু করা। যদি গোসলের স্থানে পানি জমে থাকে, গোসল শেষ করে পা ধৌত করা। দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ২৬০
৭. প্রথমে মাথায় পানি ঢালা। দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ২৫৬
৮. এরপর ডান কাঁধে পানি ঢালা। দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ২৫৪
৯. এরপর বাম কাঁধে পানি ঢালা। দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ২৫৪
১০. অতঃপর অবশিষ্ট শরীর ভিজানো। দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ২৯৮
১১. সমস্ত শরীরে এমনভাবে তিনবার পানি পৌঁছানো, যেন একটি পশমের গোড়াও শুষ্ক না থাকে। দেখুনঃ আবু দাউদঃ ২৪৯
১২. সমস্ত শরীর হাত দ্বারা ঘষে মেজে ধৌত করা। দেখুনঃ তিরমিযী শরীফঃ ১০৬

ইস্তিঞ্জার সুন্নত ১৫ টি

১. মাথা ঢেকে রাখা। দেখুনঃ বাইহাকী শরীফঃ ৪৫৬, ই’লাউস সুনানঃ ১৩২৩
২. জুতা পরিধান করে যাওয়া। দেখুনঃ তাবাকাতে ইবনে সাআদঃ ১৮৫, কানযুল উম্মালঃ ১৭৮৭২
৩. হাম্মামে প্রবেশের পূর্বে بِسْمِ اللّٰهِ اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُبِكَ مِنَ الْخُبْثِ وَالْخَبَائِثِ দু’আ পড়া। দেখুনঃ মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহঃ ৫
৪. দু’আ পড়ার পর আগে বাম পা ঢুকানো। দেখুনঃ আবু দাউদ শরীফঃ ৩২
৫. কিবলার দিকে মুখ বা পিঠ দিয়ে না বসা। দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ১৪৪
৬. যথাসম্ভব বসার নিকটবর্তী হয়ে ছতর খোলা এবং বসা অবস্থায় পেশাব/পায়খানা করা, দাঁড়িয়ে পেশাব না করা। দেখুনঃ নাসায়ী শরীফঃ ২৯, তিরমিযী শরীফঃ ১৪
৭. পেশাব ও নাপাক পানির ছিটা হতে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বেঁচে থাকা। দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ২১৮
৮. পানি খরচ করার পূর্বে ঢিলা-কুলুখ বা টিস্যু পেপার ব্যবহার করা। দেখুনঃ বাইহাকী শরীফঃ ৫১৭
৯. ঢিলা ও পানি খরচ করার সময় বাম হাত ব্যবহার করা। দেখুনঃ বুখারী শরীফঃ ১৫৪
১০. পেশাবের ফোঁটা আসা বন্ধ হওয়ার জন্য আড়ালে সামান্য চলাফেরা করা। দেখুনঃ ইবনে মাজাহ শরীফঃ ৩২৬
১১. পেশাব/পায়খানার নির্ধারিত জায়গা নেই, তাহলে এমন স্থানে এভাবে বসা যেন ছতর নজরে না পড়ে। দেখুনঃ আবু দাউদ শরীফঃ ২
১২. এমন স্থানে পেশাবের জরুরত পুরা করা যেখান থেকে পেশাবের ছিটা শরীরে বা কাপড়ে না লাগে। দেখুনঃ আবু দাউদ শরীফঃ ৩
১৩. ঢিলা-কুলুখ ব্যবহারের পর পানি ব্যবহার করা। দেখুনঃ সহীহ ইবনে খুযাইমাঃ ৮৩, ই’লাউস সুনানঃ ১৩০০
১৪. ডান পা দিয়ে বের হওয়া। দেখুনঃ আবু দাউদ শরীফঃ ৩২
১৫. বাইরে এসে غُفْرَانَكَ اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِيْ اَذْهَبَ عَنِي الْأٰذٰى وَعَافَانِيْ দু’আ পড়া। দেখুনঃ আবু দাউদ শরীফঃ ৩০, ইবনে মাজাহ শরীফঃ ৩০১

৬ জিনিস নিয়ে ইস্তিঞ্জায় যাওয়া নিষেধঃ
১.আল্লাহ তালার নাম।
২. নবীগনের নাম।
৩. ফেরেশতাগনের নাম।
৪. কোরআনের আয়াত।
৫. হাদিসের টুকরা।
৬. দুআ কালাম লিখিত ও অঙ্কিত।

১০ জায়গায় ইস্তিঞ্জা করা নিষেধঃ
১.মানুষ চলাচলের রাস্তায়।
২.ছায়াদার ফলদার গাছের নিচে।
৩.উযু গোসলের স্থানে।
৪.গর্তের ভিতরে।
৫.গোরস্তানে।
(আবু দাউদ,১/৫)
৬.দাঁড়িয়ে বা হেঁটে।
(তিরমিযি, ১/৯)
৭.বিনা ওজরে পানিতে।
(তালীমুল ইসলাম-৩/১২)
৮.ঘরে বা বিছানায়।
৯. মসজিদের আঙ্গিনায় বা ঈদগাহে।
১০.জনসম্মুখে।
(তালীমুল ইসলাম ১/৪২)

১০ জিনিস দারা ইস্তিঞ্জার করা নিষেধঃ
১. হাড্ডি।
২. কয়লা।
৩. কাগজ।
৪. কাঁচ।
৫. গাছের কাচাপাতা।
৬. খাদ্যদ্রব্য।
৭. শুকনা গোবর।
৮. জমজমের পানি।
৯. ডানহাত দ্বারা।
১০. ব্যাবহৃত ঢিলা দ্বিতীয়বার ব্যবহার করা।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদেরকে উপরোক্ত সুন্নত সমূহের উপর পরিপূর্ণ ভাবে আমল করার তৌফিক দান করুন, আমিন৷

Loading

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *