Rahmania Madrasah Sirajganj

ইজতিহাদ, মুজতাহিদ, মাযহাব, তাকলীদ ও মুকাল্লিদ পরিচিতি!

সাহাবায়ে কিরামের পবিত্র যামানার পর থেকে ইসলাম ও মুসলিম জাতিকে পৃথিবীর বুক থেকে চিরতরে বিদায় করে দেওযার জন্য ভিতর ও বাহিরে চতুর্মুখি ঘৃন্য ষড়যন্ত্র শুরু হয়। তখন মুসলিম উম্মাহ দু’ ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হন।
১- প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাণীর সাথে নিজেদের কথা মিশিয়ে ইসলামের ভিত্তিমূলকে নড়বড়ে করে দেয়ার মানসে মুসলিম নামধারী মুনাফিক চক্রের ‘‘জাল হাদীস’’ তৈরির ভয়ানক ষড়যন্ত্র।
২- ইসলামী রাজ্য সম্প্রসারণের সুবাদে নতুন অঞ্চলের মানুষের জীবন চলার পথে নিত্য নতুন জিজ্ঞাসা ও সমস্যার উদ্ভব হয়। কুরআন-হাদীস মূলনীতি আকারে বর্ণিত হওয়ার দরুণ মানব জীবনের যে সব খুঁটি-নাটি বিষয়ের সমাধান পাওয়া সাধারণ মানুষের জন্য খুবই দুরূহ, এমনকি অসম্ভব হয়ে পড়ে; উক্ত সমস্যার সমাধানকল্পে কুরআন-সুন্নাহর বিজ্ঞ পন্ডিতগণ তথা মুহাদ্দিসীন ও ফুক্বাহা দু’ভাগে দ্বীনি মিশনে লিপ্ত হয়ে যান।
* মুহাদ্দিসীনে কিরাম প্রিয় নবীজীর বিশুদ্ধ হাদীস সমূহকে মওদ্বূ তথা জাল হাদীস হতে পৃথক করে কিতাবাকারে সংকলন করেন এবং বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের জন্য গড়ে তোলেন রিজাল শাস্ত্রের সুবিশাল ভান্ডার।
* অপর দিকে মুজতাহিদ ফুক্বাহায়ে কেরাম মানব জীবনের উদ্ভূত সমস্যার সমাধানকল্পে কুরআন-হাদীসের মূলনীতির আলোকে গড়ে তুলেন ‘ইলমে ফিক্বহ’র বিশাল ভান্ডার।
* বিশিষ্ট তাবেয়ী ইমাম আবু হানিফা (র) ছিলেন এ শাস্ত্রের প্রধান ও প্রাণপুরুষ। সে সময় ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালেক, ইমাম শাফেয়ী ও ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (আলাইহিমুর রাহমাহ) ছাড়াও আরো অনেক মুজতাহিদ ইজতিহাদ নীতি অবলম্বন করেন এবং আপন আপন মাযহাবের সূচনা করেন।
* কিন্তু প্রসিদ্ধ চার ইমামের বাহিরে অন্যান্য মুজতাহিদদের ফতুয়া কিতাবাকারে লিপিবদ্ধ না থাকায় এবং তাদের মতামত সমূহের প্রতিনিধিত্ব করার মতো যোগ্য উত্তরসূরী না থাকায় পরবর্তীতে উনাদের মতামত সমূহ হারিয়ে যায়। যার ফলে পরবর্তীতে চার মাযহাবের অনুসরনের উপর আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামা’আতের ইজমা সংঘটিত হয়। এরপর থেকে সকল উম্মতে মুহাম্মদী কোনো না কোনো মাযহাবের অনুসরণ করে আসছেন । এমনকি মুসলিম বিশ্বের স্বনামধন্য ও বিশ্ববরেণ্য ওলামায়ে কেরামও নিজ নিজ রুচি ও অঞ্চলভেদে ঐ চার মুজতাহিদ ইমামের কোনো একজনের মাযহাবকে অনুসরণ করেছেন।
* সিহাহ সিত্তার ইমামগণ সহ ইমাম ত্বাহাবী, ইবনে খুজাইমাহ, ইবনে হিববান, দারা কুতনী, হাকিম নিশাপুরী, আবু বকর জাসসাস, আবূ আব্দিল্লাহ ফখরুদ্দীন রাযী, খতিব বাগদাদী, ইমাম গাজ্জালী, ইমাম নববী, ইবনুল আছীর, ইবনে কুদামা, ইবনে কাছীর, কুরতুবী, বড়পীর আব্দুল কাদির জিলানী, শিহাবুদ্দীন আলূসী, যাইলাঈ, ইমাম যাহাবী, আল্লামা আইনী, ইবনে হাজার আসকালানী, জালালুদ্দীন সুয়ূুতী, এমনকি ইমাম ইবনে তাইমিয়া, ইবনুল কায়্যিম সহ সকল মুহাদ্দিস ও মুফাসসির মাযহাব মেনে চলেছেন।
শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহঃ এর উক্তি
ইজতিহাদের ক্ষমতা নেই এমন ব্যক্তির জন্য মাযহাব বা তাকলিদে শাখছি অবলম্বন করা ওয়াজিব। তবে শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ) তিনি লিখেছেন ‘জায়েজ’। এখানে জায়েজ বলে ‘অবৈধ নয়’ এরকম বুঝানোই উদ্দেশ্য।
‘মাজমূ ফাতাওয়া’ কিতাবের ২০৩ নং পৃষ্ঠার ভাষ্য হল – التقليد جائز للعاجز عن الاجتهاد অর্থাৎ ইজতিহাদে অক্ষম ব্যক্তির জন্য তাকলিদ করা জায়েজ বা অবৈধ নয়।
লামাযহাবী ভাইদের নিকট ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ)-এর উক্তি তুলনামূলক বেশি গুরুত্ববহন করায় উনার কিতাব থেকে বিষয়টি প্রমাণ করা হল। তাই আজ থেকে মাযহাব বা তাকলিদকে অবজ্ঞা করবেন না!
দুঃখজনক হলেও সত্য যে, রাণী ভিক্টোরিয়া কর্তৃক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ও ইংরেজ আমলে সৃষ্ট আহলে হাদিস নামের দলটি সহিহ হাদিসের চটকদার জিকির তোলে মাযহাবের বিরোধীতা করে চলেছে। ইংরেজ আমলে সৃষ্ট আহলে হাদিস নামের দলটি মাযহাব অনুসরণের এ নিরবিচ্ছন্ন ধারাবাহিকতায় আঘাত হানতে চাচ্ছে। তারা মাযহাব অনুসরণকারীদের কাফির-মুশরিক বলতেও কুন্ঠিত হচ্ছে না।
* খ্রিষ্টান মিশনারী, কাদিয়ানী এবং চিহ্নিত মাজারপূজারি ফিরকা সমূহের বিরুদ্ধে নিশ্চুপ থেকে এরা আদাজল খেয়ে লেগেছে মাযহাব অনুসরণকারীদের কাফির বানানোর অপচেষ্টায়। নিচের প্রবন্ধে মাযহাব ও তাকলীদ সংক্রান্ত দালিলিক ও মৌলিক আলোচনার প্রয়াস চালাব ইনশা আল্লাহ।
প্রিয় পাঠকবর্গ! মাযহাব সম্পর্কিত পোষ্টগুলো বুঝার জন্য কিছু শব্দের সাথে পরিচিত থাকা চাই। যেমন – ইজতিহাদ, মুজতাহিদ, মাযহাব, তাকলীদ ও মুকাল্লিদ। নিচে সংক্ষেপে এগুলোর পরিচয় তুলে ধরা হলো।
ইজতিহাদঃ ইজতিহাদের শাব্দিক অর্থ, উদ্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য যথাসাধ্য পরিশ্রম করা। ইসলামী ফিকাহ শাস্ত্রের পরিভাষায় ইজতিহাদ অর্থ, কুরআন ও সুন্নায় যে সকল আহকাম ও বিধান প্রচ্ছন্ন রয়েছে সেগুলো চিন্তা ও গবেষণার মাধ্যমে আহরণ করা।
মুজতাহিদঃ যিনি ইজতিহাদ করেন তিনি হলেন মুজতাহিদ।
মাযহাবঃ মাজহাব মানে মতামত, বিশ্বাস, ধর্ম, আদর্শ, পন্থা, মতবাদ, উৎস। মাজহাব শব্দের অনেক অর্থ আছে। তার ভিতরে একটি হল মতামত। [মিসবাহুল লুগাত]।
মুজতাহিদ কোরআন ও সুন্নাহ থেকে যে সকল আহকাম ও বিধান আহরণ করেন সেগুলোই হলো মাযহাব।

তাকলীদঃ যাদের কোরআন ও সুন্নাহ থেকে চিন্তা ও গবেষনার মাধ্যমে আহকাম ও বিধান আহরণের যোগ্যতা নেই তাদের কাজ হলো মুজতাহিদের আহরিত আহকাম অনুসরণের মাধ্যমে শরীয়তের উপর আমল করা। এটাই হলো তাকলীদ।
* তাকলীদের সারকথা হলো, কোন বুজুর্গ ও বিজ্ঞ আলেম ব্যক্তির হক্কানিয়্যাতের প্রতি এই আস্থা রেখে যে “তিনি কুরআন ও হাদীস মোতাবেক এ উক্তিটি করেছেন এবং সে মোতাবেক তিনি এ কাজটি করেছেন” তাঁর কথা ও কাজের অনুসরণ করা।
* আর এই অনুসরণকে সংশ্লিষ্ট কথা ও কাজের দলীল-প্রমাণ জানার উপর ঝুলন্ত না রাখা। কিন্তু তার দলীল- প্রমাণ যদি তখন জানা হয় অথবা পরবর্তীতে জানা যায়, তাহলে এটি তাকলীদের পরিপন্থী নয়।
মোটকথা, তাকলীদে দলীল-প্রমাণ অন্বেষণ অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে দলীল-প্রমাণ জানা এর পরিপন্থী নয়।

তাকলীদের প্রকারঃ

১. তাকলীদে গায়রে শখসী। অর্থাৎ নির্দিষ্ট কোন ইমামের তাকলীদ না করে যে মাসয়ালায় যে ইমামের তাকলীদ করতে মনে চায় সেটা করা।
২. তাকলীদে শখসী। অর্থাৎ, সবক্ষেত্রে নির্দিষ্ট যে কোন ইমামের তাকলীদ করা। তবে অন্যান্য ইমামকেও সে সম্মানিত ও শ্রদ্ধেয় মনে করবে, তাদের মতকেও সঠিক মনে করবে। কিন্তু বিবিধ দ্বীনী ফিতনা থেকে বেঁচে থাকার জন্য অনুসরণ শুধু একজনেরই করবে।
তাকলীদে শখসীর উপর সাহাবাদের ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যেমন, হযরত উমর (রা)-এর রায় অনুসারে তারাবি সালাত বিশ রাকাত হওয়ার উপর সকল সাহাবায়ে কেরাম একমত হয়েছেন।
মুকাল্লিদঃ যারা তাকলীদ করে তারা হলো মুকাল্লিদ।
* চতুর্থ (হিজরী) শতাব্দির পর চার মাযহাব ছাড়া অন্য কোনো মাযহাব অবশিষ্ট থাকেনি। তাই এ চার মাযহাবের যে কোনো একটির অনুসরণের মাধ্যমে শরীয়তের উপর আমল করতে হবে।
তথ্যসূত্রঃ
√ ইসলামী আকিদা ও ভ্রান্ত মতবাদ ।
√ মাযহাব কি ও কেন?
জ্ঞাতব্য : চতুর্থ (হিজরী) শতাব্দির উলামায়ে কেরাম চার ইমামের যেকোন এক জনের মাযহাব অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন। গায়রে মুজতাহিদ ব্যক্তিদের জন্য ‘তাকলিদ’ আবশ্যক হওয়ার উপর ইজমাও হয়েছে। যেমন, ইমাম ত্বহাবী (রহ) লিখেছেন :
* ﻭ ﻓﻲ ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻵﺛﺎﺭ ) ١٥٢- ٥٣( … ” ﻭﻫﺬﻩ ﺍﻟﻄﺎﺋﻔﺔ ﺍﻟﻨﺎﺟﻴﺔ ﻗﺪ ﺍﺟﺘﻤﻌﺖ ﺍﻟﻴﻮﻡ ﻓﻲ ﻣﺬﺍﻫﺐ ﺍﻻﺭﺑﻌﺔ ﻭ ﻫﻢ ﺍﻟﺤﻨﻔﻴﻮﻥ ﻭﺍﻟﻤﺎﻟﻜﻴﻮﻥ ﻭ ﺍﻟﺸﺎﻓﻌﻴﻮﻥ ﻭﺍﻟﺤﻨﺒﻠﻴﻮﻥ ﺭﺣﻤﻬﻢ ﺍﻟﻠﻪ ﻭ ﻣﻦ ﺧﺎﺭﺟﺎ ﻋﻦ ﻫﺬﻩ ﺍﻻﺭﺑﻌﺔ ﻓﻲ ﻫﺬﻩ ﺍﻟﺰﻣﺎﻥ ﻓﻬﻮ ﻣﻦ ﺍﻫﻞ ﺍﻟﺒﺪﻋﺔ ﻭﺍﻟﻨﺎﺭ
অর্থাৎ কিতাবুল আছার গ্রন্থে (১৫২-৫৩) লেখা আছে, এ মুক্তিপ্রাপ্ত দলটি বর্তমানে চার মাযহাবে মিশে গেছে। তাঁরা হানাফি, মালেকি, শাফেয়ী এবং হাম্বালী। বর্তমান কালে যারা এ চারটি মাযহাবের বাহিরে তারা বিদয়াতি এবং (বিপথগামী হিসেবে) জাহান্নামি।
সূত্র : শরহে মা’আনিল আছার- ১৫২-৫৩, আল-ইনসাফ-৫২, ৫৭-৫৯, মাদারে হক-৩৪১, ইন্তিসারুল হক ব-জওয়াবে মি’আরে হক্ব-১৫৩, আল-মুআফাকাত-৪/১৪৬, আল-মাজমূ শরহুল মুহাজ্জাব-১/৯১।

মাযহাবের সংখ্যা : সারা দুনিয়া জুড়ে প্রসিদ্ধ চার মাযহাবের অনুসারীদের সংখ্যাই বেশি। মাযহাবের মধ্যে প্রসিদ্ধ ও বিশুদ্ধ মাযহাব হলো চারটি।
১. ইমাম আবু হানিফা (রাহ.)-এর মাযহাব। (মৃত্যু ১৫০ হিজরী, বাগদাদ কারাগার)।
২. ইমাম মালিক (রাহ.)-এর মালেকী মাযহাব। (মৃত্যু ১৭৯ হিজরী, মদীনা) ।
৩. ইমাম শাফেয়ী (রাহ.)-এর শাফেয়ী মাযহাব। (মৃত্যু ২০৪ হিজরী, মিশর)।
৪. ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (রাহ.)-এর হাম্বলী মাযহাব। (মৃত্যু ২৪১ হিজরী, বাগদাদ)।
এ চার মাযহাবই উৎসারিত হয়েছে কোরআন-সুন্নাহ থেকে। কোরআন এবং হাদিসের মধ্যে যেসব মাসআলা-মাসায়িল সরাসরি উল্লেখ নেই সেগুলোকে মূল ঊসূলের (নীতিমালা) ওপর ভিত্তি করে কোরআন এবং সুন্নাহ থেকে চুলচেরা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করেছেন মাযহাবের মুজতাহিদ ইমামগণ।
দুটি প্রশ্নোত্তর
১- রাসূল (সা) এর যুগে কোনো মাযহাব ছিল কি?
২- সাহাবায়ে কেরামের যুগে কোনো মাযহাব ছিল কি?
সংক্ষিপ্ত জবাব: রাসূল (সা)-এর যুগে তো নির্দিষ্ট কোনো ধর্মীয় বিশেষজ্ঞের দরকারই ছিলনা। যেহেতু স্বয়ং রাসূল (সা) সাহাবীদের মাঝে জীবিত ও বিদ্যমান ছিলেন। কাজেই একজন সুপার সমাধানদাতা হিসেবে তিনি ছিলেন সর্বেসর্বা। তবে হ্যাঁ উনার পরবর্তী যুগে সাহাবায়ে কেরামদের অনেকে রেওয়ায়েত আর গবেষণালব্ধ রায়ের মাধ্যমে নানা যুগ-জিজ্ঞাসার সমাধান দিয়েছেন। তার বহু প্রমাণ রয়েছে।
* নববী যুগের পর শুরু হয় সাহাবীদের যুগ। সে যুগে যখনি কোনো কিছু জানার বা শিখার দরকার পড়ত, সমসাময়িক লোকজন (সাহাবী এবং তাবেয়ী) তাঁদের মধ্যকার বিজ্ঞ ও মুহাক্কিক বিদ্যানদের মতামতের শরণাপন্ন হতেন। অর্থাৎ যারা সর্বস্বাধারণ এবং অযোগ্য, তারা বিশিষ্ট ও যোগ্য বিদ্যানদের কাছ থেকে মতামত জেনে নিতেন এবং তদানুসারে আমল করতেন। তার একটি উদাহরণ হযরত আসওয়াদ বিন ইয়াযিদ (রহ) হতে সহিহ বুখারিতে ( হাদিস নং ৬৭৩৪) উল্লেখ রয়েছে। যথা-
* রাবি আসওয়াদ বিন ইয়াযিদ (রহ) বর্ণনা করেন যে, হযরত মু’আজ ইবনে জাবাল (রা) একজন গভর্নর হিসেবে ইয়ামানে আগমন করলে আমরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, জনৈক ব্যক্তি একজন কন্যা এবং একজন বোন জীবিত রেখে মারা গেছেন। এখন তাদের মাঝে সম্পদ বণ্টনের পদ্ধতি কিভাবে হবে? তদুত্তরে তিনি প্রত্যেকের অংশ অর্ধেক বলে সমাধান দেন।” (সূত্র—বুখারি শরিফ : ৮/৩৫১, হাদিস নং ৬৭৩৪)

নোট : উক্ত হাদিস হতে আমাদের শিক্ষা নেয়ার অনেক কিছুই রয়েছে। তন্মধ্যে একটি হল, উম্মতে মুহাম্মদীর ভেতর যারা কুরআন এবং সহিহ হাদিসের আলোকে কোনো বিষয়ে জ্ঞান আহরণ করার পূর্ণ যোগ্যতা রাখেনা, সে যে কোনো একজন বিশিষ্ট ও বিজ্ঞ আলেম থেকে মতামত নিয়ে আমল করতে পারবে। উল্লেখ্য, আরবী ভাষায় মাযহাব শব্দের এক অর্থ মতামত।

* অতএব যারা বলেন, রেওয়ায়েত সিদ্ধ আর তাকলীদ নিষিদ্ধ; তাদের কথা মানতে গেলে আমাদের অনেক কিছুই ছাড়তে হয়। বুখারীর উক্ত হাদিসটিও আমাদের ছাড়তে হচ্ছে। কেননা, সেখানে উক্ত ফতুয়া না রাসূল (সা) দিয়েছেন, না উক্ত সাহাবী থেকে ফতুয়ার স্বপক্ষে কোনো দলিল প্রমাণ চাওয়া হয়েছে। তো তাহলে প্রশ্নকারীগণ রেওয়ায়েতের উপর আমল করলেন, নাকি হযরত মু’আজ ইবনে জাবাল (রা)-এর রায়ের উপর আমল করলেন? জবাব দেবেন কি?
* অনুরূপ আমরা ইমামদের মুকাল্লিদগণও মুজতাহিদের আহরিত রায় (মাযহাব) অনুসরণের মাধ্যমে শরীয়তের উপর আমল করি। যারা এর বিরুধিতা করে বা বিভ্রান্তি ছড়ায়, তারাই প্রকৃতপক্ষে উম্মাহার মাঝে অনৈক্য সৃষ্টি কারী।

* আগেই উল্লেখ করেছি যে, যাদের কোরআন ও সুন্নাহ থেকে চিন্তা ও গবেষনার মাধ্যমে আহকাম ও বিধান আহরণের যোগ্যতা নেই, তাদের কাজ হল মুজতাহিদের আহরিত মতামত অনুসরণের মাধ্যমে শরীয়তের উপর আমল করা। এটাই হলো তাকলীদ।

* সুতরাং মুজতাহিদের আহরিত মতামত বা মাযহাব মানার প্রচলন আগেও ছিল, ভবিষ্যৎকালেও থাকবে।

☞ তবে হ্যাঁ, যে সব ভাগ্যবান বিজ্ঞজনের নিকট ইজতিহাদ করার যোগ্যতা রয়েছে তাদের জন্য অন্য কাহারো তাকলীদ করার কোনোই প্রয়োজন নেই। যেজন্য প্রসিদ্ধ চার মুজতাহিদ ইমামের কোনো মাযহাব ছিলনা। কারণ তাঁরা প্রত্যেকে ছিলেন সুযোগ্য। আশাকরি সবাই বুঝতে পেরেছেন।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিকভাবে বুঝার তৌফিক দান করুন। (আমীন)

পড়েছেনঃ 861 জন