আমাদের এলাকার একজন প্রবীণ আলেমে দ্বীন, দারুল উলুম দেওবন্দের সন্তান। একদিন তাঁর সাথে কোন একটা বিষয়ে মুযাকারা করতে গিয়ে রু’ব رعب (ভয়, গাম্ভীর্যতা) এর আলোচনা উঠে আসলো।
তিনি আমার দিকে চেয়ে বললেনঃ -মাওলানা, কাঁধে রুমাল দিয়ে আর নাকটা ফুলিয়ে হাঁটার নাম রু’ব না। হুযুর আবার রেগে গিয়ে ধমক দেয় কিনা এই ভয়ে কেউ সামনে আসবে না, এটাকে রু’ব মনে করা মাতালের প্রলাপ বকার মতো।
অথচ আমি আমার দেওবন্দের আসাতেজাকে দেখেছি, তারা মুচকি হাসি দিয়ে কথা বলতেন। এমন ভাব নিয়ে থাকতেন না, যে মানুষ তাদের সামনে আসতেই আন ইজি ফিল করতো।
দুজন আওলাদে রাসূলের কথা বলি। একজন সাইয়্যেদ আব্দুল মাজিদ নাদীম রাহিমাহুল্লাহ, আরেকজন সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানী হাফিজাহুল্লাহ। দু’জনই প্রসিদ্ধ অনেক বড় বুযুর্গ আলেম। বসুন্ধরা মাদরাসায় পড়ার উসিলায়, বিশেষ করে আমার মাখদুম ও উস্তায মুফতি আব্দুর রহমান রাহিমাহুল্লাহর খেদমতে থাকার বদৌলতে তাদের খেদমত করার সুযোগ পেয়েছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ।
এই দুই চোখে দেখেছি, দূর থেকে তাদের গাম্ভীর্য্যতার কারণে মানুষ কাছে যেতে ভয় করতো বা করে। কিন্তু তাদের কাছে গেলে সব সময় হাসি মুখে কথা বলতেন। রু’ব তাদের মাঝেও ছিল বা আছে। কিন্তু তারা ওরকম নাক ফুলিয়ে হাঁটেন না। এটাই আমার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ। অথচ, বাংলাদেশী হাযরাতগণের সামনে যেতেও এস্তেখারা করা লাগে।
.
আসুন, সুন্নাহভিত্তিক জীবন গড়ি। প্রিয় রাসূল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রিয় বনে যাই।