Rahmania Madrasah Sirajganj

আহলে হাদিসদের সাথে কথিত উদারতা ও শেষ পরিণাম, -মুফতি লুৎফর রহমান ফরায়েযী দা. বা.

প্রথম যখন লা মাযহাবী ফিতনা বিষয়ে অনলাইন ও অফলাইনে কাজ শুরু করি তখন থেকেই গালিপ্রুফ হয়ে গেছি। যতই গালি দিক শরীরে মাখাই না। নিজের কাজের উপর অটল ছিলাম। কিন্তু কষ্ট পেতাম নিজেদের ঘরানার লোকদের ব্যবহারে। তারা যখন উপদেশের ঢালি নিয়ে হাজির হতেন। শুধু লা মাযহাবী, লা মাযহাবী করেন কেন? আর কোন সমস্যা নেই? শুধু এক ফিতনা নিয়ে পড়ে থাকলেই হবে? এভাবে ভ্রাতৃত্ব নষ্ট করার কী দরকার? আরো উদার হতে হবে। ইত্যাদি। ইত্যাদি।

আসলে এ কথিত উদারপন্থীরা লা মাযহাবী ফিতনার গভীরতা বুঝতে সক্ষম নয়। মূলত এ কারণেই এমন কথা বলেছেন ও বলছেন। কিংবা ওদের কাছে মানসিকভাবে বিক্রি হয়ে গেছেন। এছাড়া আর কোন কারণ আমার বুঝে আসে না। আমার মূল কথাটা বলার আগে একটি প্রাসঙ্গিক গল্প বলাটা জরুরী মনে করি। বেশ কয়েক বছর আগে ঢাকার মুহাম্মদপুর আদাবরে এক মাহফিলে গিয়েছিলাম। সেখানে লা মাযহাবী ফিতনা বিষয়ে আলোচনা করতে হল। তখন এলাকার উলামাগণ জানালেন যে, পাশে এক মসজিদে মরহুম আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর সাহেব আসেন। প্রতি মাসেই তিনি এখানে মাসিক প্রোগ্রাম করেন। সেই মসজিদের ইমাম সাহেব উদারপন্থী। তিনি কঠোরভাবে লা মাযহাবীদের বিরোধীতা করা পছন্দ করেন না। তিনি অসম্ভব জনপ্রিয় একজন ইমাম। তার আগের মসজিদের কমিটির সাথে দ্বন্দ্ব হলে যুবক মুসল্লিরা তার জন্য নতুন জায়গা ক্রয় করে একটা মসজিদ বানিয়েছেন। সেই মসজিদ উদ্ভোধন করেন ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর সাহেবকে দিয়ে। তারপর থেকে প্রতি মাসেই আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর সাহেব আসেন। তার মৃত্যুর পর তার ছেলে হানজালা আসেন। উদারপন্থী আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর সাহেবের বক্তৃতার ফলাফল কয়েক বছরে পরিস্কার হয়ে গেল।

যে যুবকগুলো ইমাম সাহেবকে মোহাব্বত করে নতুন জায়গা ক্রয় করে মসজিদ নির্মাণ করে দিল। তারা অনেকেই লা মাযহাবী হয়ে গেল। মসজিদে তাবলীগ জামাত ও চরমোনাইয়ের হালকায়ে জিকির বন্ধ করে দেয়া হল। ফলে ইমাম সাহেবের সাথে তাদের দূরত্ব শুরু হল। দূরত্বটা এতো বেশিই হল যে, ইমাম সাহেবকে বাদ দিতে তৎপরতা শুরু করল সেই যুবকগুলো। যাইহোক, সেই বিবাদ অবশেষে বাহাস পর্যন্ত গড়ায়। আমি গিয়েছিলাম তখন। বাহাস হয়নি। তারা তাদের কোন শায়েখকে উপস্থিত করতে পারেনি বলে। কিন্তু আল্লাহর রহমাতে সেই মসজিদে তাবলীগ জামাতের কার্যক্রম ও চরমোনাইয়ের হালকা আবার চালু হয়েছিল। কি শিখলেন উক্ত ঘটনা থেকে?আজকে যারা উদারতার সবক শুনাচ্ছেন? তাদের বিনয়ের সাথে বলি, আপনারা বাহ্যিক অবস্থা দেখে সুফী সাজছেন। কিন্তু পরিণাম কখনোই চিন্তা করছেন না। দূরদর্শী হতে পারছেন না। অনেকেই বলে যে, তিনি লা মাযহাবী ঠিক। কিন্তু উদারপন্থী। আবার শোনা যায় যে, উনি আমাদের লোক। কিন্তু উদারপন্থী।

আমি বলি: উদারপন্থী লা মাযহাবী শায়েখ একজন কট্টরপন্থী লা মাযহাবীর চেয়ে বেশি ভয়ংকর। কারণ, কট্টরপন্থী লা মাযহাবীদের বক্তব্য আমাদের ঘরানার লোকেরা শুনে না। কিন্তু উদারপন্থী হলে তার কথা শুনতে শুরু করে। আমরাই তাকে প্রমোট করি। তারপর ফলাফল কী দাঁড়ায়। তা আশা করি আদাবরের ঘটনার দ্বারাই পরিস্কার। আরো সবচে’ বড় যে বিষয় বুঝে আসে। সেটা হল, লা মাযহাবীরা এ দেশে মজবুত হলে উদারপন্থী ইমাম সাহেবদের ইমামতী কিন্তু আর থাকবে না। নিরব থাকা মুহতামিমের এহতেমামীও কিন্তু থাকবে না। পীর সাহেবদের মুরিদীন কিন্তু থাকবে না।সৌদীতে তাবলীগ জামাত নিষিদ্ধ করা মানে শুধু তাবলীগ নিষিদ্ধ নয়। বরং এটা উলামায়ে দেওবন্দের উপর আঘাত। কারণ, তাবলীগ জামাতের প্রচলিত সুবিন্যস্ত পদ্ধতিটি যেমন উলামায়ে দেওবন্দের প্রতিষ্ঠিত এবং এর মূল পৃষ্টপোষকও উলামায়ে দেওবন্দ।তাদের ক্ষমতা থাকলে তারা কী কী করতে পারে? তা এ থেকে সহজেই অনুমেয়।সুতরাং উদারতার নামে জাতিকে কোন দিকে ঠেলে দিচ্ছেন তা দূরদর্শী দৃষ্টি নিয়ে আরো ভাবার অনুরোধ করছি।

পড়েছেনঃ 130 জন