আরবী তারিখঃ এখন ৫ শাওয়াল ১৪৪৫ হিজরি মুতাবিক ১৪ এপ্রিল ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, রোজ রবিবার, সময় রাত ৮:৪২ মিনিট
এলানঃ-
১৪৪৫-১৪৪৬ হিজরী, ২০২৪-২০২৫ ইং এর মাসিক সুন্নতী ইজতেমা সমূহ
* ২৫ এপ্রিল ২৪ ইং বৃহস্পতিবার মাগরিব-ইশা মাদরাসার সকলের জন্য
* ৩০-৩১ মে ২৪ ইং বৃহস্পতিবার ফজর-শুক্রবার মাগরিব পর্যন্ত সালেকীনদের জন্য
* ২৭ জুন ২৪ ইং বৃহস্পতিবার মাগরিব-ইশা মাদরাসার সকলের জন্য
* ২৫-২৬ জুলাই ২৪ ইং বৃহস্পতিবার ফজর-শুক্রবার মাগরিব পর্যন্ত সালেকীনদের জন্য
* ২৯ আগষ্ট ২৪ ইং বৃহস্পতিবার মাগরিব-ইশা মাদরাসার সকলের জন্য
* ২৬-২৭ সেপ্টেম্বর ২৪ ইং বৃহস্পতিবার ফজর-শুক্রবার মাগরিব পর্যন্ত সালেকীনদের জন্য
* ২৪ অক্টোবর ২৪ ইং বৃহস্পতিবার মাগরিব-ইশা মাদরাসার সকলের জন্য
* ২৮-২৯ নভেম্বর ২৪ ইং বৃহস্পতিবার ফজর-শুক্রবার মাগরিব পর্যন্ত সালেকীনদের জন্য
* ২৬ ডিসেম্বর ২৪ ইং বৃহস্পতিবার মাগরিব-ইশা মাদরাসার সকলের জন্য
* ৩০-৩১ জানুয়ারী ২৫ ইং বৃহস্পতিবার ফজর-শুক্রবার মাগরিব পর্যন্ত সালেকীনদের জন্য
* ২৭ ফেব্রুয়ারী ২৫ ইং বৃহস্পতিবার মাগরিব-ইশা মাদরাসার সকলের জন্য
* মার্চ ২৫ ইং এজতেমা সালেকীনদের জন্য

ইশরাকের নামাজের পর থেকে যুহরের নামাজ পর্যন্ত মামুলাত

  • ইমাম সাহেব ইশরাকের নামাজের এলান করলে সকলেই ইশরাকের নামাজ আদায় করেন এবং এরপর ছাত্ররা মাদরাসার দেয়া নির্দিষ্ট সিমানার মধ্যে নির্দিষ্ট সময় হাটাহাটি করেন, সকলের সুস্বাস্থ কামনায় এবং অলসতা দূরি করনে এ মামুলাত বাস্তবায়ীত হয়।
  • ইশরাকের নামাজ আদায়ের পর কিতাব বিভাগের ত্বলাবাদের যথারীতি মশকে কালামে পাক শুরু হয়, মাদরাসার ব্যয় নির্বাহের প্রয়োজন পূরনে মশকে কালামে পাক অতিগুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখে।
  • এরপর সময় হলে নাস্তা দেয়া হয়, মাদরাসার দেয়া নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নাস্তা অজু ও ইস্তিঞ্জা ও জরুরী ইনফেরাদী আমল শেষ করে সকল ত্বলাবা-আসাতিযাগন মসজিদের জমায়েত হন, এরপর মজলিসে দুআর মাধ্যমে লেখা-পড়া শুরু হয়।

মজলিসে দুআ

  • হযরত দা. বা. বলেনঃ এখানে ১৫ মিনিটের মধ্যে ১. قصدۂ دعائیہ (দুআর তারানা), ২. عقائد اسلامیہ (ইসলামি আকাইদ), ৩. اسمائے حسنی (আসমায়ে হুসনা) ও ৪. তিলাওয়াতে কালামে পাক এর আদবসহ তিলাওয়াতে কালামে পাক পরিবেশন করা হয়। প্রতিদিন নির্ধারিত নির্বাচিত একজন তালিবে ইলম নির্ধারিত বিষয় পরিবেশন করেন। হযরতওয়ালা মুরশিদুস সুন্নাহ দা. বা. বলেনঃ দুআর এই কালিমাগুলো হযরতওয়ালা হারদুয়ী রহ. আমাদের সবকের শুরুতে সকলে মিলে পড়তে বলেছিলেন।

দুআর তারানা قصیدۂ دعائیہ

اے خدائے پاک رحمن و رحیم * قاضی حاجات و وہاب و کریم

اے الہ العالمین اے بے نیاز * دین و دنیا میں ہمارے کار ساز

ہم گنہگار اور تو غفار ہے * ہم بھرے عیبوں سے تو ستار ہے

تو وہ قادر ہے کہ جو چاہے کرے * جس کو چاہے دے جسے چاہے نہ دے

تو وہ داتا ہے کہ دینے کے لئے * در تیری رحمت کے ہر دم ہیں کھلے

تیرے در پر ہاتھ پھیلاتا ہے جو * پاہی لیتا ہے وہ ہر مقصود کو

ہر گھڑی دینے کو تیار ہے * جو نہ مانگے اس سے تو بیزار ہے

ہر طرف سے ہو کہ ہم خوار و تباہ * آپڑے اب تیرے در پر یا الہ

گر چہ یا رب ہم سراپا ہیں برے * اب تو لیکن آپرے در پر ترے

تو غنی ہے اور ہم ہے بے نوا * کون پوچھے گا ہمیں تیرے سوا

ہے تو ہی حاجت روائے دو جہاں * ہم تیرا در چھوڑ کر جائیں کہاں

صدقہ اپنی عزت و اجلال کا * صدقہ پیغمبر کا ان کی آل کا

اپنی رحمت ہم پہ اب مبذول کر * یہ مناجات اور دعا مقبول کر

ইসলামি আকাইদ আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআতের আকিদা বিশ্বাস সমূহ عقائد اسلامیہ

(١) إِنَّ اللّٰهَ وَاحِدٌ لَا شَرِيْكَ لَهٗ. (العقيدة الطحاوية)

ترجمہ: اللہ تعالی ایک ہے اس کا کوئی شریک نہں

অর্থঃ মহান আল্লাহ তাআলা এক, তার কোন শরীক নেই।

(٢) قَدِيْمٌ لِذَاتِهٖ وَصِفَاتُهٗ قَدِيْمَةٌ. (العقيدة الطحاوية)

ترجمہ: اللہ تعالی کی ذات بھی قدیم ہے اور صفات بھی قدیم ہں ۔

অর্থঃ আল্লাহ তাআলা অনাদি, তার গুণাবলী সমূহও অনাদি।

(٣) كُلُّ مَا سِوَاهُ حَادِثٌ. (شرح العقائد النسفية)

ترجمہ: اللہ تعالی کے علاوہ تمام چزشیں حادث ہںح۔

অর্থঃ আল্লাহ তাআলা ব্যতীত সবকিছুই সৃষ্ট।

(٤) لَا يُحِيْطُهٗ الْعَقْلُ وَلَا تُدْرِكُهٗ الْأَبْصَارُ. (العقيدة الطحاوية)

ترجمہ: عقل اور آنکھںْ اللہ تعالی کا احاطہ نہںح کر سکتںح۔

অর্থঃ জ্ঞান ও চক্ষু আল্লাহ তা’আলাকে আয়ত্ত করতে পারে না।

(٥) صَمَدٌ لَا غِنًى عَنْهُ. (العقيدة الطحاوية)

ترجمہ: اللہ تعالی کسی کا محتاج نہںا، سب ان کے محتاج ہںو۔ অর্থঃ আল্লাহ তাআলা কারো মুখাপেক্ষী নন, কিন্ত সবই তাঁর মুখাপেক্ষী।

(٦) لَا إِلٰهَ إِلَّا هُوَ. (العقيدة الطحاوية)

ترجمہ: اللہ تعالی کے سوا کوئی معبود نہںل۔ অর্থঃ আল্লাহ আল্লাহ তাআলা ছাড়া কোন মাবুদ নাই।

(٧) حَىٌّ لَا يَمُوْتُ. (العقيدة الطحاوية)

ترجمہ: اللہ تعالی ہمشہ. زندہ رہنے والے ہںا، ان کی موت نہں ۔ অর্থঃ আল্লাহ তাআলা চিরঞ্জীব, তার মৃত্যু নাই।

(٨) لَا يُسَاوِيْهِ أَحَدٌ. (العقيدة الطحاوية)

ترجمہ: اللہ تعالی کا کوئی ہمسر نہںا۔ অর্থঃ আল্লাহ তাআলার সমকক্ষ কেহই নয়।

(٩) لَا يُشْبِهُهٗ شَيْئٌ. (العقيدة الطحاوية)

ترجمہ: کوئی چزْ اللہ تعالی کا مشابہ نہں ۔ অর্থঃ আল্লাহ তাআলার সাদৃশ্য কিছুই নাই।

(١٠) يَعْلَمُ مَا ظَهَرَ وَمَا بَطَنَ. (العقيدة الطحاوية)

ترجمہ: اللہ تعالی ظاہر اور پوشدَہ چزة کو جانتے ہں ۔ অর্থঃ আল্লাহ তাআলা প্রকাশ্য ও গোপন সব কিছুই জানেন।

(١١) بَصِيْرٌ لَا يَغِيْبُ عَنْ بَصَرِهٖ شَيْئٌ. (العقيدة الطحاوية)

অর্থঃ আল্লাহ তাআলা সর্বদ্রষ্টা, তার দৃষ্টির আড়ালে কিছুই নাই। ترجمہ: اللہ تعالی دیکھنے والے ہںن، کوئی چزِ ان کی نگاہ سے غائب نہںم۔

(١٢) يَسْمَعُ الْخَفِىَّ وَالْجَهْرَ. (العقيدة الطحاوية)

ترجمہ: اللہ تعالی دھی و اور بلند ہر آواز کو سنتے ہںی۔ অর্থঃ আল্লাহ তাআলা মৃদু ও উচ্চস্বর সবকিছুই শোনেন।

(١٣) لَا يَكُوْنُ إِلَّا مَا يُرِيْدُ. (العقيدة الطحاوية)

ترجمہ: اللہ تعالی کے ارادہ کے بغرُ کچھ نہںح ہو سکتا۔ অর্থঃ আল্লাহ তাআলার ইচ্ছা ছাড়া কিছুই হয় না।

(١٤) قَدِيْرٌ لَا يَخْرُجُ عَنْ قُدْرَتِهٖ شَيْئٌ. (العقيدة الطحاوية)

ترجمہ: اللہ تعالی قدرت والے ہیں، کوئی چیز ان کی قدرت سے باہر نہیں۔

অর্থঃ আল্লাহ তাআলা সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী, তার ক্ষমতার বাহিরে কিছুই নাই।

(١٥) لَا يَعْلَمُ الْغَيْبَ إِلَّا اللّٰهَ حَتَّى الْأَنْبِيَاءِ وَالْأَوْلِيَاءِ. (شرح العقائد)

ترجمہ: اللہ تعالی کے سوا کوئی عالم الغیب نہیں، یہاں تک کہ انبیاء اور اولیاء بھی۔

অর্থঃ আল্লাহ তাআলা ছাড়া কেউ গায়েব জানেন না, এমন কি নবী আঃ ও ওলীগণও জানেন না।

(١٦) لَا حَاضِرَ وَلَا نَاظِرَ إِلَّا هُوَ حَتَّى الْأَنْبِيَاءِ وَالْأَوْلِيَاءِ. (بدائع الكلام فى عقائد الإسلام)

ترجمہ: اللہ تعالی کے سوا کوئی حاضر و ناظر نہیں، یہاں تک کہ انبیاء اور اولیاء بھی

অর্থঃ আল্লাহ তাআলা ছাড়া কেহই হাজির-নাজির নন, এমনকি নবী আঃ ও ওলীগণও নন।

(١٧) لَيْسَ لَهٗ وَلَدٌ وَّ لَاصَاحِبَةٌ. (سورة الجن٣)

ترجمہ: اللہ تعالی کی نہ کوئی اولاد ہے اور نہ بی بی۔ অর্থঃ আল্লাহ তাআলার কোন সন্তানও নাই, স্ত্রীও নাই।

(١٨) اَللّٰهُ خَالِقُ كُلُّ شَيْئٍ. (العقيدة الطحاوية)

ترجمہ: اللہ تعالی ہر چزُ کے خالق ہںة۔ অর্থঃ আল্লাহ তাআলা সমস্ত সৃষ্টির স্রষ্টা।

(١٩) وَ رَازِقٌ بِقَدْرِ كُلِّ شَيْئٍ. (العقيدة الطحاوية)

ترجمہ: اللہ تعالی ہر چزِ کو اندازہ کے موافق روزی دینے والے ہں ۔ অর্থঃ আল্লাহ তাআলা সমস্ত সৃষ্টির পর্যাপ্ত পরিমাণ রিজিকদাতা।

(٢٠) لَا حَيَاةَ وَلَا مَوْتَ إِلَّا بِأَمْرِهٖ. (العقيدة الطحاوية)

ترجمہ: اللہ تعالی کے حکم کے بغیر کسی چیز کے نہ حیات ہوسکتی ہے نہ موت۔

অর্থঃ আল্লাহ তাআলার হুকুম ছাড়া কোন কিছুর জীবন লাভ ও মৃত্যু হতে পারে না।

(٢١) هُوَ الشَّافِىْ لِلْأَمْرَاضِ وَ الْقَاضِىْ لِلْحَاجَاتِ. (العقيدة الطحاوية)

ترجمہ: اللہ تعالی ہی تمام بیماریوں سے شفا دیتے والے ہیں، اور تمام حاجات کو پورا کرنے والے ہیں۔

অর্থঃ আল্লাহ তাআলাই সমস্ত রোগের শেফা দাতা এবং প্রয়োজন পূরণকারী।

(٢٢) اَلسَّجْدَةُ وَالنَّذْرُ لِغَيْرِ اللّٰهِ كُفْرٌ. (سورة حم سجده ٣٧ ॥ مائده ٣ )

ترجمہ: غیر اللہ کو سجدہ کرنا اور غیر اللہ کے نام پر منت ماننا کفر ہے۔

অর্থঃ আল্লাহ তাআলা ছাড়া অন্য কাউকে সিজদা করা এবং অন্য কারো নামে মান্নত করা কুফরি।

(٢٣) اَلْاِسْتِمْدَادُ مِنْ أَهْلِ الْقُبُوْرِ شِرْكٌ. (بدائع الكلام)

অর্থঃ কবরবাসী থেকে সাহায্য চাওয়া শিরক। ترجمہ: مردوں سے مدد طلب کرنا شرک ہے۔

(٢٤) اَلتَّقْدِيْرُ بِخَيْرِهٖ وَشَرِّهٖ مِنَ اللّٰهِ تَعَالٰى. (العقيدة الطحاوية)

ترجمہ: بھلی اور بری ہر چزِ کی تقدیر اللہ تعالی ہی کی طرف سے ہوتی ہے۔ অর্থঃ ভালো-মন্দ সমস্ত ভাগ্যের নির্ধারণ আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকেই হয়।

(٢٥) نُؤْمِنُ بِجَمِيْعِ الْأَنْبِيَاءِ وَالْمُرْسَلِيْنَ. (شرح العقائد)

ترجمہ: ہم تمام نبوُں اور رسولوں پر ایمان لاتے ہں ۔ অর্থঃ আমরা সমস্ত নবী রসুলগণের আঃ উপর ঈমান রাখি।

(٢٦) نَعْتَقِدُ بِعِصْمَةِ الْأَنْبِيَاءِ وَالْمُرْسَلِيْنَ. (شرح العقائد)

ترجمہ: ہم تمام انباعء علہم السلام کو معصوم مانتے ہںں۔ অর্থঃ আমরা সমস্ত নবী রসুলগণকে আঃ নিষ্পাপ বিশ্বাস করি।

(٢٧) نَبِيُّنَا مُحَمَّدٌ صَلَّي اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَبْدُ اللّٰهِ وَرَسُوْلُهُ. (العقيدة الطحاوية)

ترجمہ: ہمارے نبی حضرت محمد ﷺ اللہ تعالی کے بندے اور ان کے رسول ہیں۔

অর্থঃ আমাদের নবী হযরত মুহাম্মাদ সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ তাআলার বান্দা ও তাঁর রসূল।

(٢٨) هُوَ الْمَبْعُوْثُ إِلٰى كَافَّةِ الْإِنْسِ وَالْجِنِّ. (العقيدة الطحاوية)

ترجمہ: ہمارے نبی حضرت محمد ﷺ تمام انس اور جن کی طرف مبعوث ہیں۔

অর্থঃ হযরত মুহাম্মাদ সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকল মানব-দানব এর নিকট প্রেরিত।

(٢٩) هُوَ سَيِّدُ الْمُرْسَلِيْنَ وَخَاتَمُ النَّبِيِّيْنَ. (العقيدة الطحاوية)

ترجمہ: ہمارے نبی حضرت محمد ﷺ تمام رسولوں کے سردار اور آخری نبی ہیں ۔

অর্থঃ হযরত মুহাম্মাদ সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী।

(٣٠) مِعْرَاجُ النَّبِىِّ صَلَّي اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِجَسَدِهٖ الشَّرِيْفِ فِيْ الْيَقْظَةِ حَقٌّ. (شرح العقائد)

ترجمہ: نبی کریم ﷺ کا بیداری میں جسمانی معراج سچ ہے ۔

অর্থঃ হযরত মুহাম্মাদ সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বশরীরে জাগ্রত অবস্থায় মেরাজে যাওয়ার সত্য।

(٣١) لَا نَبِىَّ بَعْدَهٗ لَا أَصْلِىٌّ وَلَا ظِلِّىٌّ. (بدائع الكلام)

ترجمہ: ان کے بعد کوئی نبی ہی نہں،ে نہ اصلی نہ ظلی۔ অর্থঃ হযরত মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পর আসল ও ছায়া কোনরূপ নবীই নাই।

(٣٢) مُدَّعِى النَّبُوَّةِ بَعْدَهٗ وَتَابِعُهٗ كَافِرٌ. (بدائع الكلام)

ترجمہ: ان کے بعد نبوت کا مدعی اور ان کا متبع سب کافر ہں ۔ অর্থঃ হযরত মুহাম্মাদ সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পর নবুওয়াতের দাবিদার ও তার অনুসারীরা সবাই কাফের।

(٣٣) حَيَاةُ عِيْسٰى عَلَيْهِ السَّلَامِ وَرَفْعُهٗ حَيًّا إِلٰى السَّمَاءِ حَقٌّ. (سورة النساء ١٥٨)

ترجمہ: حضرت عیسیٰ علہَ السلام کا زندہ رہنا اور ان کا آسمان پر زندہ اٹھایا جانا سچ ہے۔অর্থঃ হযরত ঈসা আ. এর জীবিত থাকা ও জীবিত অবস্থায় তাকে আসমানে উঠিয়ে নেওয়া সত্য।

(٣٤) يَنْزِلُ النَّبِىُّ عِيْسٰى عَلَيْهِ السَّلَامِ قَبْلَ الْقِيَامَةِ مُتَّبِعًا لِشَرِيْعَةِ نَبِيِّنَا صَلَّي اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. (شرح العقائد)

ترجمہ: حضرت عیسی علہ السلام ہمارے نبی صلی اللہ علہي وسلم کی شریعت کا متبع ہو کر قا مت سے پہلے آسمان سے اترینگے۔

অর্থঃ হযরত ঈসা আ. আসমান থেকে কেয়ামতের পূর্বে অবতরণ করবেন, আমাদের নবী সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শরিয়তের অনুসারী হয়ে।

(٣٥) اَلْقَائِلُ بِالْاِبْنِيَّةِ وَالتَّثْلِيْثُ كَافِرٌ. (سورة مائدة ٧٣॥ سورة آل عمران ٤٩)

ترجمہ: حضرت عیسی علہِ السلام کے بارے مںা ابنت٧ اور تثلثع کے قائل کافر ہںّ۔

অর্থঃ হযরত ঈসা আ. এর ব্যাপারে পুত্র বাদ ও ত্রিত্ববাদে বিশ্বাসী সবাই কাফের।

(٣٦) رَدُّ النُّصُوْصِ وَإِهَانَةِ النَّبِىِّ صَلَّي اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَ الْاِسْتِهْزَاءُ بِالشَّرْعِ كُفْرٌ. (بدائع الكلام، شرح العقائد)

ترجمہ: قرآن و حدیث کا انکار کرنا، نبی ﷺ کے اہانت اور شریعت پر ٹھٹھا کرنا کفر ہے۔

অর্থঃ কুরআন ও সুন্নাহ এর অস্বীকার, নবী সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অবমাননা এবং শরীয়তের বিধি-বিধানের উপহাস করা কুফরি।

(٣٧) مُعْجِزَاتُ الْأَنْبِيَاءِ حَقٌّ. (شرح العقائد)

ترجمہ: انبامء کرام کے معجزات حق ہںস۔ অর্থঃ নবীগণের আঃ মু‘জিজাসমূহ সত্য।

(٣٨) اَلْأَنْبِيَاءٌ أَحْيَاءٌ فِىْ قُبُوْرِهِمْ. (مسند ابى يعلى)

ترجمہ: وہ اپنے اپنے قبروں مںَ زندہ ہںه۔ অর্থঃ নবীগণ আ. নিজ নিজ কবরে জীবিত আছেন।

(٣٩) اَلصَّحَابَةُ خِيَارُ الْأُمَّةِ. (شرح العقائد)

ترجمہ: صحابہ کرام رضی اللہ تعالی عنہ امت کے بہترین افراد ہں ۔ অর্থঃ সাহাবায়ে কেরাম রা. সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত।

(٤٠) نَعْتَرِفُ بِعَدَالَةِ الصَّحَابَةِ كُلِّهِمْ. (شرح العقائد)

ترجمہ: ہم تمام صحابہ کرام رضی اللہ تعالی عنہ کو عادل مانتے ہںا۔ অর্থঃ আমরা সমস্ত সাহাবীগনের রা. আদালত স্বীকার ও বিশ্বাস করি।

(٤١) نَشْهَدُ أَنَّهُمْ مَرْضِيُّوْنَ عِنْدَ اللّٰهِ وَمُبَشِّرُوْنَ بِالْجَنَّةِ. (سورة توبة ١٠٠)

ترجمہ: ہم گواہی دیتے ہںل کہ، صحابہ کرام رضی اللہ تعالی عنہ اللہ تعالی کے پسندیدہ بندے ہںি اور جنت کی خوشخبری پانے والے ہں ۔

অর্থঃ আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, হযরাত সাহাবায়ে কিরাম রা. আল্লাহ তাআলার নিকট পছন্দনীয় ও জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত।

(٤٢) حُبُّ الصَّحَابَةِ مِنَ الْإِيْمَانِ. (العقيدة الطحاوية)

ترجمہ: صحابہ کرام رضی اللہ تعالی عنہ کی محبت ایمان کا جز ہں ۔ অর্থঃ হযরাত সাহাবা রা. এর মুহাব্বত ঈমানের অঙ্গ।

(٤٣) بُغْضُ الصَّحَابَةِ وَطَعْنُهُمْ نِفَاقٌ. (العقيدة الطحاوية)

ترجمہ: صحابہ کرام کرام رضی اللہ عنہ کے ساتھ بغض رکھنا اور ان پر طعن کرنا منافقن। ہے۔

অর্থঃ হযরাত সাহাবা রা. এর সঙ্গে বিদ্বেষ এবং তাদের সমালোচনা মুনাফেকি।

(٤٤) فَضْلُ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِيْنَ عَلٰى تَرْتِيْبِ خِلَافَتِهِمْ. (العقيدة الطحاوية)

অর্থঃ খুলাফায়ে রাশেদীনের মর্যাদা তাদের খেলাফতের শ্রেণী অনুযায়ী। ترجمہ: خلفاء راشدین کا مرتبہ ان کے خلافت کی ترتبَ پر ہے۔

(٤٥) اَلصَّحَابَةُ مُصِيْبُوْنَ فِىْ مَشَاجَرَاتِهِمْ. (شرح العقائد)

ترجمہ: صحابہ کرام رضی اللہ عنہ باہمی جنگ اور اختلافات مںق حق پر تھے۔

অর্থঃ সাহাবায়ে কেরাম রাঃ পরস্পর যুদ্ধে ও মতভেদে হকের উপর ছিলেন।

(٤٦) اَلْأَوْلِيَاءُ مُقَرِّبُوْنَ عِنْدَ اللّٰهِ. (سورة يونس ٦٢)

ترجمہ: اولا ء کرام اللہ تعالی کے مقرب بندے ہںة۔ অর্থঃ আউলিয়াগণ আল্লাহ তাআলার নিকট বিশেষ মর্যাদার অধিকারী।

(٤٧) وَهُمْ دُوْنَ الْأَنْيِبَاءِ وَالصَّحَابَةِ. (بدائع الكلام)

ترجمہ: وہ مرتبہ مںد انبا ء علہمق السلام اور صحابہ کرام رضی اللہ عنہ کے نچے ہںر۔ অর্থঃ ওলীগণের স্থান নবী আ. ও সাহাবাগণের রা. নিচে।

(٤٨) كَرَامَاتُ الْأَوْلِيَاءِ حَقٌّ. (العقيدة الطحاوية)

ترجمہ: اولاكء کرام کی کرامات سچ ہںا۔ অর্থঃ ওলীগণের কারামত সমূহ সত্য।

(٤٩) اِحْتِرَامِ السَّلَفِ وَالتَّقْلِيْدِ بِمَذَاهِبِ الْأَئِمَّةِ حَتْمٌ لَازِمٌ. (العقيدة الطحاوية)

ترجمہ: سلف صالحنِ کا ادب و احترام اور آئمہ مذاہب کی تقلدٌ نہایت ضروری ہں ۔

অর্থঃ আকাবির বুযুর্গানে দ্বীনের সম্মান প্রদর্শন এবং মাযহাবের ইমামগণের তাকলীদ করা অত্যাবশ্যকীয় জরুরী।

(٥٠) نُؤْمِنُ بِجَمِيْعِ مَلَائِكَةِ اللّٰهِ. (العقيدة الطحاوية)

ترجمہ: ہم اللہ تعالی کے تمام فرشتوں پر ایمان لاتے ہںة۔ অর্থঃ আমরা আল্লাহ তাআলার সমস্ত ফেরেশতাগনের উপর ঈমান রাখি।

(٥١) نُؤْمِنُ بِجَمِيْعِ الْكُتُبِ الْمُنْزَّلَةِ مِنَ اللّٰهِ تَعَالٰى. (العقيدة الطحاوية)

ترجمہ: ہم اللہ تعالی کی طرف سے نازل کردہ تمام کتابوں پر ایمان لاتے ہیں۔

অর্থঃ আমরা আল্লাহ তাআলার অবতীর্ণ সমস্ত কিতাব সমূহের উপর ঈমান রাখি।

(٥٢) نُؤْمِنُ بِأَنَّ الْقُرْآنَ كَلَامُ اللّٰهِ. (العقيدة الطحاوية)

ترجمہ: ہم ایمان لاتے ہں کہ قرآن کریم اللہ تعالی کے کلام ہں ۔ অর্থঃ আমরা বিশ্বাস করি যে, কুরআন পাক আল্লাহ তাআলার কালাম।

(٥٣) وَالْكُتُبُ كُلُّهَا مَنْسُوْخَةٌ بَعْدَ الْقُرْآنِ. (شرح العقائد)

ترجمہ: نزول قرآن کے بعد پچھلی تمام آسمانی کتابںُ منسوخ ہوگئںق۔

অর্থঃ কুরআন নাজিল হওয়ার পর অতীতের সমস্ত আসমানী কিতাব রহিত হয়ে গেছে।

(٥٤) خِلَافَةُ الْمَهْدِىْ عَلَيْهِ السَّلَامِ فِىْ آخِرِ الزَّمَانِ حَقٌّ. (مشكاة شريف)

ترجمہ: آخری زمانہ مںْ حضرت امام مہدی علہَ السلام کی خلافت سچ ہے۔ অর্থঃ শেষ যুগে হযরত ইমাম মাহদী আ. এর খিলাফত সত্য।

(٥٥) خُرُوْجُ الدَّجَّالِ وَيَأْجُوْجَ وَمَأْجُوْجَ حَقٌّ. (العقيدة الطحاوية)

ترجمہ: دجال اور یاجوج و ماجوج کا خروج سچ ہںْ۔ অর্থঃ দাজ্জাল এবং ইয়াজুজ মাজুজের প্রকাশ সত্য।

(٥٦) طُلُوْعُ الشَّمْسِ مِنَ الْمَغْرِبِ وَخُرُوْجُ الدَّابَّةِ حَقٌّ. (العقيدة الطحاوية)

ترجمہ: پچھّم سے طلوع شمس اور دابہ کا خروج سچ ہے۔ অর্থঃ পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয় এবং দাব্বাহ নামক প্রাণীর প্রকাশ সত্য।

(٥٧) وَأَشْرَاطُ السَّاعَةِ الْأُخْرٰى وَنَفْخُ الصُّوْرِ حَقٌّ. (الصحيح للبخارى)

ترجمہ: قاھمت کی دوسری علامات اور صور کا پھونکا جانا سچ ہے۔ অর্থঃ কেয়ামতের অন্যান্য আলামত সমূহ এবং শিঙ্গায় ফুঁৎকার সত্য।

(٥٨) سُؤَالُ مُنْكَرِ وَ نَكِيْرِ وَعَذَابُ الْقَبْرِ وَتَنْعِيْمُهٗ حَقٌّ. (العقيدة الطحاوية)

ترجمہ: منکر نکرا کے سوالات اور قبر کا عذاب و نعمت سچ ہںْ۔ অর্থঃ মুনকার নাকিরের প্রশ্ন, কবরের আযাব ও শাস্তি সত্য।

(٥٩) اَلْبَعْثُ بَعْدَ الْمَوْتِ وَالْحَشْرُ حَقٌّ. (العقيدة الطحاوية)

ترجمہ: موت کے بعد دوبارہ زندہ ہونا اور حشر سچ ہںر۔ অর্থঃ মৃত্যুর পর পুনরুত্থান এবং হাশর সত্য।

(٦٠) اَلْحَوْضُ وَالشَّفَاعَةُ حَقٌّ. (العقيدة الطحاوية)

ترجمہ: حوض کوثر اور سفارش سچ ہںا۔ অর্থঃ হাউজে কাউসার এবং সুপারিশ সত্য।

(٦١) وَزْنُ الْأَعْمَالِ وَالْحِسَابِ وَالْكِتَابِ حَقٌّ. (العقيدة الطحاوية)

ترجمہ: اعمال کا وزن اور حساب و کتاب سچ ہںب۔ অর্থঃ ভালো-মন্দ আমলের ওজন, হিসাব নিকাশ এবং আমলনামা সত্য।

(٦٢) اَلصِّرَاطُ وَالْجَنَّةُ وَالنَّارُ حَقٌّ. (العقيدة الطحاوية)

ترجمہ: پلصراط، جنت اور دوزخ سچ ہںة۔ অর্থঃ পুলসিরাত, জান্নাত এবং জাহান্নাম সত্য।

(٦٣) رُؤْيَةُ اللّٰهِ تَعَالٰى فِيْ الْآخِرَةِ حَقٌّ. (العقيدة الطحاوية)

ترجمہ: آخرت مں اللہ تعالی کا دیدار سچ ہں ۔ অর্থঃ কিয়ামতের দিবসে আল্লাহ পাকের সাথে মুমিনদের সাক্ষাৎ সত্য।

(٦٤) خُلُوْدُ الْمُؤْمِنِيْنَ فِىْ الْجَنَّةِ وَخُلُوْدُ الْكَافِرِيْنَ فِىْ النَّارِ. (العقيدة الطحاوية)

ترجمہ: مومن کا جنت مںل اور کافر کا جہنم مںخ ہمشہن رہنا سچ ہںع۔

অর্থঃ মুমিনদেরদের জন্য চিরস্থায়ী জান্নাত এবং কাফেরদের জন্য চিরস্থায়ী জাহান্নাম সত্য।

(٦٥) اَلْفَاسِقُ لَايَكْفُرُ وَلَايَخْلُدُ فِىْ النَّارِ أَبَدًا. (العقيدة الطحاوية)

ترجمہ: فاسق کو کافر نہںل کہا جائگا ، اور نہ وہ جہنم مںل ہمشہ) رہے گا۔

অর্থঃ ফাসেককে কাফের বলা যাবে না এবং ফাসেক চিরকাল জাহান্নামে থাকবে না।

(٦٦) عَرْشُ الرَّحْمٰنِ وَكُرْسِيُّهٗ أَعْظَمُ الْمَخْلُوْقَاتِ. (العقيدة الطحاوية)

ترجمہ: اللہ تعالی کے عرش و کرسی سب سے بڑی مخلوق ہںن۔ অর্থঃ আল্লাহ তাআলার আরশ কুরসী সর্ববৃহৎ সৃষ্টি।

(٦٧) اَللَّوْحُ وَالْقَلَمُ وَالْمِيْثَاقُ حَقٌّ. (العقيدة الطحاوية)

ترجمہ: لوح و قلم اور ‘عہد الست’ سچ ہں ۔ অর্থঃ লৌহ কলম এবং আলমে আরওয়াহ এর অঙ্গীকার সত্য।

(٦٨) اَلدِّيْنُ عِنْدَ اللّٰهِ الْأِسْلَامِ. (العقيدة الطحاوية)

ترجمہ: اسلام ہی اللہ تعالی کا پسندیدہ دین ہے۔ অর্থঃ ইসলামই আল্লাহ তাআলার একমাত্র মনোনীত ধর্ম।

(٦٩) لَانَجَاةَ عَنِ النَّارِ إِلَّا بِالْإِسْلَامِ. (العقيدة الطحاوية)

ترجمہ: اسلام کے علاوہ جہنم سے رہائی کا کوئی راستہ نہںد۔ অর্থঃ ইসলাম ছাড়া জাহান্নাম থেকে মুক্তির অন্য কোনই পন্থা নাই।

(٧٠)نَصْبُ الْإِيْمَانِ لِتَنْفِيْذِ الْإِسْلِامِ لَازِمٌ. (شرح العقائد)

ترجمہ: شرعی قانون نافذ کرنے کے لےم امر کا انتخاب ضروری ہے۔

অর্থঃ ইসলামী আইন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে খলিফা নিয়োগ করা জরুরি।

اسمائے حسنیٰ আসমায়ে হুসনা

نحمده و نصلي صلى علي رسوله الكريم اما بعد

فاعوذ بالّٰله من الشيطان الرجيم، بسم اللّٰه الرحمن الرحيم

وَ لِلّٰهِ الْاَسْمَاءُ الْحُسْنيٰ فَادْعُوْهُ بِهَا وَ عَنْ اَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللّٰهُ تَعَاليٰ عَنْهُ قَال. قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ: اِنَّ لِلّٰهِ تَعَاليٰ تِسْعَةً وَّ تِسْعِيْنَ اِسْمًا مِّئَةً غَيْرَ وَاحِدَةٍ مَنْ أَحْصَاهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ

অর্থঃ এবং আল্লাহ তাআলার ভাল ভাল নাম আছে, অতএব তোমরা আল্লাহ তাআলাকে ঐ নাম সমূহ দ্বারা ডাকো। হযরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্নিতঃ রসুলুল্লাহ সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ আল্লাহ তাআলার ৯৯ টি নাম রয়েছে, যে ব্যক্তি উক্ত ৯৯ টি নাম ইয়াদ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। -তিরমিজি শরীফ।

هو اللّٰه الذي لا اله الا هو الرحمن الرحيم الملك القدوس السلام المؤمن المهيمن العزيز الجبار المتكبر الخالق البارئ المصور الغفار القهار الوهاب الرزّاق الفتّاح العليم القابض الباسط الخافض الرافع المعزّ المذلّ السميع البصير الحكم العدل اللطيف الخبير الحليم العظيم الغفور الشكور العلي الكبير الحفيظ المقيت الحسيب الجليل الجميل الكريم الرقيب المجيب الواسع الحليم الودود المجيد الباعث الشهيد الحق الوكيل القوي المتين الولي الحميد المحصي المبدئ المعيد المحيي المميت الحي القيوم الواجد الماجد الواحد الأحد الصمد القادر المقتدر المقدّم المؤخّر الأول الآخر الظاهر الباطن الوالي المتعالي البر التواب المنتقم العفو الرؤوف مالك الملك ذو الجلال و الإكرا المقسط الجامع الغني المغني المعطي المانع الضار النافع النور الهادي البديع الباقي الوارث الرشيد الصبور

হযরত দা. বা. বলেনঃ এরপর তিলাওয়াতে কালামে পাক এর উপকার ও আদাব সমূহ উর্দুতে শুনিয়ে তিলাওয়াতে কালামে পাক শুরু হয়। যেহেতু এই মজলিসে ছাত্র-উস্তাদ ছাড়া অন্যকেউ থাকে না, তাই তিলাওয়াতে কালামে পাক এর উপকার ও আদাব সমূহ উর্দুতে পড়ে শোনানো হয়। ব্যাপক ভাবে দুআর এ মজলিসে সাধারনদের অংশ নেয়ার কোন অনুমতি নেই, যেনো মজলিসের গুরুত্ব ও ছাত্র-উস্তাদদের তরতিবে আসবাকের মধ্যে কোন সমস্যা তৈরী না হয়।

তিলাওয়াতে কালামে পাক تلاوت کلام پاک

تلاوت کلام پاک کے تن اہم فائدے

دل کا زنگ دور ہوتا ہے۔

اللہ تعالیٰ کی محبت مں ترقی ہوتی ہے۔

ہر ہر حرف پر کم از کم دس دس نا ں ملتی ہں ، بلا سمجھے پڑھنے پر بھی یہ ناي ں ملتی ہں، اگر کوئی شخص یہ کہ بغر سمجھے پڑھنے سے کوئی فائدہ نہںد، تو وہ شخص بد دین ہے یا جاہل، یا دونوں۔

تلاوت کلام پاک کے دوا ہم آداب

پڑھنے والا دل مں یہ خامل کرے کہ اللہ تعالیٰ نے حکم دیا ہے سناؤ کساو پڑھتے ہو۔

سنے والا دل مںم یہ خا ل کرے کہ احکم الحاکمنل اور محسن اعظم کا کلام پاک پڑھا جارہا ہے اس لےک نہایت عظمت و محبت کے ساتھ سننا چاہےّ۔

  • তিলাওয়াতে কালামে পাক শেষ করার পর একজন উস্তাদ সকলকে নিয়ে সংক্ষিপ্ত দুআ পরিবেশন করেন। মুলত দুআর মাধ্যমে দৈনিক কার্যক্রম সমূহ শুরু হয়।
  • এরপর সকল বিভাগের ত্বলাবাগন নিজ নিজ দরসগাহে চলে যান, দুপুর ১২টা পর্যন্ত যথারীতি ত্বলাবা-আসাতিযাগন লেখাপড়ায় মশগুল থাকেন।
  • এরপর খানার ঘন্টা বাজানো হয়, মাতবাখ থেকে দুপুরের খানা গ্রহণ করে খানা খেয়ে কাইলুলার পর নামাজ শুরু হওয়ার আধা ঘন্টা পূর্বে মুআজ্জিন সাহেব আযান দিলে অবশ্যই নামাজের ২০ মিনিট পূর্বে সকল প্রয়োজন শেষ করে সকলেরই মসজিদে যুহরের নামাযের উদ্দেশ্যে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক।
  • মসজিদে উপস্থিত হয়ে প্রথমে তাহিয়্যাতুল উযু, তাহিয়্যাতুল মসজিদ, সলাতুল হাজত, সলাতুত তওবাহ, সলাতুশ শুক্র এক নিয়তে, যুহরের ৪ রাকাত সুন্নত নামাজ এবং বাকি সময় পবিত্র কালামে পাকের তিলাওয়াত এবং ইকামতের ৫ মিনিট পূর্বে ইনফেরাদী ভাবে খাস দুআর ইহতেমাম করা হয়।
  • এরপর ইকামত হয়, সঠিক সময়ে যুহরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়, ইমাম সাহেব তিওয়ালে মুফাসসাল এর ক্বিরাআতের মাধ্যমে যুহরের নামাজ আদায় করান।
  • যুহরের নামাজের পর সুন্নত নামাজ আদায় শেষে খতমে খাজেগানের আমল অনুষ্ঠিত হয়।

খতমে খাজেগান

درود شريف تين مرتبہ

لَا حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللّٰهِ لَا مَلْجَأَ وَ لَا مَنْجَا مِنَ اللّٰهِ إِلاَّ إِلَيْهِ ٣٦٠ مرتبہ

سورۂالم نشرح ٣٦٠ مرتبہ

لَا حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللّٰهِ لَا مَلْجَأَ وَ لَا مَنْجَا مِنَ اللّٰهِ إِلاَّ إِلَيْهِ ٣٦٠ مرتبہ

يا مقلب القلوب و الابصار، يا خالق الليل و النهار، يا عزيز يا لطيف يا غفار ٢٠٠ مرتبہ

يا صمد يا عزيز يا مغني يا ناصر برائے حفاظت مدارس دینیہ

درود شريف تين مرتبہ

তারপর মাদরাসার সমস্ত হাজতকে সামনে রেখে সম্মিলিত দুআ পরিবেশন হয়, দুআ শেষে সকল ত্বলাবা-আসাতিযাগন নিজ নিজ দরসগাহে চলে যান, একটানা আসরের আজান পর্যন্ত দরস ও তাদরীস চলতে থাকে।

হযরত দা. বা. বলেনঃ হযরতওয়ালা ফকিহুল মিল্লাত রহ. এর মুখে শুনেছিলাম, হযরতওয়ালা হারদুয়ী রহ. এর দেয়া খতমে খাজেগানের আমলের মাধ্যমে মারকাযুল ফিকরিল ইসলামী বাংলাদেশ বসুন্ধরার স্বথায়ী জায়গার ব্যবস্থা হয়। আমাদেরও রহমানিয়া ইমদাদুল উলুম মাদরাসা সিরাজগঞ্জ এর কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগ থেকেই খতমে খাজেগানের আমল চলতে ছিলো, আমার এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয় আমাকে একদিন বললেন, আমাদের এক ভাই কিছু জায়গা রেখেছেন মাদরাসার জন্য, তিনি জায়গা দিতে চান। এটা নেওয়ার জন্য কি করা যেতে পারে? আমি বলে দিলাম প্রথমত জায়গা দেখতে হবে, এরপর আমাদের মাদরাসার নিয়ম-নীতির সাথে মিললে আল্লাহ তাআলা কবুল করলে জায়গা নেয়া হতে পারে। পরবর্তীতে আমাদের দাতা দোস্তের কিছু শর্ত থাকলে আমরা এই জায়গা গ্রহণ করা থেকে পিছিয়ে আসি, পরে তিনি যেকোন শর্ত ছাড়াই জায়গা মাদরাসায় দিয়ে দেন। এটা আমাদের স্বচক্ষে দেখা খতমে খাজেগান এর প্রত্যক্ষ বরকত, আলহামদুলিল্লাহ। মাদরাসার কার্যক্রম শুরু হওয়ার বেশ আগে আমাদের সিরাজগঞ্জ জেলার থানবী সিলসিলার প্রখ্যাত একজন বুজুর্গ স্বপ্নে দেখেনঃ “একটা বড় ঘরে পরিপূর্ণ সুন্নত তরিকায় লেবাস-পোশাক পরিহিত কিছু ছাত্রকে দুধ, মধু ও মুড়ি দ্বারা মেহমানদারী করানো হচ্ছে, আর আমি মেহমানদারী করাচ্ছি, যিনি স্বপ্ন দেখছেন তিনিও ওখানে উপস্তিত ছিলেন, তিনি বলেনঃ মনে হচ্ছে এটা বসুন্ধরা মাদরাসার নিয়ম-নীতির অনুসরণে এমন মেহমানদারী ইন্তেজাম করা হয়েছে।”

এরপর আরেকজন প্রখ্যাত বুজুর্গ একটি স্বপ্ন দেখলেন যেঃ “আমাদের ফকিহুল মিল্লাত মুফতি আব্দুর রহমান রহ. বসুন্ধরার দারুল হাদিস ভবনের দ্বিতীয় তলার দারুল হাদিসে যেখানে বসে বুখারী শরীফ পড়াতেন ছবক দিতেন আমি সেখানে বসে বুখারী শরীফের ছবক দিচ্ছি ও দিক নির্দেশনা প্রদান করছি এবং যিনি স্বপ্ন দেখছেন তিনি নিচে বসে এগুলো শুনতেছেন।”

এরকম আরো কিছু স্বপ্ন বিভিন্ন বুজুর্গ আল্লাহওয়ালাগন দেখেছেন, যাদের নাম প্রকাশ না করাই ভালো মনে করছি। পরে আমি আমাদের শাইখ হযরতওয়ালা মুরশিদুস সুন্নাহ দা. বা. কে প্রত্যেকটা স্বপ্ন আলাদা আলাদা ভাবে জানিয়েছিলাম, হযরত দা. বা. সব স্বপ্নের আলাদা ব্যাখ্যা করলেন। সব মিলিয়ে এ ব্যাখ্যা হলো যে, “ইনশাআল্লাহ রহমানিয়া ইমদাদুল উলুম মাদরাসা সিরাজগঞ্জ এহইয়ায়ে সুন্নত ও ইত্তেবায়ে সুন্নত এর মারকায বা কেন্দ্র হবে, তোমাকে আল্লাহ তাআলা এ কাজগুলোর জন্য কবুল করবেন।” আমি মনে করি এগুলো আমাদের কোন যোগ্যতা নয়, বরং আমাদের শাইখ ও বুজুর্গ আল্লাহওয়ালাদের নেক তাওয়াজ্জু ও দুআর ফসল, আল্লাহ তাআলা কবুল করুন।

আমরা যখন এস এস রোডের ভাড়া বাড়িতে ছিলাম, তখন আমাদের কিছু দোস্ত-আহবাব এ কথা বলে প্রচার করা শুরু করলেন যে, এই মাদরাসায় জঙ্গিবাদের ট্রেনিং হয়, নইলে তারা কারো কাছে যায় না, কারো কাছে চায় না এবং তারা আমাদের দারুল ইকামায় অবস্থানরত ছাত্রদের অভিভাবকদের এখান থেকে তাদের সন্তানদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য খুব চাপ দিলেন এবং তারা সরিয়েও নিলেন। তখন আমি হযরতওয়ালা মুরশিদুস সুন্নাহ দা. বা. কে বিষয়টি জানিয়ে দুআ চাইলাম, শাইখুনা হযরতওয়ালা মুরশিদুস সুন্নাহ দা. বা. বলেনঃ দরুদে নারিয়া ১ হাজার বার পড়, আগে পড়ে কয়েকবার দরুদ শরীফ সহ, ھُوَ الْحَبِیْبُ الَّذِيْ تُرْجٰی شَفَاعَتُھٗ لِکُلِّ ھَوْلٍ مِّنَ الْاَھْوَالِ مُقْتَحِمٖ আগে পরে ১১ বার দরুদ শরীফ সহ এক হাজার বার পড়, পরলে ৪১ বার সূরা ইয়াসিনের খতম করে সব মিলিয়ে দুআ করো। নিজের কাজ নিজে করতে থাকো, আল্লাহ তাআলার দিকে মুতাওয়াজ্জু হও, হিংসুকদের কোন চিকিৎসা নাই, এটার মুকাবিলা করতে নাই, এখলাসের সাথে হিকমতের সাথে কাজ করতে থাকো, আল্লাহ তাআলাই ফয়সালা করবেন, আল্লাহ তাআলা হেফাজত করবেন ইনশাআল্লাহ। কারো কোন পরোয়া করার প্রয়োজন নেই, বিরিয়ানির ড্যাগ দেখলে আশপাশওয়ালারা ঘেউ ঘেউ করে, করবে, এটা নিয়ম। ভালো কাজ করতে গেলে মুখালাফাত হবেই, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দান্দান মুবারক শহীদ হয়েছে, মাথা ফেটে রক্ত বের হয়েছে, তিনি কাউকে গালি দিয়েছেন, কষ্ট দিয়েছেন, বিষয়টা এরকম না। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সবার উপকারই করেছিলেন, কিন্তু যখন কালেমার দাওয়াত দেওয়া শুরু করেছেন, দ্বীনের দাওয়াত শুরু করেছেন, তখন সবাই কিভাবে দুশমনি করেছেন? রসূলুল্লাহ সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ধৈর্য ধরছেন, সবর করছেন, তো আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন পুরা বিশ্বের ভিতর ইসলামের এই কাজকে দ্বীনকে ছরিয়ে দিয়েছেন। এজন্য মুখালাফাত হওয়া এটা আমি এক দিক দিয়ে মনে করি খুশির ব্যাপার, এটা কবুলিয়াতের আলামত।

গাছে আম থাকলে মানুষ ঢিল মারে, আম না থাকলে তো ঢিল মারে না, আর আম যখন পাকে তখন আরো বেশি ঢিল মারে। এজন্য আল্লাহ তাআলার দিকে মুতাওয়াজ্জু হও এবং যে আমলগুলো দেওয়া হয়েছে এগুলো করতে থাকো, আর উলামায়ে কিরাম যারা আসে পাশে আছেন তাদের একরাম কর। ………… এগুলো সহ্য করতে পারে না, তাই কাজ করতে থাকো, হাওয়ালা দিবানা। কাজ মাকসাদ নাম মাকসাদ না। আলহামদুলিল্লাহ, যদি নামকে মাকসাদ বানাইতাম তাহলে আল্লাহ তাআলা আমার দ্বারা যে কাজগুলো নিয়েছেন, এগুলো হয়তো হতো না, আমি নামকে মাকসাদ নেই নাই, চেষ্টা করেছি আল্লাহ তাআলা কয়েকটা মাদরাসাকে চমকে দিয়েছেন। কেউ যদি বলে যে, আমি করেছি বা আমরা করেছি, এটা ভুল কথা, আসলে করেছেন আল্লাহ তাআলা, আর আমাদেরকে এই কাজের সাথে লাগাইছেন, মুজাহাদা করাইছেন, এগুলো সদকায়ে জারিয়া পাইতেই থাকবো, এখনো পাইতেছি। আল্লাহ তাআলার রহমত আর বরকত এবং সবদিক দিয়ে মানুষের মুহাব্বত-ভালোবাসা, বিশেষভাবে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো আত্মবিশ্বাস, মানুষ যতই বড় হোক না কেন? যদি আত্মবিশ্বাস না থাকে, তাহলে কোন কাজে আসবে না। এজন্য কথায়-কাজে, মুআমালাত-মুআশারাতে মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি করা অনেক বড় জিনিস। এজন্য আত্মবিশ্বাস তৈরি কর। আল্লাহ তাআলার দিকে মুতাওয়াজ্জু হও, এদিক সেদিক হাঁটাচলা-ঘোরাফেরা বন্ধ করে দাও, দেখবে এদের মুখালাফাতের কারণে আল্লাহ তাআলার রহমত বেশি বেশি মুতাওয়াজ্জু হবে ইনশাআল্লাহ।

বিস্তারিত জানতে আমাদের “মামুলাতে মাদরাসা” কিতাবটি পড়ুন