আরবী তারিখঃ এখন ১৬ শাবান ১৪৪৫ হিজরি মুতাবিক ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, রোজ সোমবার, সময় রাত ১০:৩০ মিনিট
এলানঃ-
১৪৪৫-১৪৪৬ হিজরী, ২০২৪-২০২৫ ইং এর মাসিক সুন্নতী ইজতেমা সমূহ
* ২৫ এপ্রিল ২৪ ইং বৃহস্পতিবার মাগরিব-ইশা মাদরাসার সকলের জন্য
* ৩০-৩১ মে ২৪ ইং বৃহস্পতিবার ফজর-শুক্রবার মাগরিব পর্যন্ত সালেকীনদের জন্য
* ২৭ জুন ২৪ ইং বৃহস্পতিবার মাগরিব-ইশা মাদরাসার সকলের জন্য
* ২৫-২৬ জুলাই ২৪ ইং বৃহস্পতিবার ফজর-শুক্রবার মাগরিব পর্যন্ত সালেকীনদের জন্য
* ২৯ আগষ্ট ২৪ ইং বৃহস্পতিবার মাগরিব-ইশা মাদরাসার সকলের জন্য
* ২৬-২৭ সেপ্টেম্বর ২৪ ইং বৃহস্পতিবার ফজর-শুক্রবার মাগরিব পর্যন্ত সালেকীনদের জন্য
* ২৪ অক্টোবর ২৪ ইং বৃহস্পতিবার মাগরিব-ইশা মাদরাসার সকলের জন্য
* ২৮-২৯ নভেম্বর ২৪ ইং বৃহস্পতিবার ফজর-শুক্রবার মাগরিব পর্যন্ত সালেকীনদের জন্য
* ২৬ ডিসেম্বর ২৪ ইং বৃহস্পতিবার মাগরিব-ইশা মাদরাসার সকলের জন্য
* ৩০-৩১ জানুয়ারী ২৫ ইং বৃহস্পতিবার ফজর-শুক্রবার মাগরিব পর্যন্ত সালেকীনদের জন্য
* ২৭ ফেব্রুয়ারী ২৫ ইং বৃহস্পতিবার মাগরিব-ইশা মাদরাসার সকলের জন্য
* মার্চ ২৫ ইং এজতেমা সালেকীনদের জন্য

আসরেরর নামাজ থেকে ঘুমানো পর্যন্ত মামুলাতে রহমানিয়া মাদরাসা

  • আসরের নামাজ পর্যন্ত যথারীতি লেখাপড়া চলতে থাকে, নামাজ শুরু হওয়ার আধা ঘন্টা পূর্বে মুআজ্জিন সাহেব আযান দিলে অবশ্যই নামাজের ২০ মিনিট পূর্বে সকল প্রয়োজন শেষ করে সকলেরই মসজিদে আসরের নামাযের উদ্দেশ্যে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক।
  • মসজিদে উপস্থিত হয়ে প্রথমে আসরের ৪ রাকাত সুন্নত/নফল নামাজ এবং বাকি সময় পবিত্র কালামে পাকের তিলাওয়াত এবং ইকামতের ৫ মিনিট পূর্বে ইনফেরাদী ভাবে খাস দুআর ইহতেমাম করা হয়।
  • এরপর ইকামত হয়, সঠিক সময়ে আসরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়, ইমাম সাহেব আওসাতে মুফাসসাল এর ক্বিরাআতের মাধ্যমে আসরের নামাজ আদায় করান।
  • নামাজের পর তাসবীহে ফাতেমী পড়ে একজন ছাত্র পবিত্র কুরআনে কারীম তিলাওয়াতের আদব ও উপকারিতা শুনিয়ে পবিত্র কুরআনুল কারীম থেকে তিলাওয়াত করেন।
  • এরপর বিশেষ তিনটি সুন্নত, মসজিদে প্রবেশ ও বের হওয়ার সুন্নত সমূহ, সুবহে সাদিকের সময় এবং মাগরিবের পূর্বে সঠিক সময়ে উপস্থিত হওয়ার নির্ধারিত সময় শোনানো হয় হয়।
  • আসরের পরের এ মামুলাতেও মাদরাসার সকল ত্বলাবা-আসাতিযাদের অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক, কোন কারণ ছাড়াই কোন উস্তাদ বা ছাত্র উপরক্ত যেকোন আমলে অংশগ্রহণ না করলে শাস্তিস্বরূপ কখনো কখনো বহিষ্কারের সিদ্ধান্তও গ্রহণ করা হয়।

কুরআনে কারিম তিলাওয়াতের বিশেষ ৩টি উপকার

  • ১. দিলের ময়লা দূর হয়।
  • ২. আল্লাহ তাআলার ভালোবাসা বৃদ্ধি পায় ও নৈকট্য লাভ হয়।
  • ৩. প্রতিটি হরফে কমপক্ষে ১০টি করে নেকি পাওয়া যায়, বুঝে পড়লেও পাওয়া যায়, না বুঝে পড়লেও পাওয়া যায়। যদি কেহ বলে না বুঝে পড়লে কোন লাভ নেই, তাহলে তার কথা সঠিক নয় এবং সে বদ-দ্বীন, জাহিল অথবা উভয়টি।

কুরআনে কারিম তিলাওয়াতের বিশেষ ২টি আদব

  • ১. তিলাওয়াতকারী মনে মনে এই খিয়াল করবে যে, মহান রাব্বুল আলামিন হুকুম করেছেন, শোনাও দেখি আমার কালামে পাক কে কত শুদ্ধ ও সুন্দর করে তিলাওয়াত করতে পারো।
  • ২. শ্রবণকারী মনে মনে এই খেয়াল করবে যে, আহকামুল হাকিমিন ও মুহসেনে আযমের কালামে পাক তিলাওয়াত করা হচ্ছে, তাই অত্যন্ত মনোযোগের সহিত মুহাব্বত ও আযমতের সাথে শ্রবণ করি।

তিলাওয়াত……

মসজিদে প্রবেশের সুন্নত ৫ টি

  • ১. প্রথমে ডান পা মসজিদে রাখা।
  • ২. بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ পড়া।
  • ৩. দরুদ শরীফ পড়া।
  • ৪. اَللّٰهُمَّ افْتَحْ لِيْ اَبْوَابَ رَحْمَتِكَ দুআটি পড়া।
  • ৫. ই’তিকাফের নিয়ত করা, نَوَيْتُ سُنَّةَ الْاِعْتِكَافِ لِلّٰهِ تَعَالٰى مَا دُمْتُ فِيْ هٰذَا الْمَسْجِدِ ।
  • এই দুঅগুলোকে একত্রে এই ভাবে পড়া যায়ঃ
  • بِسْمِ اللّٰهِ وَ الصَّلَاةُ وَ السَّلَامُ عَلٰى رَسُوْلِ اللّٰهِ، اَللّٰهُمَّ افْتَحْ لِيْ اَبْوَابَ رَحْمَتِكَ، نَوَيْتُ سُنَّةَ الْاِعْتِكَافِ لِلّٰهِ تَعَالٰى مَا دُمْتُ فِيْ هٰذَا الْمَسْجِدِ

মসজিদ থেকে বাহির হওয়ার সুন্নত ৫ টি

  • ১. بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ পড়া।
  • ২. দরুদ শরীফ পড়া।
  • ৩. اَللّٰهُمَّ اِنِّيْ اَسْاَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ দুআটি পড়া।
  • ৪. বাম পা দিয়ে বাহির হওয়া।
  • ৫. ডান পায়ে আগে জুতা পরিধান করা, তারপর বাম পায়ে পরিধান করা। এই দুঅগুলোকে একত্রে এই ভাবে পড়া যায়ঃ
  • بِسْمِ اللّٰهِ وَ الصَّلَاةُ وَ السَّلَامُ عَلٰى رَسُوْلِ اللّٰهِ، اَللّٰهُمَّ اِنِّيْ اَسْاَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ

বিশেষ ৩টি সুন্নত

  • হযরাত উলামায়ে কিরামগন নিজ নিজ অভিজ্ঞতার আলোকে এই কথা বলেন যে, বিশেষ তিনটি সুন্নত রয়েছে, যে সুন্নতগুলোর উপর যথাযথ ভাবে আমল করিয়া চলিতে পারিলে অন্যন্য সকল সুন্নতের উপর আমাল করা অতি সহজ হয়ে যায়। সুন্নত তিনটি হলোঃ
  • ১. সহিহ-সুদ্ধ ভাবে বেশি বেশি সালামের প্রচার ও প্রসার করা, বিশেষভাবে হামজার যবরকে তাহকিকের সাথে আদায় করা ও মিমের পেশকে পরিস্কার করে মারুফ করে পড়া।
  • ২. প্রত্যেক ভাল কাজ ও ভালস্থানে ডানকে প্রাধান্য দেয়া, প্রত্যেক নিম্নমানের কাজ ও নিম্নমানের স্থানে বামকে প্রাধান্য দেয়া।
  • ৩. বেশি বেশি যিকর করা, যেমনঃ উপরে উঠতে اَللّٰهُ اَكْبَرُ (আল্লাহু আকবার) পড়া, নিচে নামতে سُبْحَانَ اللّٰهِ (সুবহানাল্লাহ) পড়া, সমতল ভূমিতে চলতে لَا اِلٰهَ اِلَّا اللّٰهُ (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) বা অন্য কোন মাসনুন দুআ পড়তে থাকা।

আজ মাগরিবের আযান হবে সন্ধ্যা …… বেজে …… মিনিটে, এর ১৫ মিনিট পূর্বে মসজিদে কিতাবের তালিম হবে, তাই আমরা সকলেই সঠিক সময় উপস্থিত হওয়ার চেষ্টা করি, এবং আগামীকাল সুবহে সাদিক হবে ভোর … বেজে … মিনিটে ইনশাআল্লাহ।

  • তিলাওয়াত শেষে মাদরাসার সার্বিক বিষয়কে সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ দুআ অনুষ্ঠিত হয়, দুআ শেষে প্রাতিষ্ঠানিক কোন বিষয়ে ঘোষণা না হলে সকলেই নিজ নিজ কামরায় চলে যান।

১৫ মিনিট মজলিসে তরবিয়ত

  • মাগরিবের নামাজের ১৫ মিনিট পূর্বে সকল ছাত্র-উস্তাদের মাদরাসার মসজিদে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক, নামাজের আগে এ ১৫ মিনিটের প্রথম ১৩ মিনিট আকাবিরদের মালফুজাত থেকে তালিম করা হয়, বাকি ২ মিনিট দুআ হয়।
  • শনিবারঃ মালফুযাতে হাকিমুল উম্মত/মাজালিসে আবরার থেকে তালিম করা হয়।
  • রবিবারঃ আপ বীতী/ফাজায়েলে আমাল থেকে তালিম করা হয়।
  • সোমবারঃ আদাবুল মুআশারাত/তাযকিরাতুর রশীদ থেকে তালিম করা হয়।
  • মঙ্গলবারঃ আগলাতুল আওয়াম/কসদুস সাবিল থেকে তালিম করা হয়।
  • বুধবারঃ মালফুযাত বা ইরশাদাতে ফকিহুল মিল্লাত/ইরশাদাতে মুরশিদুস সুন্নাহ থেকে তালিম করা হয়।
  • বৃহস্পতিবারঃ মামুলাতে মাসুরাহ/মামুলাতে মাদরাসাহ থেকে তালিম করা হয়।
  • প্রতিদিন একজন উস্তাদ তালিমের জিম্মাদারী পালন করেন, সঠিক সময়ে আজান হয় এরপর ইকামত হয়, আযানের পর দ্রুত মাগরিবের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
  • ইমাম সাহেব কিসারে মুফাসসাল এর ক্বিরাআতের মাধ্যমে মাগরিবের নামাজ আদায় করান, নামাজের পর আওয়াবীনের নামাজ ও সূরা ওয়াকিয়ার তিলাওয়াত শেষে সকল ত্বলাবা-আসাতিযাগন নিজ নিজ দরসগাহে চলে যান এবং তাকরার ও মুতালাআয় ব্যস্ত হয়ে পরেন।
  • এভাবে ইশার নামাজ পর্যন্ত চলতে থাকে। ইশার নামাজ শুরু হওয়ার আধা ঘন্টা পূর্বে মুআজ্জিন সাহেব আযান দিলে অবশ্যই নামাজের ২০ মিনিট পূর্বে সকল প্রয়োজন শেষ করে সকলেরই মসজিদে ইশার নামাযের উদ্দেশ্যে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক।
  • মসজিদে উপস্থিত হয়ে প্রথমে আসরের ৪ রাকাত সুন্নত/নফল নামাজ এবং বাকি সময় পবিত্র কালামে পাকের তিলাওয়াত এবং ইকামতের ৫ মিনিট পূর্বে ইনফেরাদী ভাবে খাস দুআর ইহতেমাম করা হয়।
  • এরপর ইকামত হয়, সঠিক সময়ে ইশার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়, ইমাম সাহেব আওসাতে মুফাসসাল এর ক্বিরাআতের মাধ্যমে ইশার নামাজ আদায় করান।
  • নামাজের পর সুন্নত নামাজ আদায় করার পর বিতরের নামাজের পূর্বে ৪ রাকাআত নফল নামাজে একই সাথে সালাতুশ শুকর, সালাতুত তওবাহ, সালাতুল হাজাত ও সালাতুত তাহাজ্জুদের নিয়তে আদায় করা সকলের জন্য বাধ্যতামূলক।
  • নফল ও বিতরের নামায আদায় শেষে প্রতিদিন নির্ধারিত একজন ত্বালিবে ইলম আরবি ইবারতসহ একটি পূর্ণাঙ্গ হাদিস শরীফ সকলের উদ্দেশ্যে পাঠ করে শোনান, সাধারণত পরিস্থিতির বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট হাদিস পড়ে শোনানো হয়।
  • এরপর মাদরাসা-দোস্ত আহবাবদের বিভিন্ন প্রয়োজন সমূহ পূরনে “হাসবুনাল্লাহ” এর গুরুত্বপূর্ণ আমল অনুষ্ঠিত হয়।
  • তারপর মাদরাসার সমস্ত হাজতকে সামনে রেখে সম্মিলিত দুআ পরিবেশন হয়।
  • দুআ শেষে সকল ত্বলাবা-আসাতিযাগন নিজ নিজ কামরায় চলে যান।
  • সকলেই মাতবাখ থেকে রাতের খানা গ্রহণ করে খানা খেয়ে মুতালাআর প্রয়োজন হলে নিজ নিজ দরসগাহে চলে যান, বা দ্রুত ঘুমানোর আমল শুরু হয়ে যায়।
  • মুতালাআ, বৈধ কোন মামুলাত বা ঘুম ব্যতিরেকে এ সময় অন্যান্য সকল কাজ নিষিদ্ধ। এভাবে সুবহে সাদিকের ৪৫ মিনিট পূর্ব পর্যন্ত ঘুমানোর আমল চলতে থাকে।

বিস্তারিত জানতে আমাদের “মামুলাতে মাদরাসা” কিতাবটি পড়ুন