Rahmania Madrasah Sirajganj

ইতিহাসের পাতায় জামিয়া রহমানিয়া আরাবিয়া, –মুফতি ফয়জুল্লাহ দা. বা.

তখন শায়খুল হাদিস রহ: বা-হায়াত ছিলেন। তাঁর সন্তানদ্বয় ( মাহফূজ সাহেব ও মামূন সাহেব ) তখনও ছাত্র। শিক্ষা সচিব ছিলেন মুফতি মানসূর সাহেব।সকল উস্তাগণের ঐক্যমতে সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়, যে আজ থেকে এই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-শিক্ষকদের জন্য সকল প্রকারের রাজনীতি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

কারো ব্যাপারে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা প্রমাণীত হলে তাৎক্ষণিৎ বহিষ্কারের সিদ্ধান্তও গৃহিত হয়। তবে এই আইনের আওতামুক্ত রাখা হয় স্রেফ শায়খুল হাদিস রহ: কে।

যেহেতু তিনি তদানিন্তন শীর্ষ ইসলামী নেতা। এক পর্যায়ে অগত্যা এই আইন লঙ্ঘিত হয় শায়খুল হাদিস রহ: এর সাহেবযাদাদ্বয় কর্তৃক। তাই পূর্ব নির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উভয়ের ব্যাপারে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাধ্য হয়ে পড়েন শিক্ষা সচিব মুফতি মানসূর সাহেব।

তাঁর এই সিদ্ধান্তটি ইনসাফভিত্তিক হলেও এত বেশি স্পর্শকাতর যে, যার চরম মাশূল তাঁকে দিতে হয়েছে পরবর্তীতে।তখন তাঁর সাপোর্টে ছিলেন শুধু আল্লামা হিফযুর রহমান সাহেবসহ মুষ্টিময় কয়েকজন।

তথাপী মুফতি মানসূর সাহেবের প্রভাবে একপর্যায়ে শায়খুল হাদিস রহ: এর সন্তানদের প্রতি অনৈতিক মায়াকান্নাকারিরা রহমানিয়া থেকে কেটে।ফলে মুফতি সাহেব পরম সুশৃঙ্খলভাবে চালিয়ে নিচ্ছিলেন এদারা।

ইতিমধ্যে ক্ষমতার পালা বদল হয়ে ইসলামী দলগুলো সরকারি অঙ্গসংগঠনে রুপ নেয়। ঠিক তখনই শায়খুল হাদিস রহ: এর নামধারী কতিপয় আশেকানের নেতৃত্বে ততকালীন ক্ষমতাসীন অস্ত্রধারীদের ঢুকিয়ে দেয়া হয় রহমানিয়ায়।অস্ত্রের সামনে জিম্মি হয়ে মুহূর্তেই মাদ্রাসা ত্যাগে বাধ্য হন মুফতি মানসূর সাহেবসহ নীতিবান শিক্ষকবৃন্দ।

আবারো ফিরে আসে কেটে পড়া তথাকথিত আশেকানে রহমানিয়া।এদিকে মুফতি মানসূর সাহেবকে এক ভক্ত সামান্য কিছু জায়গায় একটা টিনশেড ঘর তুলে অবস্থান করার সুযোগ দেয়।তখন মুফতি সাহেব যোগাযোগ করলেন হযরত শাহ আবরারুল হক্ব হারদূঈ রহ: র সাথে।পুরো বিষয়ে অবগত হয়ে তিনি নির্দেশ দেন উক্ত টিনশেড ঘরে দরস-তাদরিস চালু করার।

হযরত রহ:র তাওয়াজ্জুহের বরকতে সেই টিনশেড ঘরই গড়ে উঠেছে দ্বিতীয় বৃহৎ রহমানিয়া হিসেবে।ইতিমধ্যে মাদ্রাসার কল্যাণার্থে মাদ্রাসাকে আপন স্বকীয়তায় ফিরিয়ে আনার স্বার্থে বড়দের পরামর্শক্রমে মুফতি মানসূর সাহেব মাদ্রাসা পূণরুদ্ধারের জন্য মামলা দায়ের করেন।মামলার রায়ও মুফতি সাহেবদের পক্ষেই এসেছে।কিন্তু তদানিন্তন ক্ষমতাসীনদের বলয়ে আর পরবর্তীতে এমপি নানক সাহেবের বলয়ে আর উদ্ধার করতে পেরে উঠেননি মুফতি সাহেব।

এরই মধ্যে একদিন শায়খুল হাদিস রহ:র সন্তানগণ শায়খুল হাদিস রহ: কে বলেছিলেন, তিনি যেন মুফতি মানসূর সাহেব এর হাদিসের ইজাযত ক্যান্সেল করে ঘোষণা দিয়ে দেন।এতে করে মুফতি সাহেব হয়তো ভীত সন্তস্ত্র হয়ে মামলা প্রত্যাহার করবেন।এ খবর পাওয়া মাত্রই মুফতি মানসূর সাহেব ভয় পেয়ে ছুটে গেলেন ফক্বীহুল মিল্লাত রহ: এর কাছে।পুরো ঘটনার বিবরণ শুনে ফক্বীহুল মিল্লাত রহ: বললেন, শায়খুল হাদিস রহ: এর সনদ এবং আমার সনদ সমপর্যায়ের।কারণ, শায়খুল হাদিস রহ: এর উস্তাদের উস্তাদ হযরত শায়খুল হিন্দ মাহমূদ হাসান দেওবন্দী রহ:। তেমনি ভাবে আমার উস্তাদের উস্তাদও হযরত শায়খুল হিন্দ রহ:।অতএব শায়খুল হাদিস রহ: যদি তোমার সনদ বাতিল করে দেন, তাহলে আমি তোমাকে হাদিসের ইজাযত দিলাম।

অবশ্য, পরবর্তী জানা গেছে যে, যখন শায়খুল হাদিস রহ: এর সন্তানদের কেউ তাঁকে মুফতি মানসূর সাহেবের সনদ বাতিল করে দেয়ার আবেদন করে, তখন শায়খুল হাদিস রহ: দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে বলেছিলেন, না। এমনটি আমি কখনই করতে পারি না! আমি তোমাদের কথায় আমার দুনিয়া বরবাদ করেছি। কিন্তু তোমাদের প্ররোচনায় আমি আখেরাতে আমার মানসূরকে কিছুতে হারাতে চাই না। এসব উচ্চ ইখলাসপূর্ণ চিন্তা কেবল শায়খুল হাদিস রহ: এর মত মহান বুজর্গের দ্বারাই সম্ভব!

এসব ঘটে যাওয়ার কিছুদিন পর হযরত হারদূঈ রহ: ঢাকায় তাশরিফ এনেছিলেন। তখন তাঁকে মুফতি মানসূর সাহেব নিয়ে গেলেন রহমানিয়া টিনশেড মাদ্রাসায়। সেখানে হযরত রহ: নসিহত করলেন, দুআ করলেন।হারদূঈ হুজুরের আগমনের খবর পেয়ে শায়খুল হাদিস রহ: হারদূঈ রহ: এর কাছে প্রতিনিধি পাঠিয়ে দরখাস্ত করলেন রহমানিয়া বিল্ডিং মাদ্রাসায় তাশরিফ আনার জন্য।কিন্তু হযরতওয়ালা শাহ আবরারুল হক্ব হারদূঈ রহ: পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন যে, আমি শায়খুল হাদিস রহ:কে মুহাব্বত করি ঠিক, তবে যে মাদ্রাসা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের সাহায্যে দখল করা হয়েছে, সেখানে আমি কিছুতেই যেতে পারি না।

এসব সুস্পষ্ট ইতিহাস আমাদের সামনে আসার পরও যদি মুফতি মানসূর সাহেব এর ব্যাপারে বলা হয় যে, তিনি মাদ্রাসা দখল করতে চাচ্ছেন, তাহলে তাঁর উপর এর চেয়ে বড় কোনো অবিচার হতে পারে না।

আরে! মুফতি সাহেব দখল নয়, বরং দখল হওয়া প্রতিষ্ঠান পুনরুদ্ধার করতে চাচ্ছেন ন্যায়সঙ্গতভাবে, বৈধ দলিলের ভিত্তিতে। গায়ের জোরে কিংবা ক্ষমতাসীনদের বলয়ে নয়!

আমরা শায়খুল হাদিস রহ: এবং তাঁর সন্তানদেরকে হৃদয়গহীন থেকে ভালোবাসি। তাই বলে, তো আর মাযলূম মুফতি মানসূর সাহেব এর বিরোধিতায় লিপ্ত হয়ে পক্ষপাতী আচরণ করতে পারি না! তাই আমরা আমাদের বড়দের ব্যাপারে মন্তব্য করতে একটু সতর্ক হই।

আমাদের ভালোবাসা কেবলই যেন হয় দ্বীনের স্বার্থে, ন্যায়ের অধীনে! অন্যথায় শায়খুল হাদিস রহ: কে মুহাব্বত করতে গিয়ে যেন হারদূঈ রহ:র কলিজায় আঘাত লাগতে পারে!

পড়েছেনঃ 40 জন